আজকে

  • ২রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং
  • ৩রা জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

আজ রাতে দেশ ছাড়ছেন প্রধান বিচারপতি

Pub: শুক্রবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৭ ২:১০ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৭ ২:১০ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

অবশেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশ যাওয়ার সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার রাতেই সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কথা। তবে আপাতত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার স্ত্রী যাচ্ছেন না বলেই জানা গেছে। তিনি হেয়ার রোডের সরকারি বাসার ব্যক্তিগত মালামাল অন্যত্র স্থানান্তর করে তবেই যাবেন। প্রধান বিচারপতির এ বিদেশযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। বিদেশে গিয়ে তিনি কি গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হবেন, কবে ফিরবেন বা আদৌ ফিরবেন কিনা- এ নিয়ে প্রশ্ন অনেকেরই।

এদিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশ যাওয়া সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গতকাল সকালে মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ মো. জহিরুল হক এ আদেশ জারি করেন।

নতুন আদেশে বলা হয়েছে- ‘প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অসুস্থতা ছুটি, বর্ধিত ছুটি অথবা তিনি পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তার দায়িত্ব পালন করবেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিঞা।’

আগের প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল- ‘৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন ওয়াহ্্হাব মিঞা।’ গতকালের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়- ‘গণপ্রজাততন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বর্ধিত ছুটিতে বিদেশে অবস্থানকালীন আগামী ২ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ থেকে ১০ নভেম্বর ২০১৭ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত, অথবা মহোদয় পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট, আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারক মাননীয় বিচারপতি জনাব মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনের দায়িত্ব প্রদান করেছেন।’

গত বুধবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির (গভর্নমেন্ট অর্ডার) ফাইলে স্বাক্ষর করেন।

এর আগে ২৫ দিনের অবকাশ শেষে গত ৩ অক্টোবর সুপ্রিমকোর্ট খোলার দিনই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এক মাসের ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এর পর গত মঙ্গলবার তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে তার বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি চিঠি দিয়ে অবহিত করেন। ওই চিঠিতে ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে চান বলে উল্লেখ রয়েছে। এর আগে তিনি সস্ত্রীক অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পাঁচ বছরের ভিসার জন্য দূতাবাসে আবেদন করেন। তাদের তিন বছরের ভিসা দেয় অস্ট্রেলিয়া দূতাবাস। দেশটিতে বর্তমানে তাদের বড় মেয়ে সূচনা সিনহা অবস্থান করছেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পক্ষে-বিপক্ষে অনেক দিন ধরেই সমালোচনা চলছিল। তিনি ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে ছিলেন। তার অপসারণেরও দাবি ওঠে দলটির নেতাদের পক্ষ থেকে। এ অবস্থার মধ্যেই সরকারের প্রতিনিধিরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকও করেন। প্রধান বিচারপতির ইস্যু নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়। সেখানে সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে সমালোচনায় বিদ্ধ করা হয়।

এমন প্রেক্ষাপটে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরেই গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটির আবেদন করেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এর পর আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। এ আলোচনার মধ্যেই গত সপ্তাহে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। এ সময় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের মুখে মুখে ফেরে ইস্যুটি। বিএনপি অভিযোগ করে চাপের মুখেই প্রধান বিচারপতি ছুটি নিতে বাধ্য হয়েছেন। ছুটিতে যেতে বাধ্য করার পর এখন চাপ দিয়ে তাকে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। সরকারি দলের নেতারা তখন পাল্টা বক্তব্য দিয়ে বলেন, প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে।

ওদিকে ছুটি নেওয়া, তা বাড়ানো এবং বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার চাওয়া অনুযায়ী সরকারের প্রজ্ঞাপন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি এ নিয়ে ‘রাজনীতি’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিচারপতি সিনহার ছুটিতে যাওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর এ আহ্বান জানান মন্ত্রী। হোটেল সোনারগাঁওয়ে লেজিসলেটিভ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আনিসুল হক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বলেন, বিচারপতি সিনহার ছুটির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত কিছু বলা হয়নি। প্রধান বিচারপতি যা চেয়েছেন, তা-ই প্রজ্ঞাপনে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এসব নিয়ে আন্দোলনের চেষ্টা করবেন না। এগুলো আন্দোলনের কোনো খোরাক নয়। এ ব্যাপারে কোনো আন্দোলন হবে না।

প্রজ্ঞাপনে ছুটি বাড়ানো বা অতিরিক্ত কিছু সংযোজন করা হয়েছে কিনা- সাংবাদিকদের প্রশ্নে আনিসুল বলেন, এটাকে বলতে হবে উনি যেটা চেয়েছেন চিঠিতে, যেটা আছে, সেটাই কিন্তু আমাদের সামারি বলেন, প্রজ্ঞাপন বলেন, সেখানে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। চিঠিতে ওনার ব্যক্তিগত সহকারী যেটা লিখেছেন, সেটা হচ্ছে উনি বিদেশ যেতে চান।

প্রধান বিচারপতি চারটি দেশে যেতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য- চারটি দেশে যেতে চান। ১৩ অক্টোবর দেশ ত্যাগ করতে চান এবং ১০ নভেম্বর দেশে ফিরে আসবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগে ছুটি নিয়েছিলেন ১ নভেম্বর পর্যন্ত। ওই ছুটিটা বর্ধিত করে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত করেছেন। সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হয়। সেই নিয়োগের কারণে অবহিত করেছেন, বলেন আইনমন্ত্রী।

বিএনপি অভিযোগের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, প্রধান বিচারপতি চিঠি লিখে ছুটি নিয়েছেন তার অসুস্থতার কারণ বলে। এটিকে রাজনীতিকীকরণ করা হচ্ছে। আমি মনে করি কোনো পয়েন্ট তো তারা আন্দোলন করার জন্য পায় না। তারা চেষ্টা করে খড়কুটো ধরে আন্দোলনটা যদি করা যায়।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় রিভিউয়ের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি শুনেছি, গতকাল বা গত পরশু এ রায়ের কপি পেয়েছি। এটি ৭৯৯ পাতার জাজমেন্ট এবং প্রতিটি লাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করব ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশন দাখিল করার।

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বিষয়ে পদ্ধতিগত পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা এবং ফল নিরূপণের নামই হচ্ছে লেজিসলেটিভ ইমপেক্ট অ্যাসেসমেন্ট বা রেগুলেটরি ইমপেক্ট অ্যানালাইসিস।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1640 বার

 
 
 
 
অক্টোবর ২০১৭
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« সেপ্টেম্বর   নভেম্বর »
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com