অবশেষে এলো সেই জয়, সাবাস বাংলাদেশ

Pub: Tuesday, February 25, 2020 3:04 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ ছিল কুয়াশা মোড়ানো, বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। শঙ্কা ছিল- না জানি এবারও বিজয়ের পথে বাধ সাধে প্রকৃতি! না জানি বৃষ্টি এসে ভেস্তে দেয় জয়ের সুবাস পেতে থাকা ম্যাচে। কিন্তু মিরপুরে ফাল্গুনের আকাশটা তখনও টাইগারভক্তদের যেন কানে কানে অভয়বাণী শোনাচ্ছিল- ‘মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তাহার সুর্য হাসে’। তাইজুলের বলে যখন চার্লটন টিসহুমা এলবিডব্লিউর ফাঁদে পা দিয়ে ধীরে ধীরে প্যাভিলিয়নের পথ ধরলেন ততক্ষণে জিম্বাবুয়ের আশার শেষ সলতেটাও নিভতে শুরু করলো। আর গোটা বাংলাদেশ তখন সেই অভয়ের মন্ত্র বুকে ধারণ করে জয়োল্লাসে মাতলো। 

সফরকারী জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ১০৬ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রায় ১৪ মাস পর টেস্টে জয়ের দেখা পেলো বাংলাদেশ। একইসঙ্গে টানা ৬ টেস্টে হারের পর জয়ের ধারায় ফিরলো মুমিনুল-মুশফিকরা।  

ইনিংস পরাজয় এড়াতে জিম্বাবুয়ের দরকার ছিল ২৯৫ রান। ১১৪ রান তুলতেই প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে সেই লক্ষ্য থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় সফরকারীরা। এরপর বাকি ব্যাটসম্যানদেরও বেশিক্ষণ উইকেটে দাঁড়াতে দেননি তাইজুল ও নাঈম হাসানরা। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে কোণঠাসা করে তোলে জিম্বাবুয়েকে। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানো জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন যখন ৪৩ রানে রান আউট হয়ে ফিরছিলেন তখন জয়ের সঙ্গে ইনিংস ব্যবধানে জেতারও একটা বার্তা পাচ্ছিল মুমিনুল বাহিনী। শেষ পর্যন্ত তা-ই হলো। 

সবশেষ ২০১৮ সালে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১১১ রানে অলআউট করে ৩৯৭ রানের লিড নিয়েছিল টাইগাররা। সেই ম্যাচটি জিতেছিল ইনিংস ব্যবধানে। এরপর নিউজিল্যান্ড সফরে ২ ম্যাচ, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে একমাত্র টেস্ট, ভারত ও পাকিস্তান সফরে তিন টেস্টে একবারও লিড পায়নি বাংলাদেশ। বরং ওই ছয় টেস্টেই বরণ করতে হয়েছে লজ্জার হার। তাই এবার ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর পালা, সুদে-আসলে নিজেদের ফিরে পাওয়ার পালা। 

প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে ২৬৫ রানে থামিয়ে ব্যাট হাতে মুমিনুল (১৩২) ও মুশফিকুরের (২০৩*) দুর্দান্ত ব্যাটিং যেন নিজেদের ফিরে পাওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্তর ৭১, লিটন দাসের ৫৩ ও তামিম ইকবালের ৪৩ রান মিলে ৬ উইকেটে ৫৬০ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। 

সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে মুশফিক স্পষ্টই জানিয়েছিলেন- ‘আমাদের বোলাররা যেভাবে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরছে, আশা করি ইনিংস ব্যবধানেই জয় পাওয়া সম্ভব।’ মুশফিকের সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করলেন নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেয়া নাঈম দ্বিতীয় ইনিংসে তুলে নেন টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট। আর প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট পাওয়া অভিজ্ঞ তাইজুল ম্যাচ শেষে ‍ঝুলিতে পুড়েন মোট ৬ উইকেট। আর সবকিছুকে ছাপিয়ে ২০৩ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ খ্যাত সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। 

ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট হারের পর নতুন করে বাংলাদেশের টেস্ট খেলার যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছিল। এরপর ভারত ও পাকিস্তান সফরেও লজ্জাজনকভাবে হার। কিন্তু এবার জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সব সমালোচনা আর প্রশ্নের জবাব ব্যাটে-বলেই দিলো বাংলাদেশ। 

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