English Version   
আজ শনিবার,২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৩রা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

আজকে

  • ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
  • ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
  • ৩রা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 

শীর্ষখবর ডটকম

মোটরবাইকে বাঁশি বাজিয়ে চলেন এক আজব বাঁশুরিয়া

Pub: শুক্রবার, আগস্ট ১১, ২০১৭ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ   |   Modi: শুক্রবার, আগস্ট ১১, ২০১৭ ৫:৫১ অপরাহ্ণ
 
 

শীর্ষ খবর

মেহেরপুর:মোটরবাইকের সাথে তার প্রেম ভালবাসা। সারাটা দিনমান তাকে দেখা যায় মটরবাইকে চলছেন। গাড়ি চলছে। কিন্তু তার হাতদুটো ব্যস্ত বাঁশিতে। এমন এক আজব বাঁশুরিয়াই মটরবাইকে বাঁশি বাজিয়ে বিনোদন দিয়ে চলেছেন পথ চলতি মানুষজনকে। শুধু চলতি বাইকে বাঁশি বাজানো কেন, চলন্ত অবস্থাতেই খাওয়া দাওয়া সেরে ফেলেন। মোটরবাইক চলে তার নিজ গতিতে আর চালকের আসনে বসে বিভিন্ন শারীরিক করসত দেখানোসহ মনের আনন্দে বাঁশি বাজিয়ে তিনি মুগ্ধ করেন সাধারণ মানুষ কে। এভাবে সাত বছর ধরে এই আনন্দ বিলিয়ে চলেছেন মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার টেংরামারি গ্রামের খাদেমুল ইসলাম।

গল্পের শুরুটা সাত বছর আগে। মটরবাইক চালানো শিখতে গিয়ে পড়ে যান আজকের এই দক্ষ ড্রাইভার খাদেমুল। এর পর মটরসাইকেলকে বশে আনতে শুরু করেন অধ্যাবসায়। মটবাইক চালানোই হয়ে যায় ধ্যান, জ্ঞান। সফলও হয়েছেন তিনি। আর এই ধারাবাহিকতায় এখন যেন মটরসাইকেলের সাথে তার প্রেম ভালবাসা। প্রতিদিন তিনি খালি হাতে মটরসাইকেল চালিয়ে সকল কাজ সারেন। তার এই মটরসাইকেল চালানো দেখে যেমন অবাক হন তেমনি আনন্দও উপভোগ করেন সাধারণ মানুষ। আর এর সাথে মনোমুগ্ধকর বাঁশির সুর যেন আনন্দটা আরো বেশি বাড়িয়ে দেয়।

শুন্য হাতে মটরসাইকেল চালিয়ে জেলার বাইরে চলে যান খাদেমুল। অন্য জেলার মানুষও তার এমন আজব মটরবাইক দেখে প্রথমে অবাক হন। পরে উপভোগ করতে শুরু করেন। প্রতি শুক্রবার ঐতিহাসিক মুজিবনগর কমপ্লেক্স চত্বরে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে খাদেমুল ছুটে আসেন তার মটরবাইক ও বাঁশি নিয়ে। মানুষকে আনন্দ দেওয়ার মাঝে তিনি সুখ খুঁজে পান। আর এই ভাল লাগার জন্যই এক পণ করেছেন। যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে ততদিন এভাবে মানুষকে আনন্দ দিয়ে যাবেন তিনি।

সৌখিন মোটরবাইক খাদেমুল মনে করেন এই চলমান যন্ত্রটা এখন বশীভূত, ‘মোটরসাইকেল আমার সব কথা শোনে। আমি চলন্ত গাড়ির উপরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কসরত করতে পারি। এজন্য আমি কখনো প্রশিক্ষণ নেইনি। নিজের ইচ্ছায় আমি এইভাবে গাড়ি চালানো শিখেছি। আমার এই গাড়ি চালানো দেখে সাধারন মানুষ আনন্দ পায়। এটাই আমার বড় আনন্দ।’

গাড়িতে সবাই যেমন বসেন তেমন বসে, ছিটের ওপর দুই পা তুলে আসন গেড়ে, কখনো বা দুপাশে দু পা রেখে চলন্ত গাড়িতে দাঁড়িয়ে চলতে চলতেই বাঁশি বাজান খাদেমুল। মুজিবনগর এলাকার কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, খাদেমুল বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছেন তাদের মাঝে। বেশ কয়েক বছর ধরে এই মানুষরা মাঝে মাঝে খাদেমুলকে এভাবে খালি হাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে চলতে দেখেন। সেই সাথে এই আজব বাঁশুরিয়ার বাঁশির সুরও যে তাদের মুগ্ধ করে তা জানাতে ভোলেন না তারা।

টেংরামারি গ্রামের শামিম হাসান জানান, ‘খাদেমুল পেশায় একজন চাষী। নিজের মোটরবাইকটি নিয়ে বিভিন্নভাবে কসরৎ করেন। কখনো দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে কখনো বা দুই পা তুলে মাইলের পর মাইল এভাবে গাড়ি চালিয়ে যান। গাড়ি চালানোর সময় বাঁশি বাজান। আমরা সব সময় তাকে এভাবে গাড়ি চালাতে দেখি।’

সব মিলিয়ে সত্যি এক আজব বাঁশুরিয়া খাদেমুল।

Print Friendly, PDF & Email
 
 

শীর্ষ খবর/আ আ

 
 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1212 বার
 
 

সর্বশেষ সংবাদ

 
 

সর্বাধিক পঠিত

 
 
 
 

জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:


কপিরাইট ©২০১০-২০১৬ সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত শীর্ষ খবর ডটকম

প্রধান সম্পাদক : ডাঃ আব্দুল আজিজ

পরিচালক বৃন্দ: সামছু মিয়া,
মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ফোন নাম্বার: +447536574441
ই-মেইল: info.skhobor@gmail.com