English Version   

দুই বলয়ের দাপটে এগোতে পারছে না ঢাকা মহানগর বিএনপি

জানুয়ারি ৯, ২০১৭ ৯:৩৮ অপরাহ্ণ

 

শীর্ষ খবর:

বিশেষ প্রতিনিধি : ঢাকা মহানগর বিএনপি সাংগঠনিকভাবে এখনো দুই ভাগে বিভক্ত না হলেও মহানগর বিএনপিতে দীর্ঘ দিন ধরেই বিরাজ করছে দুইটি বলয়। মহানগরের দুই প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকাকে ঘিরে এ বলয় তৈরি হয়েছে। থানা থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত সব স্তরের নেতাকর্মীরা হয় খোকার সমর্থক নতুবা আব্বাসের। দলের নেতারা বলছেন, এ দ্বিমুখী বলয়ের কারণেও দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আন্দোলনে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির এক নেতা নয়া দিগন্তকে বলেন, বড় দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঢাকা মহানগরে এ দ্বিমুখী বলয়ের কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যখনই কেন্দ্র বা দায়িত্বশীল নেতারা মহানগরের কোনো কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়, তখনই এ দুই বলয়ের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এতে করে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করা মুশকিল হয়ে পড়ে। শুধু তা-ই নয়, যদি দেখা যায়, কোনো কমিটিতে একটি গ্র“পের নেতারা প্রাধান্য পেয়েছেন, তাহলে সে কমিটিকে ব্যর্থ করতে অন্য গ্র“প মাঠে নেমে পড়ে। অথবা তাদের কোনো সহযোগিতা করে না অন্য গ্র“প।
প্রতিযোগিতার এ দৌড়ে বরাবরই এগিয়ে আছেন খোকার সমর্থকেরা। কারণ দীর্ঘসময় মহানগর বিএনপির দায়িত্বে ছিলেন ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। মীর শওকত আলী ও সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন কমিটির পরে ’৯৬ সালের দিকে মহানগরের দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর একাধারে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মহানগরের কর্তৃত্ব ছিল তার হাতে। দীর্ঘ সময় ধরে একই দায়িত্বে থাকা এবং এই সময়ের মধ্যে ঢাকার মেয়র থাকার কারণে মহানগরীর বেশির ভাগ থানা ও ওয়ার্ডে তার বিপুল সমর্থক তৈরি হয়। যাদের অনেকে কাউন্সিলর হয়ে পরে বিভিন্ন কমিটিতে জায়গা করে নেন।
মহানগরীর সাবেক এক কাউন্সিলর  বলেন, মহানগরের ৭০ ভাগ নেতাই খোকার সমর্থক। বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক খোকা নিউ ইয়র্কে চিকিৎসাধীন। কিন্তু তারপরেও মহানগর নেতাদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে তার।
অন্য দিকে মহানগরীর বর্তমান আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসেরও রয়েছে রাজধানীকেন্দ্রিক দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। একাধারে ঢাকার সাবেক কমিশনার, সাবেক মেয়র, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ফলে তাকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে বিশাল একটি সমর্থক শ্রেণী। আব্বাসের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, সমর্থকরা নগরীতে প্রভাব বিস্তার করতে চাইলেও এ ধরনের রাজনীতিতে মির্জা আব্বাসের তেমন একটা আগ্রহ নেই। তিনি নির্বাচনী এলাকার বাইরে তেমন একটা মাথা ঘামান না।
দলের সিনিয়র নেতারা বলছেন, একতরফা কমিটি না করে খোকা ও আব্বাস বলয়ের নেতাদের সমন্বয় করে কমিটি দিলে মহানগরের সাংগঠনিক ভিত আরো শক্তিশালী হবে।
ভঙ্গুর দশা সব ইউনিটের, যুগ পেরোলেও নতুন কমিটি নেই
মহানগরীর ৪৯টি থানার মধ্যে প্রায় অর্ধেক থানায় হালনাগাদ কোনো কমিটি নেই। পুরনো কমিটি বহাল রেখেই কোনো রকমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কার্যক্রম। এমন অনেক থানা ও ওয়ার্ড আছে যেখানে ১৫-২০ বছরের আগের কমিটি দিয়েই চলছে কার্যক্রম।
