English Version   
আজ শনিবার,১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

আজকে

  • ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
  • ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
  • ২৭শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 

শীর্ষখবর ডটকম

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে নির্মিত হয়েছে মিনি গার্মেন্ট

Pub: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ ৩:১৭ অপরাহ্ণ   |   Modi: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ ৩:১৭ অপরাহ্ণ
 
 

শীর্ষ খবর

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : দেশে প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে নির্মিত হয়েছে মিনি গার্মেন্ট। ইতোমধ্যে মিনি গার্মেন্টের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ পর্যায়ে। আমদানীকৃত মেশিন স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ওই মিনি গার্মেন্টটি চালু হলে অন্তত ৩ শতাধিক কারাবন্দী অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে মিনি গার্মেন্টে উৎপাদিত পণ্য, জামদানী ও অন্যান্য কারুপন্য বিদেশে রফতানী করারও পরিকল্পনা চলছে।
জানা গেছে, গত ২০১৭ সালের ৩০ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের সামনে কারা পণ্য প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া। একইসঙ্গে কারাগারের অভ্যন্তরে বন্দি প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং মিনি গার্মেন্টের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এরপর কারা অভ্যন্তরে শুরু হয় মিনি গার্মেন্ট নির্মাণের কাজ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ জানান, কারা অভ্যন্তরে ৫ হাজার বর্গফুটের মিনি গার্মেন্টটি কারা অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে। এতে ৫৭টি মেশিন স্থাপন করার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে ৫৭টি মেশিন বিদেশ থেকে আমদানী করা হয়েছে। মেশিনগুলোর মধ্যে রয়েছে সুইং, ওভারলক, এমব্রয়ডারী।
তিনি জানান, মিনি গার্মেন্টটি চালু হলে দুই শিফটে অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০ কারাবন্দী কাজ করতে পারবেন। যেসকল কারাবন্দী ওই গার্মেন্টে কাজ করবেন তাদের নামে পৃথক একাউন্টে অর্থ জমা করা হবে। সেই জমাকৃত অর্থ তারা বাড়িতেও পাঠাতে পারবেন নয়তো জেল থেকে বের হওয়ার সময় এককালীন সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন। আমাদের ইচ্ছা ডিসেম্বরে বিজয়ের মাসেই মিনি গার্মেন্টটি উদ্বোধন করার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অতিথি করে আনার বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের আইজি ও জেলা প্রশাসক আলোচনা করছেন। আমরা চাচ্ছি কারাবন্দীরা যাতে বন্দীজীবন শেষে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। সে লক্ষ্যে আরো বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। এজন্য প্রশিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
জেল সুপার আরো জানান, ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে জামদানী তৈরীর কাজ চলছে। জামদানী তৈরীর ৬টি তাতে ১২ জন কারাবন্দী কাজ করছেন। এছাড়াও আরো ৪টি জামদানী তাঁত বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিছানার চাদর তৈরীতে ২০ থেকে ২৫ জন কারাবন্দী কাজ করছে। এছাড়াও এমব্রয়ডারী, নকশী কাথা, ব্লক বাটিক, মোম, নানা ধরনের শোপিশ, নারীদের পার্টস (ব্যাগ), শপিংব্যাগসহ নানা ধরনের কারুপন্য তৈরী করছে কারাবন্দীরা। জামাকাপড় তৈরীর জন্য একটি টেইলারিং সেন্টারও রয়েছে। এসকল উৎপাদিত পণ্যের লভ্যাংশের অর্ধেক ও অর্ধেকের বেশী পাবে উৎপাদনে নিযুক্ত কারাবন্দীরা। ইতিমধ্যে আড়ং এর সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে। আগামী বছরে অনুষ্ঠিতব্য বাণিজ্য মেলাতেও নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে অধিকসংখ্যক অংশগ্রহণ থাকবে বলেও জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের সামনে কারা পণ্য প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কারারক্ষী রফিকুল ইসলাম জানান, একটি এপলিকের চাদর তারা ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। ব্লকের চাদর ১০০০ টাকা দরে, জামদানি শাড়ি ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে, শিশুদের ড্রেস ৪০০-৫০০ টাকা দরে, নারীদের ব্যাগ ১ হাজার টাকা দরে, ল্যাম্প ১২০০-১৫০০ টাকা দরে, নকশীকাথা ১২০০-১৮০০ টাকা দরে, শোপিস ৮০০-১০০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
এদিকে সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া জানান, নারায়ণগঞ্জ কারাগারের মিনি গার্মেন্টসটি এদেশে একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে। কারাগারে বন্দীদের অনেকে হাতের কাজে বেশ দক্ষ। কারাগারে এমনিতেই সময় কাটতে চায় না। মিনি গার্মেন্টে বন্দিদের একদিকে সময় কেটে যাবে অন্যদিকে আয়ও হবে। দেশের বিভিন্ন কারাগারে হস্তশিল্পসহ অন্যান্য প্রকল্প হলেও বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বন্দীদের কর্মজীবী হিসেবে রূপান্তরিত করার মানসে কারাগারের অভ্যন্তরে মিনি গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ তৈরি করা হচ্ছে। এর কাজ শেষ পর্যায়ে। এতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রেরণা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে বিকেএমইএ’র সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে কারাগারের মিনি গার্মেন্টে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানী করা যায় কিনা।
তিনি আরো জানান, এ গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে অর্জিত মুুনাফার অধিকাংশ অংশ যারা কাজ করবে তাদের মধ্যে প্রদান করা হবে। বন্দীরা মাসে মাসে তাদের পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে পারবে অথবা তারা বন্দীদশা থেকে মুক্ত হওয়ার সময় একসঙ্গে অনেক টাকা নিয়ে ঘরে ফিরে ছোটখাট ব্যবসা বা অন্য কর্মে নিয়োজিত হতে পারবে। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে তারা পরিবারের বোঝা হয়ে থাকবে না।

Print Friendly, PDF & Email
 
 

শীর্ষ খবর/আ আ

 
 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1039 বার
 
 

সর্বশেষ সংবাদ

 
 

সর্বাধিক পঠিত

 
 
 
 

জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:


কপিরাইট ©২০১০-২০১৬ সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত শীর্ষ খবর ডটকম

প্রধান সম্পাদক : ডাঃ আব্দুল আজিজ

পরিচালক বৃন্দ: সামছু মিয়া,
মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ফোন নাম্বার: +447536574441
ই-মেইল: info.skhobor@gmail.com