English Version   
আজ সোমবার,২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৮ হিজরী

বিএনপির পুনর্গঠনে স্থবিরতা!

জানুয়ারি ১১, ২০১৭ ২:৩০ পূর্বাহ্ণ

 

শীর্ষ খবর:

ঢাকা: ক্ষমতাশীন দলের চাপে সভা-সমাবেশ না করতে পারায় বিএনপির পুনর্গঠনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। নানান প্রতিকূলতা উপেক্ষায় দলের ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করতে সক্ষম হলেও কিছুতেই শেষ হচ্ছে না তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার কার্যক্রম। কেন্দ্র থেকে একাধিক বার নির্দিষ্ট ছকে সময় বেধে দেয়ার পরও থমকে আছে এ পুনর্গঠন।

বিএনপির দাবি, তৃণমূলে দলের পুনর্গঠন চলছে। নীরবে হচ্ছে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, জেলা-মহানগর ও উপজেলা কমিটির পুনর্গঠন। সেক্ষেত্রে বিএনপিকে পদে পদে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সম্মেলন করতে পাওয়া যাচ্ছে না প্রশাসনের অনুমতি। ফলে বেঁধে দেয়া নির্ধারিত ২০১৬ সালের (নভেম্বর-ডিসেম্বর) শেষ হলেও শেষ করা যাচ্ছে না দলটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলকে গতিশীল করা এবং আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে আরও বেশি সক্রিয় করতে আবদারে কর্ণপাত না করে তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া। কিন্তু দলটির কেন্দ্রীয়, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এবং সাবেক সাংসদদের নেতিবাচক ভূমিকায় পুনর্গঠন নির্দিষ্ট সময়ে সম্ভব হচ্ছে না। বেশির ভাগ জায়গায় হস্তক্ষেপ করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

সিদ্ধান্ত ছিল সাংগঠনিক বিভাগ ভিত্তিক দায়িত্ব প্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জেলা সফর করবেন। কিন্তু তাদের দু/একজন ছাড়া কেউ জেলা সফরে যেতে চাচ্ছেন না, যান না। তারা ঢাকায় বসে নিজ অনুসারি নেতাদের মাধ্যমে রিপোর্ট সংগ্রহ করছেন। ফলে অনেকাংশেই কিছুটা পকেট কমিটি হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট নেতারা তাদের ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে মরিয়া হয়ে উঠে এখন সহযোগিতার পরিবর্তে দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধেই তুলছেন নানা অভিযোগ।

বাদ যাচ্ছে না কমিটি গঠনকে ঘিরে অর্থ লেনদেন হচ্ছে এমন অভিযোগ। তবে বেশকিছু জায়গায় আবার কেন্দ্রীয় নেতাদের অনীহার কারণেও আটকে আছে জেলা কমিটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। বিরাজমান পরিস্থিতিতে অধিকাংশ স্থানেই দেখা দিয়েছে এক-রকম স্থবিরতা। বিগত রেকর্ড ভঙ্গ করে কেন্দ্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরাও এবার কর্মসূচি পালন করা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

তৃণমূল পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা প্রধান সমন্বয়ক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, খুব একটা স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশে দল পুনর্গঠনের কাজটা করা যাচ্ছে না। সরকারের বাধা, বিপত্তি সর্বদা লেগেই রয়েছে। অনেক জায়গাতে অনুমতি দিতে চায় না স্থানীয় প্রশাসন।

আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। নিজেদের মধ্যে যে কিছু সমস্যা নাই তা নয়, রয়েছে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা। তবু আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, দেশের এই রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা ‘সন্তোষজনক’। আশা করি চলতি জানুয়ারি মাসেই একটি পজেটিভ ফলাফল পাবো।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর তৃণমূলের অনেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন। ফলে জেলা কমিটি গুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদ ‘শূন্য’ রয়েছে। তাই কাউন্সিলে সংশোধিত দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি ৫১ সদস্যের হবে। থানা বা উপজেলা পর্যায়ের কমিটি ৭১ সদস্যের। জেলা ও মহানগর কমিটি ১৫১ সদস্যের। এর মধ্যে ৭৪টি সম্পাদক পর্যায়ের পদ, বাকি ৭৬টি সদস্য পদ।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বিএনপির তৃণমূলের পুনর্গঠনের কাজ কোন পর্যায়ে রয়েছে তা এই মুহূর্তে বলতে পারবো না। তবে আমি যেহেতু একটি বিভাগের (ময়মনসিংহ) দায়িত্বে আছি। তাই বলছি, ময়মনসিংহ বিভাগে বিএনপির তৃণমূল পুনর্গঠনের কার্যক্রম প্রায় ৭০ ভাগ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে পুনর্গঠন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যাশা যথা শীঘ্রই এ বিভাগে দলের পুনর্গঠনের কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভবপর হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের আগষ্ট পর্যন্ত দু’দফা দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েও প্রত্যাশিত ফল পায়নি। এখন পর্যন্ত দলটির ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ২৩ কমিটি জেলা ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি মাসে আরও প্রায় ১০/১৫টি কমিটি চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে ঘোষিত অধিকাংশই পুর্ণাঙ্গ কমিটি নয়, আংশিক কমিটি। এছাড়াও ঢাকা বিভাগে ১০টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ঢাকা ও মানিকগঞ্জ জেলার কমিটি হয়েছে। এখনও বাকি রয়েছে আটটি জেলা কমিটির কার্যক্রম।সূত্র-বি নিউজ

Print Friendly
 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1114 বার
 
শীর্ষ খবর/আ আ

 
 
 

ফেইসবুক লাইকবক্স

 
 
 
 
 
 
 
  • আল্লাহ্ ও রাসূলের অবাধ্যরা পথহারা

    রাসূল (সা.) মক্কার জীবনে প্রবল বিপত্তির মাঝে সদা ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি জুমার নামাজের ব্যবস্থা করার। কাফের ও মুশরিকদের অনবরত…... ২৩.০২.২০১৭, ৩:২০:০০

 
 
 
 
  • বাংলা ছোট গল্প

    ***নন্দলালের মন্দ কপাল*** -লিখেছেন সুকুমার রায়। নন্দলালের ভারি…... ২৬.০২.২০১৭, ১০:২৬:৪২

 

ক্যালেন্ডার

 
 
 

জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:


কপিরাইট ©২০১০-২০১৬ সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত শীর্ষ খবর ডটকম

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ডাঃ আব্দুল আজিজ
সম্পাদক তোফায়েল আহমদ খান সায়েক

ফোন নাম্বার: +447536574441
ই-মেইল: info.skhobor@gmail.com
ই-মেইল: info@sylheteralap.com