English Version   
আজ বৃহস্পতিবার,২৫শে মে, ২০১৭ ইং, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮শে শাবান, ১৪৩৮ হিজরী

ভালুকার পল্লীতে ’কলা বাবা’র মাজার রুখে দিয়েছে স্থানীয়রা

মে ১৫, ২০১৭ ৯:১৩ অপরাহ্ণ

 

শীর্ষ খবর:

মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক,বিশেষ প্রতিনিধি ঃ উপজেলার পল্লীতে এক কৃষকের কলা গাছে শতাধিক মোচা বা থোর ধরাকে কেন্দ্র করে তৎপর হয়ে উঠে স্থানীয় এক শ্রেনীর টাউট লোকজন। তারা কলা গাছের এরিয়া ধরে লাল ফিতার বেড়া দিয়ে মাজার তৈরীর প্রচেষ্ঠা চালায়। বাদ যায়নি লাল নিশান টানানো এবং তোবারক সরবরাহ করাও।

কলা গাছের নীচে বোতলে ভরে রাখছে দুধ। এ ঘটনায় এক দিকে যেমন উৎসুক জনতার ভীড় বাড়ছে অন্যদিকে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিষয়টিকে নিয়ে গোঁড়ামি না করতে উপজেলা কৃষি অফিস সংশ্লিষ্ঠ এলাকাবাসীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। স্থানীয় মেম্বার ও এলাকার সচেতন লোকজনের বাঁধার মুখে অবশেষে পিছু হটতে বাধ্য হয় মাজার ব্যাবসায়ীরা।

সুত্র জানায়,উপজেলার পানিভান্ডা গ্রামের কৃষক আব্দুস সবুরের রোপনকৃত একটি কলা গাছে শতাধিক কলার থোর আসায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতুহলের সৃষ্টি করে। কলা গাছের থোরসহ ছবিটি জনৈক মেম্বার শাহজাহান তার ফেসবুক আইডিতে আপলোড করলে দৃষ্টি কাড়ে গনমাধ্যম কর্মীদের। এ নিয়ে অনলাইনসহ জাতীয় ও স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গনমাধ্যমের খবরে ঘুম ভাঙ্গে স্থানীয় কিছু ভন্ড ও টাউট শ্রেনীর লোকজনের। তারা সবুর মিয়ার কলা গাছকে ঘিরে বেশ কিছু এরিয়া নিয়ে লাল সালু কাপড়ে ঘিরে দেয়। একই সাথে লাল পতাকা টানানো এবং গাছের নীচে দুধ ভর্তি বোতল রাখতে শুরু করে।

স্থানীয় টাউটদের যোগসাজসে এলাকায় আবির্ভাব ঘটে মাজারের ’খাদেম’র। ভন্ডামি যখন চুড়ান্ত রুপ লাভ করতে যাচ্ছে তখন বাঁধ সাধে স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবর রহমান। তিনি ওই এলাকায় গিয়ে এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন এবং কড়া ভাষায় শাসিয়ে দেন। ফলে উঠতে গিয়ে পিছলে পড়ে টাউটরা। এদিকে ’কলা বাবার’ মাজার গড়তে শুরু হওয়ার খবর পৌঁছে যায় উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সাইফুল আজম খানের কাছে। তিনি তাৎক্ষনিক ফেসবুকে সবুরের কলা গাছের ছবি’র সাথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের এক গাছে একাধিক কলার থোর ধরার ছবি আপলোড দেন এবং মাজারের নামে গোঁড়ামি না করার জন্য সংশ্লিষ্ঠদের আহ্বান জানান।

তিনি স্থানীয় জনগনকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ক্রোমোজম বিভাজনের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এটি কোন অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। বিভিন্ন প্রজনন ক্ষেত্রেও একটার স্থলে দুই বা তিন হয়ে থাকে। এ নিয়ে আংতকিত হওয়ার যেমন কিছু নেই তেমনি ধর্মীয় গোঁড়ামি করারও কোন সুযোগ নেই। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দিয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ মজিবর রহমান গনমাধ্যমকে জানান, মাজারের কথা শুনে আমি ওই স্থানে যাই। এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য এলাকার লোকজনকে আহ্বান জানাই। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খারুয়ালী থেকে জনৈক ভন্ড এসে এখানে মাজার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহন করে সাথে এলাকার কিছু টাউট প্রকৃতির লোকজন সম্পৃক্ত হয়। এলাকার সচেতন মহলের মতে এক ধরনের ভন্ডরা এখানে মাজার প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্ঠা চালালে গ্রামের লোকজন তাতে বাঁধার সৃষ্টি করায় পিছু হটতে বাধ্য হয়।

Print Friendly
 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 3206 বার
 
শীর্ষ খবর/আ আ

 

ফেইসবুক লাইকবক্স

 
 
 
 
 
 

সম্পাদকীয়

 
 
 
 
 
  • বাড়িতে যখন একা

    বাড়িতে একা একা নিজের মতো সময় কাটানোর সুপ্ত ইচ্ছা সবার মাঝেই আছে। কিন্তু সময় এবং সুযোগ কোনোটিই হাতের নাগালে আসে না বিধায়…... রবিবার, মে ২১, ২:৫৩:১৯

 
 
 
 
  • চেনা শহর

    সাইফুন্নেছা সানিয়া:বহুদিন পর চেনা শহরে অচেনা আমি— একা…... বুধবার, মে ২৪, ২:৫৮:৪৬

 

ক্যালেন্ডার

 
 
 

জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:


কপিরাইট ©২০১০-২০১৬ সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত শীর্ষ খবর ডটকম

প্রধান সম্পাদক : ডাঃ আব্দুল আজিজ
পরিচালক বৃন্দ: সামছু মিয়া

ফোন নাম্বার: +447536574441
ই-মেইল: info.skhobor@gmail.com
ই-মেইল: info@sylheteralap.com