English Version   

আজকে

  • ৯ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
  • ২৪শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
  • ৩রা সফর, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 

শীর্ষখবর ডটকম

তিউনিসিয়ার নোবেলের আয়নায় বাংলাদেশ

Pub: শুক্রবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৭ ১:২৪ পূর্বাহ্ণ   |   Modi: শুক্রবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৭ ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
 
 

শীর্ষ খবর

মিনা ফারাহ : একমাত্র জাতীয়তাবাদী ও বৈধ বিরোধী দল কি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে? জনগণ যেন মরণঘুমে। বাকি থাকল সুশীলসমাজ, যারা বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাসের মাথামুড়ে ঘোল ঢেলে এমনকি গলায় জুতোর মালাও পরিয়ে দিয়েছেন। টকশো আর শহীদ মিনারের বাইরে কিছুতেই যাবেন না। তাহলে গণতন্ত্র কি ফুরিয়ে গেছে? নাকি এক ব্যক্তির হাতেই গণতন্ত্রের শেষ বিছানা? এর মানে কি এই দেশে আর কোনো বৈধ নির্বাচন হবে না? আশঙ্কা হচ্ছে সেটাই। দেশ-বিদেশে নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন, বিশেষ করে হাইকমান্ডের যে মানসিকতা, তা থেকে আগ্রাসী বক্তব্য, সেই পথেই যাচ্ছে নির্বাচন। তবে উত্তরণের পথ খুঁজতেই তিউনিসিয়ার জেসমিন রেভ্যুলেশনে সুশীলসমাজের ভূমিকা এবং শান্তির নোবেল নিয়ে এই লেখাটি।

নিউ ইয়র্কের গণমাধ্যমকে হাইকমান্ডের বক্তব্যের কিছু হাইলাইটস : ‘বিএনপির সাথে কোনো আলোচনা নয়। তারা কে যে, তাদের ছাড়া দেশ চলবে না? এমন কী ঠেকা পড়েছে, বিএনপিকে আনতে হবে?’ ‘ভোয়া’কে, ‘যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছে। …মানুষ তার পছন্দমতো লোককেই নির্বাচিত করবে, আমরা দিনের পর দিন আন্দোলন-সংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক ধারাটা ফিরিয়ে এনেছি। নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে, মানুষ ভোট দিতে পারছে, এটা আমাদের অবদান। …আমরা যে কাজ করেছি, তাতে যদি জনগণ খুশি হয়, ভোট দেবে, না হলে দেবে না। … নির্বাচন অবশ্যই অবাধ নিরপেক্ষ হবে। তা না হলে বিএনপি কি জিততে পারত? বিএনপির আমলে কেউ কি জিতেছে…?’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বাংলাদেশী মাহাথির’ বলে সম্বোধন করে, সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আরো কয়েক টার্ম ক্ষমতায় রাখার দাবি তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার। এটাই যদি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের বক্তব্য হয়, এরপর এই বিষয়ে আর একটি প্রশ্নও নয়। বারবার ক্ষমতা না ছাড়ার বার্তা দিয়েই যাচ্ছেন, কিন্তু আমরা রোবট।

হাজার বছরের বাঙালির ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে অকল্যাণকর উদাহরণ ১৫তম সংশোধনী। আর যদি কিছু না-ও করেন, তার পরেও টানা ক্ষমতায় এক ব্যক্তিই। সব মাছ তারাই ধরবেন, অন্য কোনো শিকারির পুকুরে ঢোকার রাস্তা বন্ধ। তা ছাড়া প্রতি পাঁচ বছর পর ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। সুতরাং বাধ্য হয়ে এক ব্যক্তিকেই ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় রাখার দায়িত্ব জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে সংশোধনী। সরকারপ্রধানের পদে থেকেই নির্বাচনের বাধ্যবাধকতাও কায়েম হয়েছে। পছন্দ না হলে তাকে ছাড়াই নির্বাচন এবং সেটাও হয়েছে। এখানে কোনো আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা বৃথা। কারণ, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা নাকি আওয়ামী লীগের নেই।

