করোনা ভাইরাস, বিশেষ শিশু-আমাদের করণীয়

Pub: Friday, April 3, 2020 12:16 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কোভিড-নাইনটিনের বিস্তার নিয়ে সবাই চিন্তিত এবং এ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপই সবাই জানার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমাদের বিশেষ শিশুরা বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে পিছিয়ে, তাই তাদের নিয়ে মা-বাবার চিন্তা একটু বেশি। করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) এর ঝুঁকি রোধে করণীয়:১।  ঘন ঘন সাবান পানি দিয়ে ভালো করে (২০ সেকেন্ড ধরে) হাত পরিষ্কার করা।২।  হাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় হাতের কনুই এর ভাঁজ ব্যবহার করা।৩।  অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা।৪।  হাঁচি, কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ৩ ফুট দূরে থাকা।৫।  গণপরিবহন ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলা ।৬।  ঘরের ভিতরে থাকা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া।৭।  করমর্দন এবং কোলাকুলি থেকে বিরত থাকা।৮।  আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যদের থেকে আলাদাভাবে থাকা।৯।  চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। আমরা খবর দেখে বা পত্রিকা পড়ে কভিড-নাইনটিনের বিস্তার সম্পর্কে দেশে এবং বিদেশে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা জানতে পারি। বর্তমানে সরকার বহির্বিশ্বের সাথে একযোগে কাজ করছে। পরিবারের সকলের সাথে সবাই একসাথে ঘরে নিরাপদে আছে – এভাবে সবাই থাকতে পারলেও বিশেষ শিশুদের এ ক্ষেত্রে একটু অসুবিধায় পরতে হচ্ছে, কেননা তারা বুঝতে পারছেনা কি হচ্ছে – এ সময় স্কুল কেন বন্ধ? সবাই কেন কাজ ছেঁড়ে বাসায়? কেন তার দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন আসছে? সাধারনত অটিস্টিক শিশুরা নিয়মের বাহিরে কিছু করতে পছন্দ করে না। তাদের দৈনন্দিন জীবনে হঠাৎ করে পরিবর্তন আনা যায় না।  খুব সংক্ষিপ্ত আকারে গল্পের ছলে আমরা তাদেরকে বিভিন্ন উপকরণ, যেমন – ফ্লাশ কার্ড, ড্রয়িং ইত্যাদি দিয়ে করোনা ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি বোঝাতে পারি। বর্তমানে আমরা যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তা আমরা গল্পের আকারে নিজেদের মতো করে তাদের উপযোগী করে বলতে পারি। যেমন – স্কুল বন্ধ থাকবে বোঝানোর জন্য আমরা স্কুলের ছবি যার উপরে স্কুল বন্ধ লেখা আছে তা দিয়ে বোঝাতে পারি। পারিবারের সবার একসাথের ছবি দিয়ে বোঝাতে পারি যে বাবা-মা, ভাই-বোন, চাচাতো/মামাতো ভাই-বোন, মামা-মামী ও নানা-নানী আমরা সবাই একসাথে বাসায় থাকবো এবং মজা করবো। কেননা এ সময় বাইরে যাওয়া নিরাপদ নয়। শুধু মা ডাক্তার তাই সে বাসায় থাকতে পারবেনা। সে অফিসে না গেলে যারা অসুস্থ তাদেরকে কে দেখবে? আমরা বাকি সবাই বাসায় থাকবো। কারণ ঘরের বাইরে মারাত্মক রোগ জীবাণু, যার নাম “করোনা ভাইরাস” – এ জীবাণু দ্বারা তুমি আক্রান্ত হাতে পারো, তোমার গায়ে জ্বর আসতে পারে, শরীরে ব্যাথা হতে পারে, নাক দিয়ে পানি ঝরতে পারে এবং নিঃশ্বাস নিতে কষ্টসহ কাশি হতে পারে। এর জন্য বাহিরে বের হওয়া তোমার জন্য নিরাপদ না। ঘরে আমরা নিরাপদ।    