English Version   
আজ শনিবার,২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৩রা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

আজকে

  • ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
  • ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
  • ৩রা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 

শীর্ষখবর ডটকম

পুরুষ-শাসিত সমাজ, তুমি কি পারবা?

Pub: বুধবার, আগস্ট ১৬, ২০১৭ ২:২৬ অপরাহ্ণ   |   Modi: বুধবার, আগস্ট ১৬, ২০১৭ ২:৩৩ অপরাহ্ণ
 
 

শীর্ষ খবর

বাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলছেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে তিনি আজকের এই অবস্থানে এসেছেন এবং সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন জাতীয় প্রেসক্লাবের সর্বোচ্চ কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা হতে পেরেছেন।

তার চোখে প্রতিকূলতা হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠ পুরুষ সহকর্মীদের ‘মনস্তাত্ত্বিক প্রতিকূলতা’ এবং ‘নারীকে ভাল অবস্থানে দেখতে অভ্যস্ত না থাকা’ বা ‘দৃষ্টিভঙ্গির বাধা’।

মিসেস ইয়াসমিনের মাধ্যমে জাতীয় প্রেসক্লাব তার তেষট্টি বছরের ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী সাধারণ সম্পাদক পেয়েছে।

“এই অবস্থানে তো একদিনে আসিনি, এর আগে আমি নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও ছিলাম। সেটাও প্রেসক্লাবের ইতিহাসে প্রথম”, বিবিসিকে বলছিলেন মিসেস ইয়াসমিন।

“তখন অনেকেই সরাসরি বলেও ছিলেন যে, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিলা, এটা হতেই পারে না।”

এখন অবশ্য দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বদলেছে বলে মনে করেন তিনি।

“আমার নির্বাচনটি কিন্তু তারই একটি ফলাফল বলতে পারেন।”
জাতীয় প্রেসক্লাবের তেষট্টি বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ফরিদা ইয়াসমিন।
কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র দৈনিক ইত্তেফাকের শিফট-ইন-চার্জ।

কুড়ি বছর আগে যখন পত্রিকাটির নারী পাতার প্রধান ছিলেন মিসেস ইয়াসমিন, তখন পত্রিকাটিতে দুজন মাত্র নারী সাংবাদিক ছিলেন।

এরকম এক প্রেক্ষাপটে শিফট-ইন-চার্জের মতো একটি দায়িত্ব যেটি নিউজ-রুমে ‘বয়েজ জব’ বা ‘পুরুষদের কাজ’ বলে পরিচিত সেটি কিভাবে অর্জন করতে পেরেছিলেন তিনি?

মিসেস ইয়াসমিন বলেন, সহজ ছিল না। কর্তৃপক্ষ আমাকে দিতে চায়নি দায়িত্বটা।

“বলেছে, পুরুষ-শাসিত সমাজ, তুমি কি পারবা? তোমার কথা কি শুনবে।”

“তখন আমি বলেছি, শুনবে না মানে কি? শোনাতে তো হবেই। চ্যালেঞ্জতো নিতে হবে। যাইহোক সেখানে আমি অনেকদিন ধরেই এই দায়িত্বটি পালন করছি।”

‘অন্যধারার কাগজ’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাও সম্পাদনা করছেন মিসেস ইয়াসমিন।

বাংলাদেশে এখন অনেক মেয়েরাই সাংবাদিকতায় আসছে, তবে সিনিয়র পদগুলোতে খুব কম আসতে পারছে।
অন্যধারার কাগজ নামে একটি সাপ্তাহিকের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন মিসেস ইয়াসমিন।
মিসেস ইয়াসমিনের নিজের পত্রিকার সম্পাদক যদিও একজন নারী এবং তাকে খুবই সুযোগ্য বলে মনে করেন তিনি, যদিও তিনিও এই পদটি পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে।

মিসেস ইয়াসমিন বলছেন, “মেয়েরা কাজ করছে। কিন্তু এত বেশী সিনিয়র পোস্টে আসতে পারছে না। আমি বলব মেয়েদের এখানে ঠিকমত মূল্যায়ন করা হয়নি”।

“যখনই পদোন্নতির কথাবার্তা আসে, যেহেতু মেয়েরা কম, বসরা বেশীরভাগই পুরুষ, সেহেতু তারা একজন পুরুষকেই পদোন্নতি দেন তারা। যদিও কাজের বেলায় মেয়েরা কিন্তু কোথাও কম কাজ করেন না”।

“মেয়েদেরকে কিন্তু ডাবল পরিশ্রম করতে হয়। তিনি যে মেয়ে, তিনি যে পারেন, একথা বোঝানোর জন্য তাকে একরকম পরিশ্রম করতে হয়। পুরুষ সহকর্মীর সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য আরও পরিশ্রম। কর্মক্ষেত্রেই তার ডাবল পরিশ্রম”।

তবে নারীরা যারা এখন সাংবাদিকতায় আসছেন, তাদের উদ্দেশ্যে ফরিদা ইয়াসমিন বলছেন, “মেয়ে বলে কেউ কাউকে সুযোগ দেয়না। নিজের অধিকারটা নিজেকেই আদায় করে নিতে হবে।”

“আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে জানি, আমাকে প্রতিটা ক্ষেত্রে প্রচণ্ড লড়াই করে করে এগোতে হয়েছে।”

মিসেস ইয়াসমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিভাগে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন।

তার ভাষায় তিনি ছোটবেলা থেকেই সাংবাদিক হতে চেয়েছেন, প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন ছোটবেলা থেকেই।

স্বামী নঈম নিজামও বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত সাংবাদিক।

তাদের এক কন্যাও সাংবাদিক হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন সাংবাদিকতা বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছেন।বিবিসি

Print Friendly, PDF & Email
 
 

শীর্ষ খবর/আ আ

 
 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1045 বার
 
 

সর্বশেষ সংবাদ

 
 

সর্বাধিক পঠিত

 
 
 
 

জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:


কপিরাইট ©২০১০-২০১৬ সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত শীর্ষ খবর ডটকম

প্রধান সম্পাদক : ডাঃ আব্দুল আজিজ

পরিচালক বৃন্দ: সামছু মিয়া,
মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ফোন নাম্বার: +447536574441
ই-মেইল: info.skhobor@gmail.com