English Version   
আজ রবিবার,২৫শে জুন, ২০১৭ ইং, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১লা শাওয়াল, ১৪৩৮ হিজরী

আগাম নির্বাচনের গুঞ্জনে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে রাজনীতির দৃশ্যপট

এপ্রিল ১৭, ২০১৭ ৩:২১ অপরাহ্ণ

 

শীর্ষ খবর:

ঢাকা: ফের আগাম নির্বাচনের গুঞ্জনে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। বেশ কয়েকদিন থেকেই এ ধরনের আলাপ-আলোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ খেটে খাওয়া লোকজনকেও নাড়া দিয়েছে এই গুঞ্জন। তবে এ ধরনের গুঞ্জনের বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সুস্পষ্ট মেসেজ না থাকলেও সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে অনেকের ধারণা দেশে আগাম নির্বাচন হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা.একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক তৎপরতা দেখে সন্দেহ হয়- তিনি আগাম নির্বাচনের দিকে যাচ্ছেন। আর সে জন্যই তিনি ইতোমধ্যে নির্বাচনী মাঠে নেমেও পড়েছেন। সর্বশেষ হেফাজতের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি নিয়ে আমাদের খুবই সন্দেহ হয়- তিনি কোন দিকে এগুচ্ছেন।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর শেষে হেফাজতের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি আমাদেরকে ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমার ধারণা-দেশে আগাম নির্বাচন হতে পারে। মনে হচ্ছে আগামী বছরের প্রথম দিকেই এই আগাম নির্বাচন দিতে পারে সরকারে।

এদিকে আগামী বছরে দেশে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে এমন আগাম খবরে কূটনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি সরকারি মহল থেকে এমন একটি ইতিবাচক বার্তাও দেয়া হয়েছে। সেই নির্বাচনকে ঘিরে নড়েচড়ে বসেছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। আসলেই কী দেশে আগাম নির্বাচন হবে, না গুজব? এমন একটি প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

তবে যাই ঘটুক না কেন, বাংলাদেশে ইতিবাচক রাজনীতির পরিবেশ ফেরাতে পর্দার অন্তরালে থেকেই দূতিয়ালি করছেন কূটনীতিকরা। নির্বাচনকেন্দ্রিক ‘সহিংসতার চক্র’ থেকে দেশকে মুক্ত হতে সহায়তা করা, একটি বিতর্কমুক্ত এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন নিশ্চিত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে জানা যাচ্ছে।

এরই মধ্যে নড়েচড়ে বসেছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। তাদের তৎরপরতা কিছুটা দৃশ্যমানও হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কূটনীতিকদের আনাগোনা, দফায় দফায় বৈঠক-আলোচনা চলছে। সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাতীয় নির্বাচন।

এরই ধারাবাহিতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও নরওয়েসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের সাক্ষাৎ অব্যাহত রয়েছে।এছাড়া বৈদেশিক কূটনৈতিকদের আগাগোনাও বেড়েছে।

এদিকে আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার বিষয়ে শাসক মহল থেকে দৃঢ় মনোভাব ব্যক্ত করা হয়েছে। যেসব নেতা ওই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে আগ্রহী তাদের তৃণমূলে যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে বর্তমান সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। এমন কী সরকারের নীতি নির্ধারক মহল থেকেও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

বিএনপিসহ বিরোধী শক্তিগুলো এখনো নির্বাচনী মাঠে না নামলে ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে। এরই মধ্যে তারা মাঠ পর্যায়ে সে মেসেজ দিয়ে দিয়েছে।

তবে সরকারি মহলের ‘আশা জাগানো ওই বার্তা’কূটনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসা পেয়েছে। এখন কূটনৈতিক পল্লীর পার্টিগুলোতে ইতিবাচকভাবেই সেটি আলোচিত হচ্ছে।

কূটনীতিকদের প্রত্যাশার পারদও বেশ উপরে। এখানে আগামী নির্বাচনটি যেসব দলের অংশগ্রহণে হবে সেটি নিয়ে বিতর্ক তেমন একটি হয় না। তবে সেই নির্বাচনের ‘শান্তিপূর্ণ’ আয়োজনের নিশ্চয়তা পাওয়ার চেষ্টাই এখন চলছে।

আর এ জন্যই আগেভাগে সক্রিয় বিদেশি কূটনীতিকরা। সব বিতর্ক পেছনে ঠেলে তারা এখন শুধুই সামনে এগোতে চান। এখানে ‘গঠনমূলক রাজনীতি’ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তারা রীতিমতো দরকষাকষি করছেন। তাদের দূতিয়ালির প্রক্রিয়া বা পন্থা ভিন্ন হলেও লক্ষ্য প্রায় অভিন্ন। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষত সরকার এবং প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে মৌলিক এবং জনগুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ‘সমঝোতা’য় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন বিদেশি বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগীরা।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা নাক গলানোর চিন্তা নয় বরং দেশে যেকোনো নির্বাচনকে ঘিরে (আগে-পরে) প্রায় প্রতিষ্ঠিত যে সহিংসতার চক্র (সাইকেল অব ভায়োলেন্স) এবং সেই চক্রে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন তারা। নির্বাচনী সহিংসতার ওই চক্র ভাঙতেই এবার অনেকটা ঘোষণা দিয়েই জোটবদ্ধভাবে লড়ছেন বিদেশি বন্ধুরা বিশেষত পশ্চিমারা।

অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং জনগুরুত্বপূর্ণ ওই ইস্যুতে তারা এতটাই সরব যে সামপ্রতিক সময়ে খোদ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা আলোচনার সুযোগও চেয়েছেন তারা। যদিও তাদের ওই আগ্রহের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে কী? সাক্ষাতে আগ্রহী কূটনীতিকরা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়ার মধ্যেও ইতিবাচক কিছু খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

পশ্চিমা এক প্রভাবশালী কূটনীতিকের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কী ঘটছে তা বিদেশি কূটনীতিক এবং মিশনগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। গ্লোবালাইজেশন বা বিশ্বায়নের এই যুগে এক দেশের ঘটনা অন্য দেশে মুহূর্তেই খবর হয়। সেই ঘটনাগুলোর নানামুখী প্রভাবও রয়েছে। এসব কারণে এক দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর অন্য দেশের পর্যবেক্ষণ থাকে। বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্র।

এখানকার রাজনীতি, অর্থনীতি বিশেষত শান্তি ও স্থিতিশীলতার ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে বৈশ্বিক ব্যবস্থায়। ঠিক তেমনি এখানকার নেতিবাচক কর্মকাণ্ডগুলো বিশেষ করে ‘অশান্তি এবং অস্থিতিশীলতা’য় বিশ্ব শান্তিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই দেখতে চায় বিশ্ব সম্প্রদায়।

এখানে অতীতে যে প্রশ্নবিদ্ধ জাতীয় নির্বাচন হয়েছে তার প্রসঙ্গ টেনে পশ্চিমা ওই উন্নয়ন সহযোগী বলেন, এখানে আমি বা আমার সহকর্মীরা যা করছি তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ এবং পরোক্ষভাবে বিশ্ব শান্তি এবং স্থিতিশীলতার লক্ষ্যেই করা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশে আয়োজনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ওই নির্বাচনটি কোনো কমিশনের অধীনে হবে? সেখানে নির্বাচন কমিশন এবং কমিশনার হিসেবে যারা নিয়োগ পাচ্ছেন তারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন এমনটিই প্রত্যাশা সবার। সেটাই এই মুহূর্তের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

Print Friendly
 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1594 বার
 
শীর্ষ খবর/আ আ

 

ফেইসবুক লাইকবক্স

 
 
 
 
 
 

সম্পাদকীয়

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

ক্যালেন্ডার

 
 
 

জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:


কপিরাইট ©২০১০-২০১৬ সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত শীর্ষ খবর ডটকম

প্রধান সম্পাদক : ডাঃ আব্দুল আজিজ
পরিচালক বৃন্দ: সামছু মিয়া

ফোন নাম্বার: +447536574441
ই-মেইল: info.skhobor@gmail.com
ই-মেইল: info@sylheteralap.com