আইজিপি হচ্ছেন মোখলেসুর রহমান!

Pub: সোমবার, জানুয়ারি ৮, ২০১৮ ১১:৩৮ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, জানুয়ারি ১০, ২০১৮ ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা: চলতি মাসেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকের। আর তাই কে হচ্ছেন পরবর্তী পুলিশ প্রধান এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বর্তমান আইজিপি শহীদুল হককে পুনরায় বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ যে দেয়া হচ্ছে না এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আর তাই পরবর্তী আইজিপি হিসেবে এখন পর্যন্ত চারজনের নাম এসেছে আলোচনায়। তারা হলেন, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. মোখলেসুর রহমান, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‍্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ও ডিএমপি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া। এরমধ্যে প্রথম দুজনের অবস্থান বেশ শক্ত। পিছিয়ে নেই বাকী দুজনও।

আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ জানুয়ারি। তাই পদটি পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা চলছে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে। অতিরিক্ত আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারীর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা থাকায় তাঁর প্রতিপক্ষ বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ, জাবেদ পাটোয়ারী সরকারবিরোধী একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক। ওই অভিযোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখাও করেন কয়েকজন।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আইজিপি পদে নিয়োগ দিতে দুজনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোভাব ইতিবাচক। এরা হলেন জাবেদ পাটোয়ারী ও মোখলেসুর রহমান। তাদের কর্মজীবন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে মোখলেসুর রহমানই রয়েছেন পছন্দের একেবারে শীর্ষে।

সম্ভাব্য আইজি কে হচ্ছেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই হঠাৎ করে রবিবার (৭ জানুয়ারি) আরেকধাপ পদোন্নতি পেয়েছেন মোখলেসুর রহমান। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ অধিশাখার উপসচিব মো. ইলিয়াস হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেসুর রহমানকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত) গ্রেড-১ (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর  ৭৮ হাজার টাকা (নির্ধারিত) পদে পদোন্নতি প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য গত ৩ বছর ধরে তিনি পুলিশ সদরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে অতিরিক্ত আইজিপি  (প্রশাসন ও অপারেসনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের আগে তিনি বাংলাদেশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট- সিআইডি’র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আগে তিনি পুলিশের ঢাকা বিভাগের ডিআইজি, পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (ট্রেনিং) সারদা পুলিশ একাডেমীর প্রিন্সিপাল (ডিআইজি) , বরিশাল আরআরএফের কমান্ডেন্ট, পুলিশ সুপার গাজীপুর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি-মতিঝিলসহ পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশ পুলিশের ৮৫ ব্যাচের সদাহাস্য ও সদালপি এই কর্মকর্তা চাকুরি জীবনের শুরু থেকেই অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন । তিনি সিআইডি প্রধান থাকার সময় ২১ আগস্ট  শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা মামলা ও আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার মামলাসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার সঠিক ও নির্ভুল তদন্ত করে চার্জশীট দেন।

এছাড়াও চাকরি জীবনের প্রথম দশকে তিনি রাজধানীর একটি স্পর্শকাতর জোন থেকে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি লে. কর্নেল ফারুক, লে. কর্নেল রশীদ ও খায়রুজ্জামানকে গ্রেফতার করেন। ১৯৯৬ সালের ১৩ ই আগস্ট তিনি এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন । এসময় তিনি এসবি’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ৭৫ পরবর্তী সময়ে এটিই ছিল জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু’র খুনিদের বিরুদ্ধে সরকারের নেয়া প্রথম পদক্ষেপ। পুলিশের এসবি’র মত একটি নন অপারেশনাল ইউনিটের এটি অনবদ্য অপারেশান । বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত এটাই এসবি’র একমাত্র অপারেশন। এর আগে বা পরে আর কখনোই এসবি কোন অভিযান পরিচালনা করেনি। মোখলেসুর রহমানের চাকরির মেয়াদ রয়েছে ২০১৯ সালের মে মাস পর্যন্ত।

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী জাবেদ পাটোয়ারী বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন ১৯৮৬ সালে। ১৯৮৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা চাকরির প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে বর্তমানে পুলিশের সর্বোচ্চ পদের এক ধাপ নিচে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে কর্মরত আছেন। তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে ২০২০ এর এপ্রিল পর্যন্ত।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেল জীবনের ওপর লেখা গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’-এর বিভিন্ন ‘ডকুমেন্ট’ সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ড. জাবেদ পাটোয়ারী। এতে খুশি বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যরা। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত জাতির জনকের ঘটনাবহুল জেল-জীবনচিত্র স্থান পেয়েছে ওই গ্রন্থে। গত বছর ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কারাগারের রোজনামচা প্রকাশিত হয় বাংলা একাডেমি থেকে।

পরবর্তী আইজিপি হওয়া নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে র‍্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের নামও। ১৯৮৫ সালের বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়া বেনজীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।

তিনি সন্ত্রাস দমন বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসেবে বসনিয়া ও কসোভোতে কাজ করে এসেছেন সাবেক এই ডিএমপি কমিশনার। ২০২২ এর সেপ্টেম্বর মাসে তার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

গত তিন বছর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তাঁর চাকরির মেয়াদ রয়েছে ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত।

পুলিশের বর্তমান আইজি একেএম শহীদুল হকের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ জানুয়ারি। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি এই পদে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ  হয়ে ১৯৮৬ সালে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন শহীদুল হক।

এরপর শহীদুল হক চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জ জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ছাড়াও শহীদুল হক বাহিনীর নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 2305 বার