সাবেক গুম কমিশনের সদস্য
শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বাসিন্দা মিরাজ শেখের গুমের ২০০তম দিন আজ উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক গুম কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেছেন, গুমের ঘটনাটি ঘটেছে বর্তমান সরকারের আমলে। এই সরকারের আমলে গুমের একাধিক ভুক্তভোগী রয়েছেন। এরপরও সরকার এখন পর্যন্ত গুমের ঘটনাটির স্বাধীন তদন্ত করতে দেয়নি। বরং আইন করে স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা বিলুপ্ত করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাবিলা ইদ্রিস।
পোস্টে তিনি জানান, আইনগুলো জটিল করে ফেলার আগে তারা ব্যক্তিগতভাবে বারবার সতর্ক করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রীর তথাকথিত সদিচ্ছা দিয়ে এসব সমস্যার সমাধান হবে না। তখন সরকারদলীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাদের বক্তব্য কীভাবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, তা তার স্পষ্ট মনে আছে। সত্যি বলতে, নিরুপায় হয়ে একপর্যায়ে তিনিও সদিচ্ছার প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রেখেছিলেন। সরকারের অনেকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কারণে তার আশা ছিল, রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের পড়াশোনা থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা হয়তো এবার ভুল প্রমাণিত হবে এবং সদিচ্ছা দিয়েই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
মিরাজ শেখের গুমের পর সরকারের সদিচ্ছার সেই বয়ান নিয়েও তার চোখ খুলে গেছে বলে উল্লেখ করেন নাবিলা ইদ্রিস। তিনি জানান, একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যাদের তিনি ভরসার পাত্র মনে করতেন, তারা যখন তাকে স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটা ঠিক গুম না’, তখন তিনি খুব কষ্ট পেয়েছেন। তার প্রশ্ন, তখন সদিচ্ছা গেল কোথায়?
সরকারের সদিচ্ছার একই চিত্র অন্য ক্ষেত্রেও দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন নাবিলা ইদ্রিস। তিনি বলেন, শুরুতে সরকারের সমালোচনা করার কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে সরকার অন্তত বিব্রত হতো। কিন্তু দ্রুত সেই লজ্জাটুকুও উবে গেছে। এখন এসব গ্রেপ্তারের পক্ষে নির্লজ্জভাবে সাফাই দেওয়া হয়। বাকস্বাধীনতা বনাম বাকশালীনতার মতো ভিত্তিহীন তত্ত্ব আওড়ানো হয়। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে কটূক্তির অভিযোগ, এরপর মন্ত্রীর বিষয়ে কটূক্তির অভিযোগ সামনে আসে। সেখান থেকে সরকারের ও সরকারের নীতির সমালোচনা করতে করতে শেষ পর্যন্ত গতকাল সরকারি দলের সমালোচনা করার কারণেও একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এভাবেই দ্রুত সদিচ্ছার বয়ান ভেস্তে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) ‘সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ’ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নাবিলা ইদ্রিস বলেন, এ বক্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটলে স্বাধীন তদন্ত করার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশনও গঠন করা হয়নি। সংস্কার করা হলে ‘স্ট্রং গভর্নমেন্ট’ বা শক্তিশালী সরকারের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নাবিলা ইদ্রিসের ভাষ্য, এই প্রেক্ষাপটে আইজিপি সত্য কথাই বলেছেন। ভবিষ্যতে এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটলে তখন বলা হতে পারে, ‘ওটা ঠিক ক্রসফায়ার না।’ পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি সদিচ্ছার জন্য কৃতিত্ব নিতে চান, তাহলে সদিচ্ছার অভাবের দায়ও তাকেই নিতে হবে।