নিউ ইয়র্কে গণমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্যের সারমর্ম। নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয়া হবে হয়তো বিএনপিকে বাদ দিয়ে। ১. নির্বাচন থেকে জামায়াত নিষিদ্ধ। ২. এরশাদের ভোটার সংখ্যা প্রায় চার লাখ। ৩. জাসদের কয়েক শ’। এর মানে জাসদকেই ভোট দিয়ে নির্বাচন করার কথা বলছেন? এই প্রশ্নের উত্তর নিজেও দিতে পারবেন না। এর পরও উপস্থিত গণমাধ্যম ও প্রবাসী বাঙালিদের ঠোঁটে রোবটের হাসি। অবশ্য আগ্রাসী বক্তব্যকে শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘মিথ্যাচার’। দ্বিমতের সুযোগ নেই, কিন্তু তারা তো মৃত। বিষয়টি দাঁড়াল, ৫ জানুয়ারি এবং ৯২ দিনের আন্দোলন দুটোই বিএনপি করেছে এবং আওয়ামী লীগ তখন লক্ষ্মী ছেলে।

গণতন্ত্র যে মৃত্যুশয্যায়, তা কখনোই উপলব্ধি করেনি সুশীলসমাজ, এখনো না। এদের নিষ্ক্রিয়তায় ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থাকবেন ক্ষমতাসীনেরাই। সুশীলদের রোবট ভূমিকায় বেশির ভাগ মানুষই ত্যক্তবিরক্ত। রাস্তায় নামা দূরে থাক, হাইকমান্ডের এক ধমকেই লোটাকম্বল নিয়ে উধাও। এর পরেও ইসির সাথেই ধুমধাড়াক্কা? যদিও ড. ইউনূস থেকে ড. কামালদের মতো এমন অপমানিত বিশ্বের কোনো দেশের সুশীলসমাজই হননি, তার পরেও অ্যাক্টিভিজম বা অ্যাকাডেমিক, প্রতিবাদের অধিকার চিরন্তন।

জুরিসপ্রুডেন্স বলে, কারো ইচ্ছাকৃত কুমতলবে অন্যের ক্ষতি হলে সেটা ‘ফেলোনি’ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ১৫তম সংশোধনীর ৯৫ ভাগই কুমতলবতাড়িত। কু-উদ্দেশ্য থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান বিতাড়িত, যার ফলাফল ৯২ দিনের আন্দোলন। ৯২ দিনের জন্য মূলত দায়ী আওয়ামী লীগ। কারণ, জেনেশুনেই তারা বিষপান করেছিল। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পর যত ক্ষয়ক্ষতি, আদালতকে কলুষিত না করলে, অনেকেরই দীর্ঘমেয়াদি সাজা। কারো কারো বেলায় চরম শাস্তি কোনো ব্যাপারই নয়।

৫ জানুয়ারির ভোটের মাঠে কুকুর-বেড়ালের উপস্থিতিই বেশি ছিল (তথ্য-প্রমাণ ইন্টারনেটে)। বিরোধী দলকে ক্রেমলিন স্টাইলে নির্বাচন থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। ১৬তম সংশোধনীর রায়েও অবৈধ সংসদের বিষয়ে বিচারকদের মতৈক্য। তিউনিসিয়ার বেন আলীর স্বৈরশাসনের অবসান মাত্র ২৮ দিনে কিন্তু চার বছর ধরে বেহাত সংসদীয় গণতন্ত্র উদ্ধারে, কোনো ভূমিকা দেখাতে পারল কি সুশীলসমাজ? অন্য দিকে, তিউনিসিয়ার সব মারমুখী দলকে সহিংসতা বন্ধ করে, সমঝোতার টেবিলে এনে, একমত হতে বাধ্য করেছিল সেই দেশের সুশীলসমাজ। সে জন্যই মার্কেল বা পোপকে না দিয়ে তাদেরই শান্তির নোবেল দেয়া হলো। আমরা কি কিছুই আশা করতে পারি না?

