চট্টগ্রাম সিটি ও ৫ আসনে উপনির্বাচন: মার্চে ফের নৌকা-ধানের শীষ

Pub: Tuesday, February 18, 2020 2:00 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আগামী মার্চের শেষ সপ্তাহে ফের শুরু হচ্ছে নৌকা ও ধানের শীষের লড়াই। সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের পর আবার মুখোমুখি হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও পাঁচটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হতে প্রস্তুতি শুরু করেছেন দুই দলের নীতিনির্ধারকরা। অতীতের মতো এসব নির্বাচনেও নৌকার জয় হবে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীনরা। জয়ের লক্ষ্যেই মনোনয়নে ছিল চমক। অন্যদিকে সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটির মতোই আসন্ন নির্বাচনেও ‘কারচুপি’র আশঙ্কা বিএনপির। তবে সুষ্ঠু ভোট হলে ধানের শীষের প্রার্থী জয়ী হবে বলে আশাবাদী তারা। আগামী ২১ মার্চ ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ এবং ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জয় পেতে আ’লীগ প্রার্থীদের নানা চ্যালেঞ্জ

চট্টগ্রাম সিটি এবং ৫টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে চমক দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে প্রার্থীদের অনেকেই নতুন মুখ হওয়ায় জয় নিশ্চিতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে- দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন ও সার্বিক সহযোগিতা আদায় করা।

এ ছাড়া মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কতটা পাশে থাকবেন, তা নিয়েও আছে সন্দেহ। অনৈক্যের সুরও পাল্টে দিতে পারে ভোটের হিসাবনিকাশ। একই সঙ্গে ভোটার টানতে ও জয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে প্রার্থীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তা। এ দুটি বিষয়ই দলীয় প্রার্থীদের আছে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীনরা। তবে যত চ্যালেঞ্জই থাকুক না কেন, তা কাটিয়ে ওঠে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হবেন- এমন প্রত্যাশা তাদের।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক সোমবার বলেন, দলের মনোনয়ন বোর্ড অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রার্থী বাছাই করেছে। প্রার্থিতা নিয়ে সব রকম বিতর্ক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হয়েছে। যারা মনোনয়ন পেয়েছেন, সবাই দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ। উন্নয়নের মার্কা নৌকার প্রার্থী হওয়ায় প্রার্থীদের তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে না। জনপ্রিয় ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির হওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন রেজাউল করিম চৌধুরী। এ ছাড়া ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, যশোর-৬ আসনে শাহীন চাকলাদার, গাইবান্ধা-৩ আসনে উম্মে কুলসুম, বগুড়া-১ আসনে সাহাদারা মান্নান এবং বাগেরহাট-৪ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন আমিরুল আলম মিলন।

দলীয় মনোনয়ন পেতে ঢাকা-১০ আসনে ১০ জন, বগুড়া-১ আসনে ১৯, যশোর-৬ আসনে ১৩, বাগেরহাট-৪ আসনে ১১ এবং গাইবান্ধা-৩ আসনে ২৫ জন নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।

বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে (চসিক) এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। নাছির মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের একটি অংশ হতাশ ও নাখোশ।

তারা শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী কাজ না-ও করতে পারেন। এ ছাড়া সাধারণ ভোটারদের মধ্যে রেজাউলের পরিচিতিও কম। এটিও ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে। এর বাইরেও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল প্রকাশ্যে ডালপালা ছড়িয়ে আছে। এসব মোকাবেলা করেই জয় নিশ্চিত করতে হবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে।

তবে সব ছাপিয়ে নির্বাচনে বর্তমান মেয়র নাছিরকে পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন রেজাউল করিম। সোমবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহকালে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। দলের সবাই আমার জয়ের জন্য এক হয়ে কাজ করবে। বর্তমান মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনকেও নির্বাচনে পাশে পাব বলে আশা করি।

যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী শাহীন চাকলাদার। তিনি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দলের মধ্যে বলয় সৃষ্টি করে ত্যাগী ও নিবেদিত নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগ আছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামাতে পারলে তার জয় সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা-১০ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন একজন ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হঠাৎই তার আগমন। একেবারেই নতুন হওয়ায় নেতাকর্মীদের মন জয় করে নির্বাচনের মাঠে নামতে হবে, সবাইকে নিজের করে নিতে হবে- এমনটি মনে করছেন আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগরের একাধিক নেতা।

এ ছাড়া গাইবান্ধা-৩, বগুড়া-১ ও বাগেরহাট-৪ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতা ও স্থানীয় বলয় সৃষ্টিকারীরা কতটা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে তার ওপর জয়-পরাজয় অনেকখানিই নির্ভর করবে। এ ছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনী গণসংযোগে উপস্থিতি ও ভোটারদের আকর্ষণে দলীয় নেতাকর্মীদের বড় ভূমিকা পালনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অনেকে।

নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে জীবন বাজি রেখে কাজ করব -আ জ ম নাছির : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে জেতাতে জীবন বাজি রেখে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন মনোনয়নবঞ্চিত বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, সোমবার বিকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ফিরে নগরীর আন্দরকিল্লায় বাসভবনের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নাছিরসহ ১৯ জন মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত নগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীকে এ পদে মনোনয়ন দেয়া হয়।

মনোনয়ন না পাওয়ায় হতাশ হননি উল্লেখ করে মেয়র নাছির বলেন, আমার মধ্যে কোনো হতাশা নেই। কর্মীদের মধ্যে কিছুটা ইমোশন হয়তো আছে। ইনশাআল্লাহ সেটা কেটে যাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন, তাকে বিজয়ী করার জন্য আমার যতটুকু সামর্থ্য আছে, তার শতভাগ উজাড় করে দেব। জীবন বাজি রেখে চেষ্টা চালিয়ে যাব। প্রধানমন্ত্রীকে সিটি মেয়র পদটি উপহার দেব।

নাছির আরও বলেন, আমি মাত্র ঢাকা থেকে এসেছি। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির সঙ্গে বসব। অন্য নেতাদের সঙ্গেও বসব। কীভাবে রেজাউল ভাইকে জেতানো যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা করব। অতীতে দলের মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য যেভাবে কাজ করেছি, এবারও সেভাবে কাজ করব।

উচ্ছ্বাস কম তবুও চ্যালেঞ্জ নেয়ার প্রস্তুতি বিএনপির

সদ্যসমাপ্ত ঢাকার দুই সিটির ভোট নিয়ে ‘অনিয়ম ও কারচুপি’র অভিযোগের পরও চট্টগ্রাম সিটি এবং জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। তবে নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আগের মতো উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ঢাকা সিটি নির্বাচনে ‘কারচুপি’র পর তাদের মধ্যে এ হতাশা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

তাদের মতে, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোটে যাওয়া মানে নিশ্চিত হার। আগে থেকেই ফলাফল নির্ধারিত থাকায় ভোট নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস নেই। এরপরও আসন্ন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নেয়া হচ্ছে। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তের পর কেন্দ্রীয়ভাবে গঠন করা হবে একাধিক টিম। সক্রিয় করা হবে স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও।

দলটির নীতিনির্ধারকরা আরও জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে নানা শঙ্কা থাকলেও কৌশলগত কারণেই এসব নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে। ভোটের জয়-পরাজয় দুটোকেই কাজে লাগাতে চাই। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হবেন। অন্যদিকে কারচুপি হলেও রাজনৈতিকভাবে সেটাকে ইস্যু করা যাবে। এদিকে তিনটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি।

সোমবার সন্ধ্যায় দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের নাম ঘোষণা করেন। তারা হলেন ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবি, গাইবান্ধা-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিক ও বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কাজী খায়রুজ্জামান শিপন।

এ সময় ফখরুল বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। তৃণমূল নেতাকর্মীরা নির্বাচনে সংশ্লিষ্টতার ফলে তারা চাঙ্গা হবেন বলে আশা করি। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

