আজকে

  • ২রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং
  • ৩রা জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

শরীয়তপুরে ৩টি লঞ্চ ডুবি

Pub: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭ ৪:৫৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭ ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

তিনদিনেও ডুবে যাওয়া লঞ্চের হদিস করতে পারেনি উদ্ধারকারী জাহাজ,২টি লাশ উদ্ধার,স্বজনদের অভিযোগ উদ্ধার কাজে বিলম্ব করা হচ্ছে।
শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ নড়িয়া উপজেলার ওয়াপদা ঘাটে পদ্মানদীতে ৫০জন যাত্রিও স্টাফ নিয়ে নদীর তীব্র ¯্রােতের কারনে পাড় ধসে ৩টি লঞ্চ ডুবে যায়। এ সময় কিছু যাত্রি সাতরে তীরে উঠতে পারলে ২০জন যাত্রি ও স্টাফ নিখোজ হয়ে যায়। এরমধ্যে এখনো কমপক্ষে ১৮জন যাত্রি নিখোজ রয়েছে। গত ৩দিন চেষ্টার করে ও উদ্ধারকারীদল কাউকেই উদ্ধার করতে পারেনি। বুধবার দুপুরে ২টি লাশ ভেসে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা উদ্ধার করে। এরমধ্যে পারভিন আকতারের লাশ সনাক্ত করা গেছে। অপর লাশের পরিচয় জানা যায়নি । মঙ্গলবার বিকেলে বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় সনাক্তকরা মৌচাক-২ নামের লঞ্চটি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে জাহাজ ও নৌবাহিনীর ডুবুরীদল ওয়াপদা ঘাটে ফিরে এসে নোংগর করে বসে আছে। বুধবার সকাল ১১টায় পুনরায় ডুবুরীদল ও ফায়ারসাভিস সহ নৌ পুলিশ ছোট ছোট নৌযানে করে লাশ ও অপর দুটি নিখোজ লঞ্চের অনুসন্ধান কাজ শুরু করে। এ দিকে নিখোঁজদের স্বজনেরা নদীর পাড়ে তাদের স্বজনের খোজে আহজারি করছেন। তারা শুধু স্বজনের লাশ চায়।
নৌপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, সোমবার ভোরে নড়িয়া উপজেলার ওয়াপদাঘাটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রিবাহী লঞ্চ মৌচাক-২ নারায়নগঞ্চ থেকে ছেড়ে আসা এমভি নড়িয়া-২ ও মহানগর নামের তিনটি লঞ্চ সোমবার রাত অনুমান ৪টায় যাত্রি নামিয়ে ওয়াপদা ঘাটে একটি বাশের ঝাড়ের সঙ্গে নোংগর করে রাখে। এ সময় দুরপাল্লার কিছু যাত্রি ও লঞ্চের স্টাফরা লঞ্চের ভিতরে ঘুমিয়ে পড়লে হঠাৎ করে ভোর ৫টায় ৫০জন যাত্রিও স্টাফ নিয়ে নদীর তীব্র ¯্রােতের কারনে পাড় ধসে ৩টি লঞ্চ ডুবে যায়। এ সময় কিছু যাত্রি সাতরে তীরে উঠতে পারলে ও এখনো লোনসিন গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ৫ মাসের শিশুপূত্র, ও তার শ্বাশুড়ী ফখরুন্নেছা বেগম, রাসেল, স্বপন, নড়িয়া -২ এর কেরানী স্বজল তালুকদার ,সুকানী ছোরহাব হোসেন ,গ্রীজার সাদেক আলী,লস্কর জয় বাড়ৈ,দোকানী রবিন, মহানগরীর সুকানি সফিক,চালক শাহ আলম, গ্রীজার সালাহ উদ্দিন ,লিটন সেক, রিপন দাস, মানিক মাদবর সহকমপক্ষে ২০ জন নিখোজ হয়ে যায়। এরমধ্যে বুধবার দুপুরে নদীতে ভেসে উঠার পর স্থানীয়রা ২টি লাশ উদ্ধার করে। এরমধ্যে পারভিন নামে একজনকে সনাক্ত করা হয়। তার বাড়ি নড়িয়া উপজেলার লোনসিন গ্রামে। অপর একজন পুরুষের লাশের কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। এখনো কমপক্ষে ১৮ জন লোক নিখোজ রয়েছে। গত ৩দিন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ও বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ও খুলনা থেকে আসা নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীদল নিখোজ হওয়া নিখোজ হওয়া ৩টি লঞ্চের কোনই সন্ধান করতে পারেনি। উদ্ধারকারী দলের দাবী নদীর তীব্র ¯্রােতের কারনে নিখোজ হওয়া ৩টি লঞ্চ ও যাত্রিদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছেনা। মঙ্গলবার বিকেলে বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় দুলারচর নামক স্থানে সনাক্তকরা মৌচাক-২ নামের লঞ্চটি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে জাহাজ ও ডুবুরীদল নিয়ে ওয়াপদাঘাটের কাছে এসে নোংগর করে বসে আছে।তাদের দাবী লঞ্চ সনাক্ত করার পর প্রত্যয় ঘটনাস্থলে গিয়ে লঞ্চ উদ্ধার কাজ শুরু করবে। তবে ছোট ছোট নৌযানে করে বুধবার সকাল থেকে নৌপুলিশ, নৌবাহিনী ডুবুরীদল ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীরা সাইড স্কান সোনার দিয়ে আধুুনিক পদ্ধতিতে অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছে। এদিকে সোমবার সকাল থেকে নিখোজদের স্বজনেরা নিখোজ যাত্রিদের ছবি হাতে নিয়ে পদ্মানদীর পাড়ে সুরেশ্বর লাশের অপেক্ষায় আহাজারি করছেন। আবার কেউ কেউ নৌকা ট্রলার নিয়ে নদীতে লাশ খোজাখুজি করে ড়োচ্ছে। তারা শুধু নিখোজ স্বজনের লাশ চায়।
লঞ্চ দূর্ঘটনায় বেচে যাওয়া মোহাম্মদ আলী বলেন, রাত অনুমান সাড়ে ৩টায় মৌচাক-২ লঞ্চটি পাড়ে ভিড়ার পর অন্ধকার দেখে ছোট বাচ্চা নিয়ে ও আমার স্ত্রী শ্বাশুড়ী সহ আমরা লঞ্চে কেবিনে ঘুমিয়ে থাকি। ভোর ৫টায় উঠে আমি আমার স্ত্রী পারভিনকে রেড হতে বলে বাথ রুমে যাই। এ ফাকে বিকট শব্দ হয়ে লঞ্চটি ডুবে যায়। আমি বাতরুম থেকে ীপরে কাউকেই দেখতে পারিনি । আমাকে ¯্রােত ভাসিয়ে নেয়ার পর নৌকা দিয়ে তীরে উঠয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। আমার স্ত্রীর লাশ পেলে ও ছোট শিশু ও শ্বাশুড়ীর লাশ পাইনি।
এ দিকে চাদপুর নৌপুলিশের এসপি সুব্রত কুমার হালদার বলেন, এ পর্যন্ত তারা ২টি লাশ উদ্ধার করেছেন । এরমধ্যে পারভিন নামে একজনের পরিচয় পেয়েছেন।অপরজিনের এখনো পরিচয় পায়নি।
বিআইডব্লিউটিএ সংরক্ষন ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মোঃ শাহজাহান বলেন, পানি ¯্রােত এতবেশী যে ডুবুরীরা নদীর তলদেশে যেতে পারছেনা। স্বাভাবিক ভাবে ১.৫ কিঃমিঃ ¯্রােতে ডুবুরীরা কাজ করতে পারে। এখানে ¯্রােতের গতিবেগ ৭ দশমিকের উপরে। এত ¯্রােতে কাজ করা জীবনের ঝুকি। ¯্রােত কমলেই কেবল উদ্ধার কাজ করা সম্ভব। তবে বুধবার সকাল থেকে সাইড স্কানের মাধ্যমে অনুসন্ধান কাজ শুরু হয়েছে। সনাক্ত করতে পারলে প্রত্যয় উদ্ধার কাজ করবে।
জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান বলছেন, জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে নদীতে তীব্র ¯্রােত ও নদী ভাংগনের কারনে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে দুটি লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আশাকরি শীঘ্রই একটা সফলতা আসবে।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1396 বার

 
 
 
 
সেপ্টেম্বর ২০১৭
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« আগষ্ট   অক্টোবর »
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com