পারি না, কারণ, আমাদের সুশীলসমাজ নিষ্ক্রিয়, স্বার্থপর এবং ভীতু। জ্ঞানে-গুণে এলিট হলেও মূর্খদের কাছেই আত্মসমর্পণ যেন অকালবৈধব্যের মতোই হৃদয়বিদারক। ইস্যু পেলেই ভূতের আগুনের মতো হঠাৎ জ্বলে ওঠে। সাথে সাথে নিভে যায়। হাতে হাত ধরে ড. কামাল এবং ডা: বি. চৌধুরী ঐক্যের ডাক দিয়েই লোটাকম্বল নিয়ে পালিয়ে যান। প্রতিবারই মনে হয়েছে, এবার কিছু হবে; কিন্তু হয়নি।
টিআইবি, অ্যামনেস্টি, জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশন, ইইউ, অধিকার, ১৬তম সংশোধনীর রায়… অগণিত অভিযোগকারীর প্রত্যেকেই ভুল, একমাত্র হাইকমান্ডই নির্ভুল! এই মাত্রায় প্রতিক্রিয়াহীন রোবট-সুশীলসমাজের কারণেই ক্ষমতাসীনেরা কিউবা-ক্রেমলিনের আকার ধারণ করতে পেরেছে। ২৩ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যগুলো প্রায় সব পত্রিকায়ই, নির্বাচনের বিরুদ্ধে একরকম যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। যারা খুনি এবং সন্ত্রাসী, তাদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে আমার কোনো ইচ্ছাই নেই। এই বিষয়ে ভবিষ্যতে বিএনপির সাথে রাজনৈতিক সমঝোতায় আমাকে আর কেউ প্রশ্ন করবেন না। যারাই এ ধরনের চিন্তাভাবনা করেন, মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।’ রোবট থাকার সময় ফুরাবে কবে?
রাজনীতিতে কাউকেই প্লাস বা মাইনাসের ক্ষমতা সংবিধান তাকে দেয়নি। অতীতের চারটি নির্বাচন যাদের সাথে, খুনি-সন্ত্রাসীর আভিধানিক ব্যাখ্যা নিয়ে সাংবাদিকেরাও রোবট? প্রশ্নটি হওয়া উচিত ছিল, কেন তারা আর এই প্রশ্নটি করতে পারবেন না! অথচ এরাই কিন্তু ট্রাম্পের প্রতিটি পশমের খুঁত খুঁজে বেড়ান।

নির্বাচন নিয়ে বাগাড়ম্বরের পেছনে যে গেইম থিওরি, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত সুশীলসমাজ তা জানে। এটাও জানে, সত্যেন বোস আর আইনস্টাইনের যুগ্ম থিওরির অধিকতর গবেষণা থেকেই কয়েকজন পদার্থবিজ্ঞানী নোবেল পেয়েছেন।


২০১৩ সালে চার স্তরের সুশীলসমাজ নিয়ে গঠিত ‘তিউনিসিয়ান ন্যাশনাল ডায়লগ কোয়ার্টেট’। ২৩ বছরের স্বৈরশাসক বেন আলী প্রশাসনের লাগামহীন দুর্নীতি, চরম বেকারত্ব, বিরোধীদের ওপর ভয়ানক অত্যাচারের খবর উইকিলিকসে ফাঁস হওয়ার সাথে সাথে মাত্র ১১ মিলিয়ন মানুষের দেশের লাখ লাখ জনতার পপুলার আপরাইজের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের প্রো-ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট শুরু। রাস্তার আন্দোলনের মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ধরাশায়ী বেন আলী, পালিয়ে সৌদি আরব। (গত ৯ বছর ধরে বাংলাদেশী করাপশন, পানামা পেপার্স, ব্যাংকলুট, প্রশাসনিক দুর্বৃত্তায়ন, স্বৈরাচারী নির্যাতন নিয়ে উইকিলিকসহ দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমের রিপোর্টের সংখ্যা কত?)

