• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

তথ্যপ্রযুক্তি

এআই নতুন সম্ভাবনা: যদি স্মার্টফোনই মনে রাখে প্রয়োজনীয় সবকিছু!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬ ৪:৫৪
আপডেট: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬ ৪:৫৪

 

নিজস্ব প্রতিনিধি
ছবিঃ প্রতিনিধি
একসময় মানুষ ভুলে যেত ডায়েরি, নোটবুক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাগজ। এখন ভুলে যাওয়ার ধরন বদলেছে। তথ্য হারায় না, বরং হারিয়ে যায় অংসখ্য নতুন তথ্যের ভিড়ে। প্রয়োজনের সময় একটি ঠিকানা, ব্যাংক লেনদেনের রসিদ, অনলাইন মিটিংয়ের নোট কিংবা কয়েক সপ্তাহ আগে দেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজে পেতে অনেককেই ফোনের গ্যালারি, ইমেইল বা মেসেজে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করতে হয়।

ডিজিটাল জীবনে এ যেন নতুন এক বাস্তবতা। প্রতিদিন স্মার্টফোনে জমা হচ্ছে অসংখ্য ছবি, স্ক্রিনশট, নোট, ফাইল ও বার্তা। তথ্য সংরক্ষণ করা যত সহজ হয়েছে, প্রয়োজনের মুহূর্তে তা খুঁজে বের করা ততটাই কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু আরও শক্তিশালী হওয়া নয়, বরং ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয় তথ্যকে অর্থপূর্ণভাবে মনে রাখা ও ব্যবস্থাপনা করা। এই জায়গাতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে।

এআই নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের বড় অংশ এখনো ছবি তৈরি, অনুবাদ বা ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো সুবিধাকে ঘিরে। কিন্তু প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে এআইকে আরও বাস্তবমুখী কাজে ব্যবহার করছে। লক্ষ্য একটাই—প্রযুক্তিকে এমনভাবে কাজে লাগানো, যাতে মানুষের প্রতিদিনের ছোট ছোট ঝামেলাগুলো কমে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে করপোরেট কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা কিংবা ফ্রিল্যান্সার—সবার ফোনেই প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন তথ্য। ক্লাসের স্লাইড, মিটিংয়ের সারসংক্ষেপ, টিকিটের বুকিং, বিলের রসিদ, গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবপেজ কিংবা হঠাৎ মাথায় আসা কোনো আইডিয়া। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব সংরক্ষণের সহজ উপায় হয়ে ওঠে একটি স্ক্রিনশট। কিন্তু কয়েক দিন পর সেই স্ক্রিনশটের ভিড়েই প্রয়োজনীয় তথ্যটি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

এই সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন স্মার্টফোন নির্মাতা এআইভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধা যুক্ত করছেন। সম্প্রতি বাজারে আসা ইনফিনিক্স হট ৭০ স্মার্টফোনে থাকা ফোলাক্স এআই (Folax AI) ইকোসিস্টেমও সেই ধারার অংশ। এতে ফ্ল্যাশমেমো, মাইন্ডহাব ও স্টাডি অ্যাসিস্ট্যান্ট (FlashMemo, MindHub ও Study Assistant)-এর মতো কয়েকটি টুল যুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীর তথ্যকে আরও গোছানো ও সহজে খুঁজে পাওয়ার উপযোগী করে তোলা।

এর মধ্যে ফ্ল্যাশমেমো ব্যবহারকারীকে একটি ট্যাপেই স্ক্রিনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণের সুযোগ দেয়। কোনো ঠিকানা, অনলাইন ক্লাসের তথ্য, সংবাদ, পেমেন্টের রসিদ কিংবা ওয়েবপেজের প্রয়োজনীয় অংশ সংরক্ষণ করলে সেটি শুধু ছবি হিসেবে নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিরোনামসহ একটি নোটে রূপান্তরিত হয়।

সংরক্ষিত এসব তথ্য পরে মাইন্ডহাব সাজিয়ে একটি অনুসন্ধানযোগ্য সংগ্রহে পরিণত করে। ফলে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পরেও নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক সহজ হয়। অন্যদিকে স্টাডি অ্যাসিস্ট্যান্ট শিক্ষার্থীদের ক্লাসের সময়সূচি, নোট ও বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত কাজ গুছিয়ে রাখতে সহায়তা করে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী দিনের এআই প্রতিযোগিতা শুধু কে বেশি কনটেন্ট তৈরি করতে পারে, তার ওপর নির্ভর করবে না। বরং কোন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর সময় বাঁচাতে পারে, তথ্যের বিশৃঙ্খলা কমাতে পারে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে সঠিক তথ্যটি সামনে এনে দিতে পারে—সেই সক্ষমতাই হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সাফল্য নির্ধারণ করে তার জটিলতা নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতটা বাস্তব উপকার এনে দিতে পারে তার ওপর। আর সেই বিবেচনায় ভবিষ্যতের সবচেয়ে স্মার্ট স্মার্টফোন হয়তো সেটিই হবে, যেটি শুধু মানুষের কথা শোনে না, বরং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোও মনে রাখে।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম