চসিক নির্বাচন : তৈরি হচ্ছেন ১৬ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা

Pub: Saturday, March 7, 2020 5:41 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর এজন্য প্রস্তুত চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। চসিক নির্বাচনের জন্য ৪১ ওয়ার্ডে ৭৩৫ টি ভোট কেন্দ্র ও ৪ হাজার ৮৮৬টি বুথ চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের জন্য প্রায় ১৬ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা) প্রস্তুত করছেন নির্বাচন কমিশন। তবে সেই তালিকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস। বর্তমান মেয়র নির্বাচনী লড়াইয়ে না থাকায় আইনি জটিলতা না থাকলেও বিতর্ক এড়াতে চসিকের বেতনভুক্তদের নির্বাচনী দায়িত্বে রাখা না রাখা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময় নিতে চান নির্বাচন অফিস। আপাতত ওই তালিকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রায় তিন হাজার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা নেওয়া হয়নি। তবে সিটি করপোরেশন পরিচালিত স্কুল ও কলেজের ৭৫১ শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার তালিকা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রথমবারের মতো সবকটি ভোট কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের জন্য ১১ হাজার ইভিএম নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো হচ্ছে। আগামী ৯ মার্চ থেকে ইভিএম মেশিন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে আসতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চসিক নির্বাচনে নগরীর ৭৩৫ কেন্দ্রের ৪ হাজার ৮৮৯ ভোটকক্ষে ১৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮৯৪ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে ৭৩৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৪ হাজার ৮৮৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৯ হাজার ৭৭২ জন পোলিং কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে আরও ৫ শতাংশ বাড়তি হিসাব ধরে মোট ১৬ হাজার ১৭২ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল চূড়ান্ত করতে কাজ করছে জেলা নির্বাচন অফিস।

১৮ মার্চ থেকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শেষে ২৭ তারিখ একদিন সবকটি কেন্দ্রে মক ভোটিং করা হবে। এবারের নির্বাচনে ১১ হাজার ইভিএম প্রয়োজন হবে। ৯ মার্চ প্রথম ধাপে ৪ হাজার ইভিএম আসবে। এবারের যেহেতু চসিক নির্বাচন ইভিএমে অনুষ্ঠিত হবে সেজন্য ভোটারদের ইভিএমে ভোটদানের ক্ষেত্রে উদ্ধুদ্ধ করা এবং ভোটদান পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে আগামী ২৭ মার্চ কেন্দ্রে কেন্দ্রে ইভিএমে মক ভোটিং অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার তালিকা প্রণয়নে চারটি বিষয়কে এবার প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দলীয় সম্পৃক্ততা, মৌলবাদের সম্পৃক্ততা, যোগসাজশের সম্পৃক্ততা কিংবা নৈতিক স্খলনে অভিযোগ থাকলে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, নির্বাচন কমিশন সব নির্বাচনেই ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার একাধিক তালিকা প্রণয়ন করে থাকে। এবারও তাই করা হচ্ছে। কেননা, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে অনেককেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্যদের নিয়োগ করার প্রয়োজন পড়ে। ভোট কেন্দ্র ও ভোটকক্ষ অনুযায়ী আমরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল নির্ধারণ করেছি। কোনোভাবেই বিতর্কিত কোনো কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। চসিক নির্বাচনের জন্য ৭৩৫টি ভোট কেন্দ্র ও ৪ হাজার ৮৮৬টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনের জন্য মোট ১৬ হাজার কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান জানান, চসিকের স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা পেলে তাদের প্যানেলভুক্ত করা হবে। যেহেতু বর্তমান মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হননি তাই আইনিভাবে চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে বাধা নাই।

উল্লেখ্য, আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য চসিক নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৫২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭২৩ জন। নারী ভোটার ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩২৯ জন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনসহ মোট ৯ জন মেয়র, ২১১ জন সাধারণ ওয়ার্ডর কাউন্সিলর এবং ৫৮ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্ধ্বিতা করছেন।

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