আজকে

  • ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৬শে মে, ২০১৮ ইং
  • ১০ই রমযান, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

ম্যাডাম খালেদা জিয়া লক্ষ কোটি কোকো’র প্রেরণার আঁধার

Pub: বুধবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১৮ ৩:৩১ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১৮ ৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র, দুই কন্যার গর্বিত পিতা আরাফাত রহমান কোকো আজ থেকে তিন বছর পূর্বে ২৪ জানুয়ারি ২০১৫ রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মালয়েশিয়ায় নির্বাসিত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহী রাজিউন)। বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর বড় ভাই। তাঁর এ আকষ্মিক ও অকাল মৃত্যুতে জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতিটি নেতা কর্মীর পাশাপাশি বাংলাদেশী জনগোষ্ঠী আজো শোকে মূহ্যমান।
দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হলেও কোকো ছিলেন অন্যরকম। স্বল্পভাষী ও লাজুক স্বভাবের মানুষ ছিলেন তিনি । শিশুদের খুব ভালোবাসতেন এবং শিশুদের পেলেই চকলেট উপহার দিতেন। তিনি রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় ছিলেন না। ক্রীড়া সংগঠক ও শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), মোহামেডান স্পোর্টং ক্লাব ও সিটি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
১৯৮১ সালের ৩০ মে পিতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে শহীদ হবার পর মা খালেদা জিয়ার একক স্নেহ, ভালোবাসা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে বড় হয়ে উঠেন আরাফাত রহমান কোকো। পুত্রের অকাল মৃত্যুতে স্বাভাবিক ভাবেই ‘মা’ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবার গভীরভাবে শোকাহত । বিএনপির লক্ষ্য কোটি সন্তান সমতুল্য নেতা কর্মীর ‘মা’ হিসেবেও মুক্তিযুদ্ধের সময় মাত্র সাত মাস বয়সে বন্দী শিশু আরাফাত রহমান কোকোর প্রতি তাঁর একটু বাড়তি দ্বায়িত্ব ছিল। কারণ ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ যার কাছ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা আশা করেছিল তিনি পাকিস্তানি সৈন্যেদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এমনকি তাঁর পরিবার তৎকালীন পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের কাছ থেকে বেতন ভাতাও গ্রহণ করেন । আর ছোট শিশু কোকোর পিতা তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান নেতৃত্বহীন জাতিকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘উই রিভোল্ট’ বলে সশস্ত্র যুদ্ধের ডাক দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়লে, পাকিস্তানি স্বৈরশাসকগোষ্টির কাছে নিজের পরিবারের সকল সদস্যকে ‘প্রধান টার্গেটে’ পরিনত করেন।
১৯৭০ সালের ১২ আগস্ট কোকোর জন্মের কিছুদিন পরই শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। বাবা জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে বিদ্রোহ করে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বেতারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অন্যদিকে মা খালেদা জিয়া বড় ছেলে তারেক ও সাত মাস বয়সী কোকোকে নিয়ে শুরু করেন মুক্তির সংগ্রাম। প্রথম কিছুদিন চট্টগ্রামেই আত্মগোপন করে থাকেন। পরে ১৯৭১ সালের ১৬ মে নৌপথে নারায়ণগঞ্জ হয়ে বেগম খালেদা জিয়া দুই পুত্রসহ ঢাকায় চলে আসেন। বড় বোন খুরশীদ জাহানের বাসায় থাকেন ১৭ জুন পর্যন্ত । ১৯৭১ সালের ২ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীতে এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাকিস্তানী সেনারা দুই পুত্র- তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পাঁচ মাস ধরে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দী ছিলেন দুই শিশু পুত্রকে নিয়ে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে পাকিস্তানীরা আত্মসমর্পণ করলে স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় এলো। মুক্তি পেলেন এক সংগ্রামী মা ও তাঁর দুই শিশু পুত্র- সাত মাস বয়সী আরাফাত রহমান কোকো ও তাঁর বড় ভাই তারেক রহমান।
তখনকার বড় নেতার পরিবার পেলো রাজকীয় ভাতা এমনকি বর্তমান সরকারের প্রধান আওয়ামী সভানেত্রী শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মের পরে পাকিস্তানি সৈন্যরা মিষ্টি পর্যন্ত বিতরণ করলো । অপরদিকে সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে মেজর জিয়াউর রহমান যুদ্ধের ময়দানে থেকে লড়াই করার অপরাধে তাঁর দুধের শিশু আরাফাত রহমান কোকোর সাথে তাঁর মা খালেদা জিয়া ও বড় ভাই তারেক রহমানের জায়গা হলো পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। বিষয়টি কত নির্মম ও হৃদয় বিধারক তা কল্পনারও বাইরে ।
ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর পরিহাস; মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীরমুক্তিযোদ্ধা, সেনাবাহিনী প্রধান এবং রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সেই পুত্র কোকো, তাঁর মা যিনি আবার দেশের সবচেয়ে বৃহৎ ও জনপ্রিয় দলের প্রধান, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী (গত সবকটি জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র নেতা যিনি সর্বোচ্চ আসনের সবকটি আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে প্রতিবারই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জনগণ কর্তৃক যিনি নির্বাচিত হয়েছেন) মৃত্যুর পূর্বে প্রায় আট বছর অসুস্থ সন্তানটির মুখ দেখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত ছিলেন তিনি। একজন মা’র কাছে এর চেয়ে কষ্টের আর কি হতে পারে? শুধুমাত্র দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়াতে কোকো রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত হন। যা ছিল খুবই দুঃখ্যজনক এবং লজ্জাজনকও বটে।
দুই:
ঢাকার বিএএফ শাহিন স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলেন আরাফাত রহমান কোকো । বাবা শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর পড়ালেখা করার জন্য চলে আসেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত চাচার কাছে। এখান থেকে ওলেভেল শেষ করে চলে যান আমেরিকা। আমেরিকা থেকে এ লেভেল শেষ করেন । এরপর তিনি অস্ট্রেলিয়ার মনাশ ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে, সিভিল এভিয়েশনে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহন করেন । আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন একজন রেজিস্টার্ড পাইলট । কিন্তু মা ভয় পেতেন বলে আর পাইলট হিসাবে যোগ দেয়া হয়ে উঠেনি । ফিরে এলেন প্রিয় মাতৃভূমি মায়ের কোলে বাংলাদেশে ।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে কোকো অসামান্য অবদান রাখেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে ২০০৩ সালে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। সেই সাথে বিসিবি’র একজন সদস্যও ছিলেন তিনি। বিসিবির ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য যে কর্মসূচি শুরু করেছিলেন তিনি, বর্তমানে তার সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিরপুরে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম রূপ দেওয়া হয়েছিল তাঁরই উদ্যোগে। বর্তমানে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্বে যে বাঘের গর্জন শোনায় তার পেছনেও বড় অবদান কোকোর। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে এ ক্রিকেটপ্রেমী ছুটে বেড়িয়েছিলেন শহর থেকে গ্রামে গ্রামে। জাতীয় পর্যায়ে ক্রিকেট খেলোয়াড় তৈরি করার জন্য ক্রিকেটকে জেলা থেকে শুরু করে উপজেলা, গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আর এই চেষ্টার ফলে যে সকল ক্রিকেটাররা জাতীয় দলে আসছেন তাদের সামনে দাঁড়াতে পারছেন না বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের অনেকেই। বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন যোগ্যতা ও দক্ষতায় বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। তাছাড়া তিনি মোহামেডান ক্লাবের এক্সিকিউটিভ কমিটির সংস্কৃতি সম্পাদক ছিলেন।
দেশের মানুষ রাজনীতির কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পাশাপাশি তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানের নাম জানলেও আরাফাত রহমান কোকোর নাম খুব বেশি জানতো না। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হলেও তাঁর নামে পত্রিকায় কোনো ধরনের নেগেটিভ সংবাদ কারো চোখে পরেনি। কিন্তু রাজনীতিতে সক্রিয় না থেকে এমনকি রাজনৈতিক কোন অভিলাষ না থাকলেও দুর্ভাগ্যজনক ভাবে রাজনীতির বলি হতে হয়েছে ক্ষণজন্মা আরাফাত রহমানকে । তিনি ছিলেন একজন মার্জিত, বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষিত, ক্রিকেট প্রেমী, সর্বোপরি তিনি ছিলেন একজন প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত পাইলট । তাঁর বিরুদ্ধে যখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা শুরু হলো তখন প্রতিহিংসার রাজনীতির নোংরা খেলার বাইরে এসে দেশের গণ মাধ্যমসহ মিডিয়ার দ্বায়িত্বশীল আচরণ চোঁখে পড়েনি। মিডিয়ার পক্ষপাত্দুষ্ঠতা ছিল খুবই লজ্জার ও বেদনাদায়ক। রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার একজন আরাফাত রহমান কোকোকে হয়তো আমরা আর কোনোদিন ফিরে পাব না, কিন্তু মিডিয়ার দ্বায়িত্বশীল আচরণ কি ফিরে পাব?
তিন:

