English Version   
আজ শনিবার,২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৩রা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

আজকে

  • ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
  • ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
  • ৩রা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 

শীর্ষখবর ডটকম

চট্টগ্রাম-১১ আসন আমির খসরুর সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

Pub: বুধবার, আগস্ট ১৬, ২০১৭ ৬:০৭ অপরাহ্ণ   |   Modi: বুধবার, আগস্ট ১৬, ২০১৭ ৬:০৭ অপরাহ্ণ
 
 

শীর্ষ খবর

ইসমত মর্জিদা ইতি, চট্টগ্রাম:ক্লিন ইমেজধারীও হয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সামনে দাঁড়াবে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ। চ্যালঞ্জের বিষয়গুলো জানা গেছে নির্বাচনী  এলাকাবাসী, দলীয় সূত্র থেকে। মামলা, দলীয় কোন্দল, এলাকায় কম উপস্থিতি, আওয়ামী লীগে নেতৃত্বে রদবদলসহ কয়েকটি কারণে আগের ভোটব্যাংকে কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়বে আমির খসরুর।

চট্টগ্রাম-১১ আসনটি নগরীর  ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪১নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এ আসন থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মনোনোয়ন পাবেন বলে জানা গেছে। একই সাথে মনোনোয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে সাবেক এমপি রোজী কবিরেরও।

জানা গেছে, আবদুল্লাহ আল নোমান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিনের হাতে ছিলো চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির রাজনীতি। তাদের তিনজনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ছিলো মহানগর বিএনপিতে। এ নিয়ে কোন্দল তৈরী হলেও তাদের সরব উপস্থিতি নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকাতে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে আশা সঞ্চার করেছিলো। এলাকাবাসী ভেবেছিলেন, আগামী নির্বাচনে তারা তাদের প্রিয় নেতাকেই কাছে পাবেন।

কিন্তু বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পর স্থানীয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে সরে যান এই তিন নেতা। সবচেয়ে বেশি দুরত্বে চলে আসেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপিতে আসে শাহাদাত-বক্কর নতুন নেতৃত্ব।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে পাঁচজন নেতা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ পান।  আমির খসরু স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। আবদুল্লাহ আল নোমান আগের দুই মেয়াদের মতোই ভাইস চেয়ারম্যান রয়ে যান। মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকে হয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান। এ ছাড়া দলের যুগ্ম মহাসচিবের পদ পেয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি আসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মাহবুবুর রহমান।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির এর আগের কমিটির সভাপতি ছিলেন আমীর খসরু। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন শাহাদাত হোসেন। ২০০৯ সালে আমির খসরুর নেতৃত্বাধীন কমিটি ঘোষণার আগে সম্মেলন পণ্ড করে দেন নোমানের অনুসারীরা। এর আগে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মীর নাছির ছিলেন নগর কমিটির সভাপতি। তখন নোমান ও নাছির এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল বিএনপি।

এর মধ্যে প্রথম তিনজন নগর বিএনপির রাজনীতির মূল নিয়ন্ত্রক হলেও তা আর এখন নেই। কারণ কমিটি গঠনের পর থেকে আমির খসরুসহ তিন নেতা ঢাকায় বেশিরভাগ সময় কাটান। আমির খসরু দলীয় কর্মসূচি থাকলে চট্টগ্রামে আসেন। নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার সুযোগ পান না।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অবশ্য অকপটে স্বীকার করেছেন সে কথা। তিনি জানান, এখন আমি বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য। দলের মূল কর্মসূচি মূলত ঢাকা কেন্দ্রিক। তাই আমাকে বেশির ভাগ সময় ঢাকায় থাকতে হয়। তবে চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ আমার সবসময়ই থাকে।

কিন্তু যোগাযোগ থাকার কথাটা তিনি বললেও চট্টগ্রাম-১১ আসনের ভোটাররা বলছে ভিন্ন কথা। তার অনুপস্থিতিতে তার ভোটের হিসেব নিকেশে অন্য রুপরেখা খুজছেন। জানা যায়, চট্টগ্রাম-১১ কে মূলত বন্দর আসনই বলা হয়। এই আসনটিতে আছে চট্টগ্রাম বন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নৌঘাঁটি-বিমানঘাঁটি, তেল স্থাপনাসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা। তাই এ আসন থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা সবাই ব্যবসায়ী।

১৯৯০ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রথম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জয়ী হয়ে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী ও চট্টগ্রাম চেম্বারের তৎকালীন সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনবার বিজয়ী আমির খসরু ২০০৮ সালের নির্বাচনে হেরে যান চট্টগ্রাম চেম্বারের আরেক সভাপতি এম এ লতিফের কাছে। সেই থেকে বন্দর আসনের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত এম এ লতিফ।

কিন্তু নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে এম,এ লতিফের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার সুযোগে আগামী সংসদ নির্বাচনে এম,এ লতিফের দূর্গে হানা দিতে চায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আহব্বায়ক ও কার্যনির্বাহী সদস্য রোটারিয়ান হাজী মো. ইলিয়াছ।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন, তিনি পরপর দুইবার মনোনোয়ন আশা করেও তা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে তিনি এবার আশা করেন শেখ হাসিনা তাকে মূল্যায়ন করবেন।