মো: ইউনুছ মৃধাকে সভাপতি এবং অ্যাডভোকেট মো: ফারুক উল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে খিলগাঁও থানা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয় ১৯৯৯ সালে। সবুজবাগ থানার কমিটি গঠন করা হয় ১৯৯৯ সালে। মো: শামসুল হুদা ওই কমিটির আহ্বায়ক। এরপর থানাটি ভেঙে মুগদা নামে আরেকটি নতুন থানা গঠিত হয়। মুগদা থানায় কোনো কমিটি নেই। ১৯৯৭ সালে মতিঝিল থানার কমিটি গঠন করা হয়। সাবেক কমিশনার সাজ্জাদ জহির ওই কমিটির আহ্বায়ক। পুরাতন কমিটি বহাল থাকলেও কোনো কার্যক্রম নেই। এ থানাটি ভেঙে শাহজাহানপুর নামে আরেকটি নতুন থানা গঠন করা হয়। শাহজাহানপুর থানায় বিএনপির কোনো কমিটি নেই। আজিজুল্লাহ আজিজকে আহ্বায়ক ও মোশাররফ হোসেন খোকনকে সদস্যসচিব করে লালবাগ থানা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয় ২০০২ সালে। পুরনো ওই কমিটি এখনো বহাল। এরপর লালবাগ থানা ভেঙে লালবাগ ও চকবাজার করা হয়। কোতোয়ালি থানা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয় ১৯৯৭ সালে। হাজী হোসেন মোল্লা ওই কমিটির আহ্বায়ক এবং সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ মোহন সদস্যসচিব। পুরনো ওই কমিটি এখনো বহাল। বৃহত্তর কোতোয়ালি থানা ভেঙে কোতোয়ালি ও বংশাল থানায় রূপান্তর করা হয়। বংশাল থানায় বিএনপির কোনো কমিটি নেই। ওয়ারী থানায়ও কোনো কমিটি নেই।
২০০৬ সালে সাবেক কমিশনার নবীউল্লাহ নবী সভাপতি এবং সাবেক কমিশনার আতিকুল্লা আতিককে সাধারণ সম্পাদক করে ডেমরা থানা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। বৃহত্তর ডেমরা থানার পুরনো ওই কমিটি এখনো বহাল আছে। সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের নেতাকর্মীরাও দায়িত্ব পালন করছেন এখানে। ২০১২ সালে ডেমরা থানা ভেঙে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও কদমতলী থানায় রূপান্তর করা হয়। যাত্রাবাড়ী থানায় বিএনপির কোনো কমিটি এখনো নেই। ২০০০ সালে কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপির কমিটি করা হয় হাজী মনির হোসেন চেয়ারম্যানকে সভাপতি এবং হাজী মো: রফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে। পুরনো ওই থানার কমিটি এখনো বহাল থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বিমানবন্দর থানায় বিএনপির কোনো কমিটি নেই। ২০০৪ সালে ক্যান্টনমেন্ট থানা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয় আফজাল হোসেন প্রধানকে সভাপতি এবং প্রিন্সিপাল লিয়াকত হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে। কমিটি এখনো বহাল আছে। সাবেক কাউন্সিলর এম এ কাইয়ুমকে সভাপতি ও এ জি এম শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে বাড্ডা থানা কমিটি গঠন করা হয় ২০০১ সালে। ২০০১ সালে সাবেক কমিশনার আব্দুল আলিম নকিকে সাধারণ সম্পাদক করে গুলশান থানা কমিটি করা হয়। বনানী থানায় বিএনপির কোনো কমিটি নাই। জালাল আহমেদকে সভাপতি ও আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারকে সাধারণ সম্পাদক করে তেজগাঁও থানা কমিটি করা হয় ১৯৯৮ সালে। বৃহত্তর তেজগাঁও থানা ভেঙে তেজগাঁও, শিল্পাঞ্চল ও শেরেবাংলা নগর নামে তিনটি থানায় রূপান্তর করা হয়। শিল্পাঞ্চল থানা ও শেরেবাংলা নগর থানায় বিএনপির কোনো কমিটি নেই।
২০০৫ সালে মিরপুর থানার কমিটি গঠন করা হয়। সৈয়দ বদরুল আলম বাবুল ওই কমিটির সভাপতি ও মোশাররফ হোসেন মসু সাধারণ সম্পাদক। ২০১২ সালে বৃহত্তর মিরপুর ভেঙে মিরপুর, শাহআলী ও দারুস সালাম নামে তিনটি থানায় রূপান্তর করা হয়। শাহ আলী ও দারুস সালাম থানায় বিএনপির কমিটি নেই।
২০০৫ সালে এখলাস উদ্দিন মোল্লাকে সভাপতি ও আহসান উল্ল্যাহ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে পল্লবী থানা কমিটি গঠন করা হয়। এরপর এখলাস উদ্দিন মোল্লা আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। কিন্তু পুরনো কমিটি বহাল আছে। রূপনগর থানায় কোনো কমিটি নেই।