কালিমালিপ্ত ১/১১’র অন্তর্বর্তীকালীন জরুরী সরকারের সময়ে আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদ এবং তাদের এদেশীয় দালালদের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে ‘মাইনাস’ করা ও বিএনপিকে সুপরিকল্পিতভাবে ‘বিলীন’ করার চক্রান্তে সফল হতে না পেরে বেগম জিয়াকে জোরপূর্বক বিদেশে পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্ঠা করা হয়। তখন একটি বিষয় ওপেন সিক্রেট ছিল যে, বেগম খালেদা জিয়াকে চাপে রাখার জন্য এবং ‘জাতীয়তাবাদী শক্তিকে’ নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার নিমিত্তে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে গ্রেফতার করে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের আপোষহীন নেত্রী সেদিন কোনো কিছুর সাথেই আপোষ করেননি।
শহীদ জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক জাতীয়তাবাদের আজকের অগ্রপ্রতিক বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ও সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মরহুম মাহবুব আলী খানের কন্যা ডা. জোবায়দা রহমানের বক্তব্য থেকে বিষয়টির শতভাগ সত্যতা প্রমাণিত। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর ডা. জোবায়দা রহমান লিখেছিলেন, ‘মায়ের কাছে সন্তানের চেয়ে দেশ বড়।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘মায়ের (খালেদা জিয়া) কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল- সন্তান (তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান) না কি দেশ? এর উত্তরে মা বলেছিলেন- দেশ। এরপর অমানুষিক নির্যাতন নেমে এলো তাঁর দুই সন্তানের উপর। এক সন্তানের পায়ের হাড়গুলো ভেঙে দেয়া হলো, আরেক সন্তানকে ইলেকট্রিক শক’এর সাহয্যে ব্রেন ড্যামেজ করে দেয়া হলো।
এরপর আবার সেই ‘মা’কে জিজ্ঞেস করা হলো- আপনার কাছে সন্তান বড় না কি দেশ? উনি কেঁদেছেন। চোখের পানি ফেলতে ফেলতেই বলেছেন- দেশ। এই দেশ আমার ‘মা’ এই দেশ আমার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন। আমি আমার মায়ের কাছেই থাকবো আমার স্বামীর স্বপ্নের দেশেই থাকবো। আমার দুই সন্তানকে আমি আল্লাহর কাছে সপে দিয়েছি। আমি বেঁচে থাকবো আমার ১৬ কোটি সন্তানদের মাঝে।’ (সূত্র: দৈনিক আমাদেরসময় ডটকম, ২৮ জানুয়ারী ২০১৫) ।
দুর্ভাগ্যের বিষয়, বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ জিয়া পরিবারের একজন সদস্য হবার কারণেই ৭১’এর শিশু মুক্তিযুদ্ধা আরাফাত রহমানকে নানামূখী জুলুম-নির্যাতন, হেনস্তা ও অপপ্রচারের শিকার হতে হয়েছে। অসুস্থ হয়ে প্রবাসে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেও তিনি চরম প্রতিহিংসামূলক বৈরিতা থেকে নিষ্কৃতি পাননি। শুধু কি তাই, যার বাবা স্বাধীন বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটি আধুনিক সেনাবাহিনী গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তাঁর ছেলের লাশ পর্যন্ত সকল নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে সেনাবাহিনীর পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত গোরস্তানে সমাহিত করতে দেয়া হয়নি। এতে করে বর্তমান ফ্যাসিবাদের শাসনকালে বিশ্ব ইতিহাসে প্রতিহিংসার এক নতুন নজির স্থাপন করা হলো।
চার:
আজ সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা জেল থেকে ছাড়া পায়, আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার নামে দায়েরকৃত চার্জশিট হওয়া মামলাও আদালতকে পাশ কাটিয়ে নির্বাহী ক্ষমতাবলে প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সকল কাজের বৈধতা দানের শর্তে (এছাড়া ভারতের ভূমিকার কথা সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মূখার্জি বইয়ে পরিষ্কারভাবে ফুঠে উঠেছে) ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ৭১’র শিশু মুক্তিযুদ্ধা আরাফাত রহমান কোকোর প্যারোলের মুক্তির সময়সীমা আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। শুধু কি তাই, খোঁজ নিয়ে জানা যায় দুদকের কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন চুপ্পু কোকোর বিরুদ্ধে যে একাউন্ট থেকে অর্থ পাচার হয়েছে বলে মামলা করেছিলেন, সেই একাউন্ট এর খোলার যে তারিখ দেয়া হয়েছে তখন আরাফাত রহমান জেলে ছিলেন। জেলে থেকে একজন মানুষ কিভাবে ব্যাঙ্কে একাউন্ট করতে পারলেন, তার উত্তর কেউ দিতে পারেন নি। তাই আলেকজান্ডারের সেই উক্তি ফের উচ্চারণ করে বলব, ‘সত্যিই সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ!’
তবে যারা শহীদ জিয়ার রক্তে গড়া দক্ষ ও প্রশিক্ষিত, দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীর ৫৭ জন মেধাবী ও চৌকষ অফিসারদের একদিনে হত্যা করতে পারে, তাদের জন্য সব কিছুই করা সম্ভব। জাতির বীরত্বের প্রতীক সেনাবাহিনী নিশ্চয় সবকিছু অবলীলায় ভুলে যাবে না। ‘এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে, এই দিনকে তারা নিয়ে যাবে সে দিনের কাছে।’ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে ‘আপোষহীন’ আর ‘দেশনেত্রী’ ও ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ খ্যাতাব প্রাপ্ত বর্তমানে দেশের মানুষের ভোটের অধিকার, গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারের লড়াইয়ের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শোককে শক্তিতে পরিনত করে স্বাধীনচেতা জাতি হিসেবে বেঁচে থাকার প্রেরণার উৎস হয়ে রইবেন আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে । তিনি তাঁর ‘কোকোকে’ খোজে পাবেন লক্ষ্য কোটি সন্তানতুল্য নেতা কর্মী আর দেশপ্রেমিক জনতার মাঝে।
‘আরাফাত রহমান কোকোর জানাজার পর যখন দেশের সকল প্রথম শ্রেনীর পত্রিকা আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া লিড নিউজ করে ‘যতদূর চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ’। ‘কোকোর জানাজা ঘিরে রাজধানী ঢাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে’। তখন অনেক কষ্টের মাঝেও বুকটা ভরে গিয়েছিল । বিজ্ঞানের একজন ছাত্র হিসেবে সর্বোপরি একজন বিশ্বাসী হিসেবে বলতে পারি ‘বেঁচে থাকাটাই আকস্মিক’ বরং ‘মৃত্যুই অবধারিত’। তবে সকল মৃত্যু সমান নয়, কোনো মৃত্যু গৌরবের আর কিছু মৃত্যু অপমানের। আরাফাত রহমান কোকোর জানাজায় লক্ষ্য লক্ষ্য দেশ প্রেমিক মানুষ উপস্তিতি হয়ে আবারো জানান দিলো শহীদ জিয়ার বাংলাদেশে ‘জিয়া পরিবারই’ সেরা আর সকলের প্রিয় কোকো ভাইয়ের প্রতি প্রতিহিংসার জবাব দিতে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাই পূত্রশোককে শক্তিতে পরিনত করে দেশের গণ মানুষের নেত্রী খালেদা জিয়া দেশের আপামোর জনগণের আবেগাপ্লুত ভালবাসায় সিক্ত হয়ে সকলের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে যথার্থই বলেছিলেন ‘গণমানুষের ভালবাসা জিয়া পরিবারকে আবারো কৃতজ্ঞতার ঋণে আবদ্ধ করলো’। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১/১১’র সময়ে যেভাবে বলেছিলেন ‘আমি বেঁচে থাকবো আমার ১৬ কোটি সন্তানদের মাঝে’, ঠিক তেমনি আজ বেগম খালেদা জিয়া এক ‘কোকো’ হারিয়ে লক্ষ কোটি কোকোর প্রেরণার আঁধার।
আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন -আমিন।
লেখক: ডক্টর এম মুজিবুর রহমান
প্রথম প্রকাশ: লন্ডন, ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ ।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1780 বার

 
 
 
 
জানুয়ারি ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« ডিসেম্বর   ফেব্রুয়ারি »
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
 
 
 
 
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com