যা ঘটেছিল তিউনিসিয়ায়- ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বরে মোহাম্মদ বুয়াজিদ নামে এক গরিব হকার, তার ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে, শরীরে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করলে, স্ফুলিঙ্গের মতো ফুঁসে উঠল তিউনিসিয়া। হাসপাতালে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে বুয়াজিদের মৃত্যুর খবরে দাবানল আরো ছড়িয়ে পড়ল। প্রথম থেকেই তাদের সাথে সম্পৃক্ত সুশীলসমাজ। অন্যতম হাতিয়ার, লেবার ইউনিয়নের ১ মিলিয়ন শ্রমিকের অসহযোগ আন্দোলন। ৯৫ শতাংশ আইনবিদও আন্দোলনে। ছিল ট্রেড ইউনিয়ন, হ্যান্ডিক্রাফটসহ নানান সংগঠনের লাখ লাখ কর্মী। জেসমিন রেভ্যুলেশনের উত্তাপে অচল তিউনিসিয়া- পালানোর পথ খুঁজছিলেন বেন আলী। বিপ্লব থেকে ছড়িয়ে পড়া ‘আরব বসন্ত’ তেমন সফল না হলেও সফল তিউনিসিয়া। ইসলামপন্থী সরকার, বিরোধী দল এবং সেকুলার মুভমেন্ট গ্রুপের সবাইকেই এক টেবিলে বসিয়ে সমঝোতার দরকষাকষিতে সফল।

জুলাই ২৯, ২০১৩, সমঝোতার ৪ শর্ত- ১. ইনডিপেনডেন্ট টেনোক্রেটিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ক্ষমতাসীন ইসলামিক দলের পদত্যাগ। ২. পার্লামেন্টারি নির্বাচনের জন্য সময় নির্ধারণ। ৩. পুরনো সংবিধান শুদ্ধ করে নতুন সংবিধান। ৪. গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতি আনতে সব ধরনের আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে সব দলের একমত।

ওই আলোচনাতেই মতৈক্য, ক্ষমতাসীনদের পদত্যাগ এবং ইন্টারিম প্রধানমন্ত্রীর হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। সেই মাফিক নতুন সংবিধান তৈরির পরেই নির্বাচনের প্রস্তুতি। একটি ছাড়া বাকি ২১টি দল এই প্রস্তাবে সই দিলো। লক্ষ্যে পৌঁছাতে মারমুখী দলগুলোর ওপর ছিল সুশীলসমাজের প্রচণ্ড চাপ।

৯ অক্টোবর ২০১৫ সালে কোয়ার্টেটকে দেয়া নোবেল সাইটেশন থেকে ‘তিউনিসিয়ায় শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন আনতে কোয়ার্টেটের যে ভূমিকা, এর স্বীকৃতি দিতেই শান্তির নোবেল। …সবচেয়ে যা গুরুত্বপূর্ণ, পুরস্কারটি দেয়া হয়েছে তিউনিসিয়ার জনগণকে, যারা জাতীয় ঐক্যের জন্য একটি ভিস্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পেরেছে। কমিটির আশা, অন্যরাও এখান থেকে অনুপ্রাণিত হবেন।’


তিউনিসিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ১১ মিলিয়ন বনাম আমাদের প্রায় ১৭০ মিলিয়ন। তুলনামূলকভাবে আমাদের সুশীলসমাজের আকার-আয়তন বিশাল। তিউনিসিয়ার মতোই আমাদের সুশীলসমাজও রাজনৈতিক দল নয়। তারাও মন্ত্রী-এমপি হবেন না। তবে তাদের রোবট ভূমিকা, আওয়ামী-সামন্তবাদকে আরো উসকে দিয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তাদের চৌহদ্দি শহীদ মিনার, টকশো, মানববন্ধন… হৃদয়বিদারক। সময় শেষ হয়নি। অ্যাক্টিভিজম এবং অ্যাকাডেমিক দুটোই চলতে পারে। তা ছাড়াও ভারত-চীন-রাশিয়ার মতো যেসব পরাশক্তি আগুনে ঘি ঢালছে, সাম্রাজ্যবাদীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এখনই মুখ খোলা উচিত। দ্রুত বেদখল হচ্ছে খনিজসম্পদ, ব্যবসায় বাণিজ্য, ট্রেড ব্যালান্সে আকাশ-পাতাল ফারাক। আরাকান শূন্য করে সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠাকারীরা ৯ বছর আগেই এ দেশে ঢুকে পড়েছে। নাকের ডগায় উন্নয়নের মুলা ঝুলিয়ে দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিস্তার চলছে নীরবে। মিয়ানমার ইস্যুতে দেশে-বিদেশে হাইকমান্ডের অবস্থানই নিখুঁত প্রমাণ। চীন-রাশিয়া-ভারত সু চির পক্ষে। হিসাব মেলানো মোটেও কঠিন নয়। ডিল্যুশনাল হাইকমান্ড এবং কল্পিত গণতন্ত্র পাশাপাশি চলতে পারে না। নির্বাচন নিয়ে অসত্যকথন আর চলতে দেয়া উচিত নয়।

যে প্রত্যাশায় শান্তির নোবেল দিয়েছিল কমিটি, তিউনিসিয়ার আগেই বাংলাদেশের পরিস্থিতি সেখানে পৌঁছে গেছে। তা সত্ত্বেও সুশীলসমাজের সামনে দু’টি পথ এখনো খোলা- ১. সমঝোতায় আসতে বাধ্য করা। ২. লক্ষ্যে পৌঁছাতে অ্যাক্টিভিজম, অ্যাকাডেমিক দুটোই চালিয়ে যাওয়া। প্রথমটা অসম্ভব। সুতরাং ড. ইউনূস, ড. আকবর আলি খান, ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ড. আসিফ নজরুল, নুরুল কবির… ওই স্তরের মানুষগুলো রাস্তায় না নামা পর্যন্ত গণতন্ত্রের উত্তাপ ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই। তাদের সাহসী ভূমিকা পালন না করা পর্যন্ত প্রো-ডেমোক্র্যাটিভ মুভমেন্ট শুরু হবে না। তাদের ঝুঁকি নেয়ার মাধ্যমে উত্তাপ ছড়াবেই, গণতন্ত্রও আসবে। বেন আলী এবং অন্যান্য স্বৈরাচারের পতন, এই শিক্ষাই দিলো।
সংবিধান বিশেষ ব্যক্তিকে ক্ষমতা কিংবা ক্ষমতার ধারাবাহিকতা না দিলেও সেটাই চলছে। কোনো ধারা কিংবা উপধারাই পারিবারিক শ্রেষ্ঠত্ববাদ, আবেগ-রাগ-অনুরাগ সংযোজন না করলেও সবাই হাততালি দিচ্ছে। এটাই অবাঞ্ছিত বাস্তবতা।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যতখানি কৃতিত্ব আমজনতার, তার চেয়ে বেশি তিউনিসিয়ার সুশীলসমাজের। ১৬তম সংশোধনীর রায় ঠিক এরকমই একটি সুযোগ এনে দিলো। সুশীলসমাজের দায়িত্ব, এর সদ্ব্যবহার। কোয়ার্টেটের উদাহরণ কাজে লাগানো। ‘তবে এই দায়িত্ব পালনের ন্যূনতম লক্ষণ আপাতত মেনুতে নেই। বরং তারাই সংলাপে অংশ নিয়ে, ২০১৯ সালে গণতন্ত্রকে পুরোপুরি অচল করে দিতে মদদ দিচ্ছেন।’

ই-মেইল : farahmina@gmail.com

ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

Print Friendly, PDF & Email
 
 

শীর্ষ খবর/আ আ

 
 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1065 বার
 
 
 
 
 
 

জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:


কপিরাইট ©২০১০-২০১৬ সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত শীর্ষ খবর ডটকম

প্রধান সম্পাদক : ডাঃ আব্দুল আজিজ

পরিচালক বৃন্দ: সামছু মিয়া,
মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ফোন নাম্বার: +447536574441
ই-মেইল: info.skhobor@gmail.com