এ জীবাণুটা খুব তাড়াতাড়ি একজনের কাছ থেকে অন্য জনের কাছ থেকে অন্য জনের কাছে ছড়াতে পারে। এর জন্য আমরা কিছুদিন অন্য কারোর সাথে দেখে করবো না। আমরা ঘরের মধ্যেই নিরাপদ থাকতে পারবো। আমরা ঘরে বসেই নিয়মিত হাত ধুবো এবং হাত দোয়ার সময় এক থেকে বিশ পর্যন্ত গণনা করবো অথবা মজার কোনো ছড়া বলবো। যেন এ জীবাণুকে তাড়িয়ে দিতে পারি – এ ক্ষেত্রে হাততালি দিয়ে উৎসাহ দেয়া যেতে পারে। আমরা ঘরে বসে একসাথে অনেক মজার খেলাও খেলতে পারি। যেমন – একসাথে বসে টিভি দেখা, একসাথে বসে খাবার খাওয়া, রান্না করা, গল্পের বই পড়া, স্কুলের বই পড়া, বারান্দার গাছে পানি দেওয়া, ইত্যাদি। খুব বিচলিত হওয়া যাবে না। আমরা খুব শীঘ্রই এ ভাইরাস এর সংক্রামণ থেকে মুক্তি পাবো।   স্কুল, শপিং মল, ফুড শপ এ যেতে পারবো। আর সে সময় পর্যন্ত আমাদেরকে বাসায় নিরাপদে থাকতে হবে। এভাবেই একটা গল্প তৈরি করে আমরা আমাদের বিশেষ শিশুদের দিতে পারি। গল্পটাকে এমনভাবে সাজাতে পারি যেন তা পরিবারের সব ধরণের শিশুদের উপযোগী হয়। এ জীবাণুটা খুব তাড়াতাড়ি একজনের কাছ থেকে অন্য জনের কাছে ছড়াতে পারে। এর জন্য আমরা কিছুদিন অন্য কারোর সাথে দেখে করবো না। আমরা ঘরের মধ্যেই নিরাপদ থাকতে পারবো। এভাবেই একটা গল্প তৈরি করে আমরা আমাদের বিশেষ শিশুদের দিতে পারি। গল্পটাকে এমনভাবে সাজাতে পারি যেন তা পরিবারের সব ধরণের শিশুদের উপযোগী হয়।  এই ঘরে থাকার প্রোগ্রামের একটা সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে। যেমন – এটা এক সপ্তাহ হবে বা বলা যেতে পারে একেবারে রমজান ও পরে ঈদ পর্যন্ত হতে পারে এবং তার পরে স্কুল খুলবে।  এ ক্ষেত্রে আমরা স্কুল ক্যালেন্ডারটাকে রঙিন কালি দিয়ে মার্কিং করে দিতে পারি।  যেহেতু বিশেষ শিশুরা অনেক ক্ষেত্রে ভিজ্যুয়াল লার্নার, তাঁরা শুক্রবার, শনিবার জানে স্কুল ছুটির দিন – এ সময় আউটিং এ যাওয়া যায়। তাদের জন্য ঐ দুই দিনকে ক্রস মার্কিং করে কোনো মজার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যেমন – অন্যান্য ভাই-বোনদের সাথে লুডু  খেলা, কেরামবোর্ড খেলা, কার্ড মিলানো ইত্যাদি। ফুড শপ এ যেদিন যেত সেদিন ঘরে বসেই ওর পছন্দের খাবার বানিয়ে দিলে ও বুঝতে পারবে ” আজকে এটা আমাকে ঘরে বসেই খেতে হবে, বাহির নিরাপদ নয়। সব সময় বুঝতে হবে, ওর জীবনধারায় যে পরিবর্তনটা আনবো, তা যেন অবশ্যই আনন্দদায়ক হয়, বিরক্তিকর নয়। ছবি বা ফ্লাশ কার্ড না থাকলে স্বাভাবিক ছবি একে বিষয়টি আমরা বোঝাতে পারি, জটিল করে নয়।  সবশেষে গল্পটা আমরা এভাবেই শেষ করবো যে শিশুটি শীঘ্রই তার পছন্দের জায়গা – যেমন স্কুল, শপিং মল, ফুড শপ  যেতে পারবে। শীঘ্রই সবকিছু আগের মতো ঠিক বা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। যখনই শিশুটির সাথে কোনো কিছু করার চিন্তা করবো, তার আগে অবশ্যই আমাদের একটা প্ল্যান থাকবে সহজ, সুন্দর ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের।   লেখক : সহকারী রেজিস্ট্রারচাইল্ড ডেভলপমেন্ট এন্ড পেডিয়াট্রিকঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল (ডিসিএইচ)

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