১৯৯৮ সালে মোহাম্মদপুর থানা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আফজালুল হক ওই কমিটির আহ্বায়ক এবং সাবেক কাউন্সিলর আতিকুল ইসলাম মতিন, সাবেক কাউন্সিলর কে এম আহম্মেদ রাজু ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক। ২০১২ সালে সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল লতিফকে প্রধান সমন্বয়কারী এবং সাবেক কমিশনার আতিকুল ইসলাম মতিনকে সহকারী সমন্বয়কারী করে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ থানায় পুরোদস্তুর কোনো কমিটি হয়নি।
২০১৪ সালের ১৮ জুলাই মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার পর ঢাকা মহনগরীকে ৯টি অঞ্চলে ভাগ করে কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হয় কমিটি গঠন করার। বৃহত্তর উত্তরার ছয়টি থানার দায়িত্ব পান স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু দায়িত্ব পান বৃহত্তর তেজগাঁও থানা এলাকার। বৃহত্তর মিরপুর এলাকা, কাফরুল, বংশাল, লালবাগ, চকবাজার, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ এলাকার দায়িত্ব পান কেন্দ্রীয় নেতা বরকত উল্লাহ বুলু ও কাজী আবুল বাশার। খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা, শাহবাগ, রমনা, পল্টন, মতিঝিল ও শাহজাহানপুর থানার দায়িত্ব পান এম এ কাইয়ুম ও ইউনুছ মৃধা। রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা থানার দায়িত্ব পান হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। গুলশান, বনানী, ভাসানটেক থানার দায়িত্ব পান এস এম জিলানী। ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানার দায়িত্ব পান সালাহউদ্দিন আহমেদ ও আবু সাঈদ খান খোকন। শ্যামপুর, ডেমরা, কদমতলী, যাত্রাবাড়ী থানার দায়িত্ব পান আমানউল্লাহ আমান। সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, কোতোয়ালি থানার দায়িত্ব পান সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও কাজী আবুল বাশার।
জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব নেতা কমিটি গঠন করার কাজে বেশ জোরেশোরেই হাত দিয়েছিলেন কিন্তু আন্দোলন কর্মসূচির পাশাপাশি নানামুখী গ্রুপিংয়ে তা খুব একটা এগোয়নি। কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি সভায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি থানায় প্রস্তাবিত কমিটি গঠন করা হলেও তা অনুমোদিত হয়নি। ২০১২ ও ১৩ সালে সাদেক হোসেন খোকা ও আব্দুস সালাম ২৫টি থানায় দুই-তিন সদস্যের কমিটি করে দিলেও সেই কমিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি।
বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, কমিটি গঠনে সাবেক কাউন্সিলরদের আধিপত্য কমাতে হবে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট থানায় যিনি নির্বাচন করেছেন, তাকেও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখতে হবে। কারণ সাবেক কাউন্সিলর ও সাবেক এমপিদের গ্রুপিংয়ের কারণে নতুনদের সামনে এনে কমিটি গঠনের কাজ দুরূহ হয়ে পড়ে।

Print Friendly
 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1822 বার
 
 
শীর্ষ খবর/আ আ

 
 
 

ফেইসবুক লাইকবক্স

 
 
 
 
 
 
  • প্রতিশোধ

    বদরুন নাহার পলী: সালিশ – রশীদ কি হইছে…... ২০.০১.২০১৭, ২:০১:৩৩

 
  • ঝকঝকে চামচ…

    চামচ তো নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রয়োজনের খাতিরে তো বটেই, শৌখিনতার প্রকাশেও কখনো কখনো ব্যবহৃত হয় এটি। নানান উপাদানের তৈরি চামচ আমরা ব্যবহার করছি…... ২২.০১.২০১৭, ৩:০৫:৫৭

 
 
 
 
 

ক্যালেন্ডার

 
 
 

জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:


কপিরাইট ©২০১০-২০১৬ সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত শীর্ষ খবর ডটকম

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ডাঃ আব্দুল আজিজ
সম্পাদক তোফায়েল আহমদ খান সায়েক

ফোন নাম্বার: +447536574441
ই-মেইল: info.skhobor@gmail.com
ই-মেইল: info@sylheteralap.com