একজন নামসর্বস্ব আইটি প্রফেশনালের করোনা গাঁথা

Pub: Friday, May 22, 2020 3:52 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনা পৃথিবীর প্রায় সবাইকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘরবন্দী করলেও মানুষে-মানুষে যে যোগাযোগ তা এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয়নি। বেশির ভাগ অফিস আদালতই চলেছে বড় ধরনের সমস্যা ছাড়া। এর পেছনে মূল ভূমিকায় রয়েছে ইনফরমেশন টেকনোলজির উৎকর্ষ ও এই পেশায় নিয়োজিত ব্যাক্তিদের নিরলস পরিশ্রম।

এসেনশিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে ডাক্তার, নার্স ও পুলিশদেরকে সবাই গোনে ও জানে। যারা ইউটিলিটি সার্ভিস দেয়, তাদেরকে পুলিশের মত রাস্তায় দেখা যায় না বলে অধিকাংশ লোক ধারণাও করতে পারে না যে তারা যে কিছু সাধারণ সার্ভিস পাচ্ছে তার পেছনেও ডাক্তার-পুলিশদের মত আরও অনেক লোক কাজ করছে।

ডাক্তারি ও পুলিশি সেবার মত বর্তমান সময়ে আইটি সেবাও একটি এসেনশিয়াল সেবা। অন্য সময় না হোক, এই করোনাকালে হলেও সবার তা উপলব্দি করার কথা। বিধিবাম, অধিকাংশ লোক তা বুঝতে চায় না। আর যারা বুঝে তারা তা স্বীকার করে না কারণ স্বীকৃতি দিলে আইটিকে গোনায় ধরতে হয়। আর যখনই গোনায় ধরার ব্যাপার আসে, সাথে অন্যকিছুও আসে।

কেউ আইটিকে গোনায় ধরুক আর না ধরুক, সবাই আইটির মধ্যেই আছে। মানুষের মৌলিক অধিকার এখন আর পাঁচটি নয়, ছয়টি। ছয় নম্বরেরটি ইন্টারেনেট। এই ইন্টারনেট আইটির অসংখ্য সার্ভিসের মধ্যে একটি।

ডাক্তারের যেমন মানুষকে ইনজেকশন দিতে রোগির সাথে সরাসরি যোগাযোগের দরকার হয়, আইটির অধিকাংশ সার্ভিসের ক্ষেত্রেই এই শারিরীক উপস্থিতির দরকার হয় না। আইটি সার্ভিসের ৮০-৯০% দূর থেকে খুব ভাল ভাবে সম্পাদন ও নিয়নন্ত্রণ করা যায়। তাই আইটির বাকি ১০-২০% কাজ যা চোখের সামনে হয়, কারও কাছে শুধু সেটুকুকেই কাজ মনে হয়। এমটি যে ভাবে তা তাদের জানার সীমাবদ্ধতা ও চিন্তার দারিদ্রতা।

লোকজন যে কাজটি করতে ঘন্টার পর ঘন্টা যুদ্ধ করে, আইটি সে কাজটি নিমেষে করে দেয়। এর পেছনে রয়েছে আইটির দীর্ঘ প্রস্তুতি। আইটি প্রফেশনালদের একাডেমিক জীবনে অন্য ডিসিপ্লিনের তুলনায় অনেকটা ভিন্ন পথে যেতে হয়। কারণ তাদের একাডেমিক পড়াশোনা বিজ্ঞানের সবচেয়ে জটিল, অগ্রসর ও দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি শাখা নিয়ে। এমনটি ভাবা অবাস্তব না যে কম্পিউটার সায়েন্সের কোন একটি টপিক বুঝতে বা আয়ত্বে নিতে একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্রকে যে পরিমাণ শ্রম দিতে হয় বা চিন্তা করতে হয়, অন্য বেসিক কোন ডিসিপ্লিনের পুরো একটি সাবজেক্ট আয়ত্বে নিতে অন্যদের হয়ত তার সিকিভাগ নিউরণ খরচ করতে হয় না। ছাত্রজীবনে এভাবে অতিরিক্ত পড়ে আসা প্রাণিটা প্রফেশনাল জীবনে এসেও বসে নেই। নিত্য-নতুন টেকনোলজির সাথে তালমেলাতে তাকে পড়াশোনা ও নানা ট্রেইনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সাথে আছে এই পড়াশোনা ও ট্রেনিংয়ের বাড়তি খরচ।

এমন একটি দৃশ্য নিশ্চিত কল্পনা করা যায় যে, আপনি যে সময় অফিস থেকে ফিরে বাচ্চাকে মায়াপুরীর গল্প শোনাচ্ছেন বা কোন রকে বসে ইয়ার দোস্তদের সাথে আড্ডা দিচ্ছেন, ঠিক সে সময়ে আপনার আইটির কলিগটি ইন্টারনেটে নতুন একটি টেকনোলজি নিয়ে পড়ছে বা কোন একটি নতুন সমস্যা যা আজকে নির্ধারিত সময়ে সমাধান হয়নি তা নিয়ে ঘন্টার ঘন্টা পার করছে বা রাস্তায় বসেই রিমোট ভিপিএনে কর্মক্ষেত্রের ডাউন হয়ে যাওয়া কােন গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস আপ করছে।

আইটি প্রফেশনালদের প্রায়ই নতুন সমস্যা নিয়ে কাজ করতে হয়। এটি একই সাথে উপভোগ্য আবার দারুণ চ্যালেন্জিংও। এজন্য আইটির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে সবচেয়ে বেশি। বিশ বিলিয়ন ডলার খরচ করে বানানো উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে ব্যাবহারকারীদের যেমন অভিযোগের অন্ত নেই, তেমনি ৩৫ হাজার টাকা দামের ‘এমএস অফিস’ এর চুরি করা ক্র্যাক ভার্সন ব্যাবহার করে ভুল এড্রেসে ইমেইল পাঠিয়ে কেন ফেইলিউর মেসেজ আসে সে জন্যও শুনতে হয় অসংখ্য অভিযোগ।

সবকথার শেষ কথা, যা দেখা যায়, শুধু তাই সব নয়। এই মহাবিশ্বের ৯৬% ডার্ক ম্যাটার। আইটি ও আইটির জগতও তাই। ওই অধরা তমোবস্তু নিয়েই এই বিশ্বজগত।

বি.দ্র. এই লেখা পড়ে অন্য ডিসিপ্লিন বা প্রফেশনের কেউ ইনফিরিয়রিটি বা সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্সে ভুগলে লেখক ওরফে আরেফিন দায়ী নহে।
(লেখাটি ফেইজবুক থেকে নেয়া)
লেখক- এ বি এম শামসুল আরেফিন
ডিজিএম, আইটি
নিউ এশিয়া গ্রুপ

Hits: 90


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