English Version   
আজ রবিবার,২৫শে জুন, ২০১৭ ইং, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১লা শাওয়াল, ১৪৩৮ হিজরী

ক্ষতিকর ‘ফার্ম’ থেকে সাবধান

এপ্রিল ১৮, ২০১৭ ৯:০২ অপরাহ্ণ

 

শীর্ষ খবর:

তুষার আবদুল্লাহ:সফরে আছি। এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। পথে ঘুরে বেড়াতে সরাইখানায় উকিঁ দিতেই হয়। আমার পছন্দ শাক-মাছ। সঙ্গীদের দিকে আমিষের পাল্লা ভারী। আমিষের খোঁজ করতে গিয়ে তারা মুরগীর খবর নেন। ফার্ম নাকি দেশি?

কেবল আমার সঙ্গীরাই নন। সরাইখানাতে ভিড় জমানো অন্যদের বেলাতেও তাই দেখতে পাই। দেশি মুরগীই পাতে রাখতে চান সবাই। ফার্মের মুরগীতে এক সময় হামলে পড়েছিলেন ভোজন রসিকরা। এখন ফার্মের মুরগীতে যেমন অরুচি ধরে গেছে, তেমনি শরীরের জন্য যে ক্ষতিকর সেটাও তারা বুঝতে শুরু করেছেন। নিজের শরীর-স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই এখন তারা ফার্মের মুরগী বর্জন করতে শুরু করেছেন।

শরীর যেমন ক্ষতিকর খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না, তেমনি কোন দল-সংগঠন-প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিকর কোন উদ্যোগ, আদর্শ, চিন্তা এবং ব্যক্তিকে হজম করে নিতে পারে না। এই কথাটি প্রথমবারের মতো স্বীকার করে নিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাই তিনি বলতে শুরু করেছেন দলের ভেতর থাকা ফার্মের মুরগীরা (নেতা-কর্মী) দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, দলের জন্য বোঝা হয়ে উঠেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজদলে আদর্শচ্যুত, ক্ষমতা ব্যবহারে লোভাতুর নেতা-কর্মীদের কথা হয়তো ঘটা করে বললেন এভাবে প্রথমেই। কিংবা কাউয়া-হাইব্রিড নেতা-কর্মির কথাও উচ্চারিত হচ্ছে নিকট অতীত থেকে।

কিন্তু রাজনৈতিক দল বা ক্ষমতা বলয়ে সুযোগসন্ধানীদের আনাগোনা নতুন নয় পুরাতনই। সকল সময়ে রাজনীতির মাঠে সরকারী দলের জার্সি গায়ে দিয়ে খেলার খেলোয়াড়রা পরিচিত মুখই ছিলেন। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে এই খেলোয়াড়দের সাইডলাইন থেকে মাঠে নেমে পড়ার সুযোগ পেতে থাকেন।

সেনা শাসক এরশাদের সময় এই খেলোয়াড়দের জার্সি বদলের রমরমা বাণিজ্য চলে। ১৯৯১ পরবর্তী সরকার গুলো বিশেষ করে খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার প্রথম ধাপের সরকারে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও, মাঠে সুযোগ সন্ধানী চৌকস খেলোয়া্ড়রা ছিলেনই।

২০০১ পরবর্তী খালেদা জিয়া সরকারের সময়ে উচ্চফলনশীল জাতের নেতা-কর্মীদের বাম্পার ফলন দেখা যায়। এই বাম্পার ফলনের ফলে শীর্ষনেতার কাছে ‘দেশি’বা দলীয় রাজনৈতিক আদর্শে গড়ে ওঠা ত্যাগী নেতাদের দরদ কমতে থাকে। ত্যাগী নেতারা ক্ষমতা বলয়ে থেকে চ্যুত হয়ে যান। এবং ক্ষমতার ফলন থেকে বঞ্চিত রয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার সরকার ২০০৮ এ ক্ষমতায় এসেও সেই বাম্পার ফলনের জোয়ারে প্লাবিত হয়ে যায়। তখন ভাবা হচ্ছিল এই ‘ফার্ম’ বা ‘হাইব্রীড’ জাত দিয়েই হয়তো দলকে ধরে রাখা যাবে। জনগণ ‘কাউয়া’দের ‘কা-কা’ ধ্বনিতে মোহিত হবে।

কিন্তু দেখা গেল ফার্ম এবং কাউয়ারা ফলন নিয়ে কাড়াকাড়িতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের কাছে দল, দলের আদর্শ তুচ্ছ। আর ‘দেশী’ বা প্রকৃত নেতা অচ্ছুত থেকে একেবারে রাজনীতিতে বিলুপ্ত প্রায়।

সংসদের প্রধান বিরোধীদল ‘ফার্ম’ বা ‘হাইব্রীড’ ফলন নিয়েই টিকে আছে। সংসদের বাইরে থাকা বিরোধীদলের অগোছালো, বিচ্ছিন্নতার কারণ ২০০১’এর সেই ফার্ম প্রজাতিই। ওবায়দুল কাদের যে সত্য উচ্চারণ করেছেন, তা কিন্তু প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ঘরের কথা।

আদর্শকে ধারন করে চলা, দলের জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করতে প্রস্তুত নেতা কর্মীদের কথা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মাঠ প্রস্তু্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। গ্রাউন্ডসম্যানরা মাঠে নেমেছেন। খেলোয়াড়দেরও কেউ কেউ ভোট চাইতে শুরু করেছেন।

দলগুলো সেরা ‘তিনশ’তৈরিতে যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। এপর্যায়েই অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এখন থেকেই দলের জন্য ক্ষতিকর, অরুচিকর রাজনৈতিক খেলোয়াড়দের বাছাই করে ফেলা হবে আগামী দিনের রাজনীতির জন্য স্বাস্থ্যকর।

দলের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে রাজনীতির শীর্ষ নেতারা নিশ্চয়ই পাতে স্বাস্থ্যকর ‘দেশি’ প্রজাতিই তুলে নেবেন।

তুষার আবদুল্লাহ : বার্তা প্রধান, সময় টিভি।

Print Friendly
 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1082 বার
 
শীর্ষ খবর/আ আ

 

ফেইসবুক লাইকবক্স

 
 
 
 
 
 

সম্পাদকীয়

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

ক্যালেন্ডার

 
 
 

জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:


কপিরাইট ©২০১০-২০১৬ সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত শীর্ষ খবর ডটকম

প্রধান সম্পাদক : ডাঃ আব্দুল আজিজ
পরিচালক বৃন্দ: সামছু মিয়া

ফোন নাম্বার: +447536574441
ই-মেইল: info.skhobor@gmail.com
ই-মেইল: info@sylheteralap.com