আর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। দলের নীতিনির্ধারকসহ লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও নানা মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন তারা। ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে ২১ মার্চ ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন হবে ২৯ মার্চ।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশন ভোটিং সিস্টেমটাই ভেঙে ফেলেছে। ভোট নিয়ে শুধু আমাদের নেতাকর্মী নয়, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও কোনো উচ্ছ্বাস নেই। বিশেষ করে ঢাকা দুই সিটির নির্বাচনের পর ভোট নিয়ে তারা আরও হতাশ হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার ও নির্বাচন কমিশন ভোটমুখী হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সবার সংশয় রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে ফলাফল কি হবে তা সবাই আমরা জানি। কিন্তু তারপরও নানা শঙ্কার মধ্যেও আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। কারণ আমরা মনে করি ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র পথ হল নির্বাচন। নির্বাচনের মধ্যে থাকলে নেতাকর্মীরাও চাঙ্গা হবে। গতি পাবে সংগঠনও।

এদিকে ঢাকা সিটি নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ব্যাপক শোডাউন করে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। প্রচারেও ছিল উৎসবের আমেজ। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে এখন পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে তেমন উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অনেকটা গোপনেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রার্থীদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে ততটা উৎসাহ নেই।

এর কারণ খুঁজতে গিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বলেন, নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ না থাকার পেছনে কারণ হিসেবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা দিনে দিনে অবনতি ঘটছে। এতে নেতাকর্মীরা কিছুটা ভেঙে পড়েছেন। এছাড়া সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় নেতাকর্মীদের মধ্যে আগের মতো আর আগ্রহ নেই।

তারা মনে করে, এ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়া মানে পরাজয় নিশ্চিত। ঢাকা-১০ সংসদের মর্যাদাপূর্ণ আসন। এ আসনে নির্বাচন করার জন্য জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের আগ্রহ থাকে সব সময়। কিন্তু এবারের চিত্র পুরো উল্টো। এ আসন থেকে একমাত্র দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ঢাকা মহানগর নেতা ও ধানমণ্ডি থানা বিএনপির সভাপতি শেখ রবিউল আলম রবি।

জানতে চাইলে রবি যুগান্তরকে বলেন, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম, এখনও আছি। দল যোগ্য মনে করায় আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। যে কোনো নির্বাচনকে বিএনপি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে থাকে। এ নির্বাচনকে আমরা সেভাবেই নিয়েছি। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটের মাঠে ধানের শীষের জয়ের জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমি করব। তিনি বলেন, বিগত সিটি নির্বাচনের চিত্র দেখে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সবাই হতাশ। তারপরও আমরা চেষ্টা করব নির্বাচনকে একটা উৎসবে রূপ দিতে।

এদিকে রোববার চট্টগ্রাম সিটি, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব আসনে সোমবার থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে দলীয় মনোনয়ন পেতে বেশ কয়েক নেতা লবিং-তদবির শুরু করেছেন।

এদের মধ্যে আছেন- মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এরশাদউল্লাহ ও নগর কমিটির বর্তমান যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও চসিকের সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান। এ ছাড়া মীর নাসিরের ছেলে মীর হেলালের নামও রয়েছে আলোচনায়। তবে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। এমনকি চট্টগ্রামের নেতৃত্ব দিতে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ছেড়ে দেন। জানতে চাইলে ডা. শাহাদাত হোসেন টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, আমি মেয়র পদে নির্বাচন করতে প্রস্তুত। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে শ্রম দিচ্ছি। সব সময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছিলাম। সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে।

দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষের বিপুল বিজয় এনে দিতে পারব বলে আশা করি। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এম মনজুর আলম। ভোটের পর বিএনপির সব পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম। এবারও তিনি মনোনয়ন চান। এছাড়াও জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন চৌধুরী ও সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির ধানের শীষের মনোনয়ন পেতে লবিং করছেন।

যশোর-৬ আসনে একাদশ সংসদে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন আবুল হোসেন আজাদ। কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজাদ এবারও ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু ও কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুস সামাদ বিশ্বাসও প্রার্থী হতে নানা মাধ্যমে কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