অবিলম্বে টাস্ক ফোর্স গঠন করুন

Pub: Thursday, April 16, 2020 10:55 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশ্ববাসী বর্তমানে এমন এক মহাদূর্যোগের মুখোমুখি যা মোকাবিলার কোন প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতা কোনটাই নেই কারো। এর শেষ কবে এবং এর চূড়ান্ত পরিনতি কি হতে পারে তাও বিশ্ববাসীর অজানা।করোনার ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছে।এই মহামারীর পরবর্তী যে অর্থনৈতিক সুনামী আমাদের মোকাবেলা করতে হবে তার ভয়াবহতা সম্পর্কে চিন্তা করলে আঁতকে উঠি।।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী,সামরিক বাহিনী,আইন শৃঙ্খলা বাহিনী,প্রশাসনসহ অনেকেই পরিস্হিতি মোকাবিলায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন নিঃসন্দেহে।আমরা বারবার বলার চেষ্টা করেছি যে এ মহামারী মোকাবেলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভবপর নয়।সবাইকে নিয়ে জাতীয়ভাবে এগিয়ে যাওয়াই হবে যথার্থ।সরকারি কর্তা ব্যক্তিদের বক্তব্যে যে ধারণা পাওয়া যায় তাতে প্রতীয়মান হয় যে প্রতিটি কাজ তাঁরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই করছেন।তাঁদের নিজস্ব কোন চিন্তা ভাবনা বা সিদ্ধান্ত কাজ করে বলে মনে হয়না।বক্তব্যে তাঁরা দৃষ্টিকটুভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী র নির্দেশনার কথাই বলেন।এর তিনটি ব্যাখ্যা হতে পারে।

১। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া কোন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা দুরুহ।
২। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তুষ্ট করার চেষ্টা।
৩।দায়িত্ব এড়ানোর কৌশল।সব সিদ্ধান্তের দায় দায়িত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর।

আমাদের মনে রাখতে হবে কারো একার পক্ষে সব সিদ্ধান্ত নিজে গ্রহনের মাধ্যমে এ মহাদুর্যোগ মোকাবিলার চেষ্টা হবে আত্মঘাতি।আমাদের ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট তৈরির কাজও শুরু করতে হবে এবং এবছর কাজটি হবে অত্যন্ত চ্যালেন্জিং।অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজটি করতে হবে।প্রথাগত আমলাতান্ত্রিকভাবে একাজ কাজ করতে গেলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরী হতে পারে।বিভিন্ন মহল থেকে এক্সপার্ট গ্রুপ গঠনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।সার্বিক বিবেচনায় দূটি এক্সপার্ট গ্রুপ বা টাস্ক ফোর্স গঠন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে হচ্ছে। এদের কাজ হবে নির্মোহভাবে পেশাদারিত্বের সাথে সংশ্লিঁষ্ট বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেয়া।শুধু সরকারি লোকজন দিয়ে এগ্রুপ গঠন করলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাবেনা।এদের অনেক কেই প্রায়শ “সব কুছ ঠিক হ্যায়” জাতীয় বক্তব্য দিতে দেখা যায় যা বাস্তবতার নিরিখে যথার্থ প্রতীয়মান হয়না।সরকারি বেসরকারি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগাতে হবে।

ক।করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের জন্যে একটা এক্সপার্ট গ্রুপ বা টাস্ক ফোর্স গঠন করতে হবে।অন্যান্যদের মধ্যে স্বাস্হ্য সেবা,স্বাস্হ্য সেবা খাত ব্যবস্হাপনা এবং জন স্বাস্থ্য সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের এই টাস্ক ফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

খ। দ্বিতীয় টাস্ক ফোর্সের কাজ হবে অর্থনীতি নিয়ে পরামর্শ দেয়া।অর্থনৈতিক খাতে পরামর্শ দেবার জন্যে প্রয়োজন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের সেবা নেয়া।এদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের ইতিপূর্বে সরকারের অর্থনৈতিক খাত পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

গ।করোনা মোকাবিলার সরকারি কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা লক্ষ্যণীয়।স্বাস্হ্য মন্ত্রীর সভাপতিত্বে যে জাতীয় পর্যায়ের কমিটি রয়েছে তা কার্যকর নয় বলে মন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন।করোনা সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্যে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে একটা ফোকাল পয়েন্ট দরকার।বেসরকারি খাতের কেউ করোনা মোকাবিলা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে চাইলে তারাও যাতে এ ফোকাল পয়েন্ট এর সাথে যোগাযোগ করতে পারে তার ব্যাবস্হা রাখতে হবে।বর্তমানে এ ব্যবস্হাটি নেই।

বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানগন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই করোনা মোকাবিলা করছেন।স্মরণ করা যেতে পারে,১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখে বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের আগ মুহুর্তে ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সরকারি উপদেষ্টারা তাকে জানিয়েছিলন”স্যার,সব কুছ ঠিক হ্যায়”।

লেখক: সাবেক সচিব।

Hits: 1


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