তিনি লতিফ এমপিকে উল্লেখ করে বলেন, এই আওয়ামী লীগার বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে জনগণের জন্য কাজ না করে শুধু নিজের ভাগ্য গড়েছেন। এই অতিথি এমপি নিজেদের ভাগ্য গড়ে এখন আপন গন্তব্যে ফিরে যাবার প্রস্তুতি  নিচ্ছেন।

এই নেতা আরো বলেন, এম, এ লতিফ মহেশখালের উপর বাঁধ দিয়ে ৩ থেকে ৪ লাখ লোককে ডুবাইছে। এ এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। তিনি এ সমস্যা সমাধানের উপর জোর দিবেন। তাছাড়া যানজট সমস্যা তো আছে। দুটি ইপিজেড এ এলাকাতে থাকার পরও এ এলাকায় কোন হাসপাতাল নেই। নেই কোন মাতৃসদন হাসপাতাল, নেই ক্লিনিক। নেই সরকারী কলেজ। আর স্থানীয়রা রয়েছেন সরকারী হুকুমদাতাদের দখলে। বাপদাদাদের সম্পত্তি সরকারী বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়নের নামে দখল করে নিচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এ সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন। চট্টগ্রামের স্থানীয়দের কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান তিনি।

মহেশখালের অপসারণে সুজনের সোচ্ছার প্রতিবাদ চট্টগ্রাম-১১ আসনের জনগণের তার প্রতি সমর্থন বাড়াচ্ছে। এলাকাবাসীও চান নেতৃত্বের বদল হোক। কিন্তু এলাকাবাসীর এই বদলে যাওয়া মনোভাবকে আমির খসরু কাজে লাগাতে পারছেন না শুধু তার সরব উপস্থিতি এলাকায় নেই বলেই। এমনটিই বলছেন বন্দর থানা বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী। বন্দর থানার এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বন্দর আসনে লতিফকে নিয়ে যে ট্যানাহেচড়া চলছে, এই সুযোগটা লুফে নিতে পারতো আগামী নির্বাচনে বিএনপি। কিন্তু এ আসন থেকে আমির খসরু সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছেন না।

মহেশখাল বাঁধের পাশের স্থানীয় ব্যবসায়ী মোকতার হোসেন জানান, মহেশখালের উপর বাঁধের কারণে জোয়ার ও বৃষ্টির পনিতে আমরা কোমর পানিতে ডুবে থাকি। দোকানের জিনিসপত্র কয়েক দফায় পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।

আগামী নির্বাচনে কাকে জয়ী হিসেবে দেখতে চান, এ প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় এ ব্যবসায়ী জানান, আমি বিএনপি সমর্থক। তাই চেয়েছিলাম, এখান থেকে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আবার নির্বাচিত হোক। বন্দর আসনের মানুষের দুঃখ-দূর্দশা লাঘব করুক। কিন্তু তাকে তো আর কোন বিপদেই পাশে পাইনা। তিনি এখন বড় নেতা। আমাদের কথা ভাবার সময় তার এখন নেই। তাই আমাদের কথা যে ভাববে, তাকেই ভোট দিব। তাকেই এলাকা থেকে জয়ী করার জন্য কাজ করব। ক্লিন ইমেজধারী হয়েও আমির খসরু আমাদের কাছের মানুষ হয়ে উঠতে পারছেন না বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

জনসমর্থন ছাড়াও আমির খসরুর জন্য আরো এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, তা হলো মামলা। চট্টগ্রামে বিএনপির সম্ভাব্য প্রায় সব নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অধিকাংশ মামলার বাদী পুলিশ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে নগরীর কোতোয়ালী ও চকবাজার থানায় ৩টি মামলা রয়েছে। এ মালার রায়গুলো যদি আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে হয়ে যায়, তাহলে নির্বাচনে অংশ নেয়া তার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী লন্ডনে যাওয়ার আগে মুঠোফোনে জানিয়েছিলেন,  বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি অবশ্যই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। চট্টগ্রাম তার নিজের জায়গা। নিজের ঠিকানা। নিজের শিকড়ে থাকতে না পারলেও শিকড়বাসীর কাছে তার জায়গা সবসময় ছিলো, ভবিষ্যতেও থাকবে বলে জানান এই নেতা।

আগামী সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–১১ আসন থেকে বিএনপি থেকে মনোনোয়ান প্রত্যাশী সাবেক এমপি রোজী কবির। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমি বিএনপির রাজনীতি করছি। আর আমি জানি চট্টগ্রামবাসীর আশা আকাংখা। তাই চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে মনোনোয়ন পেলে ধানের শীষের কাছে নৌকার ভরাডুবি ঘটবে বলে মনে করেন এই নেত্রী।

Print Friendly, PDF & Email
 
 

শীর্ষ খবর/আ আ

 
 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1266 বার
 
 

সর্বশেষ সংবাদ

 
 

সর্বাধিক পঠিত

 
 
 
 

জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:


কপিরাইট ©২০১০-২০১৬ সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত শীর্ষ খবর ডটকম

প্রধান সম্পাদক : ডাঃ আব্দুল আজিজ

পরিচালক বৃন্দ: সামছু মিয়া,
মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ফোন নাম্বার: +447536574441
ই-মেইল: info.skhobor@gmail.com