• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

রাজনীতি

ছাত্রলীগ থেকে বিএনপি, রেলের গুরুত্বপূর্ণ পদে সফিকুর

প্রকাশ: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:৩৮
আপডেট: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:৩৮

ছাত্রলীগ থেকে বিএনপি, রেলের গুরুত্বপূর্ণ পদে সফিকুর
 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত

একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার পরিচয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব, এরপর রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগ—এভাবেই রেলওয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে তিনি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিন্টেনডেন্ট (সিওপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার রাজনৈতিক পরিচয়, পদোন্নতি ও দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়ে শণিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছে।
পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বশেষ শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন সফিকুর রহমানের পক্ষে একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে সফিকুর রহমানকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ছাত্রলীগ সক্রিয় কর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তার বাবা নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য—এমন তথ্যও চিঠিতে উল্লেখ ছিল বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।

পোস্টের দাবি, ওই ডিও লেটারের প্রায় এক মাস পরই ঢাকা রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) পদে দায়িত্ব পান সফিকুর রহমান।

বদলেছে রাজনৈতিক পরিচয়
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওই পোস্টে আরো দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সফিকুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয়েও পরিবর্তন আসে। তিনি বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত হন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, ডিআরএম পদে তার মেয়াদ পূর্ণ করার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও নরসিংদীর খায়রুল কবির খোকন তৎকালীন রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলীর কাছে একাধিকবার তদবির করেন।

পরে সফিকুর রহমানকে অতিরিক্ত প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল তাকে রেলভবনের জনসংযোগ পরিচালক পদে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই পদটি তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এর কিছুদিন পরই আবার রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিন্টেনডেন্টের দায়িত্বে ফেরেন তিনি।

বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটের ট্রেন চলাচলের নিয়ন্ত্রণ তার দায়িত্বের আওতায় রয়েছে বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।

ঈদের সময় খালি কামরা রেখে ট্রেন ছাড়ার অভিযোগ
পোস্টে সফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ঢাকা অঞ্চলের টিকিট ব্যবসার নিয়ন্ত্রক পদ বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) থাকাকালে ২০২২ সালের আগে ঈদের ছুটিতে একটি ট্রেনের পুরো এক কামরা খালি রেখেই ট্রেন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

ঈদের সময়ে ঘরমুখী মানুষের টিকিটের জন্য ব্যাপক চাপের মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটেছিল বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে তখন রেলের অভ্যন্তরে সমালোচনাও হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্মচারীকে বাসার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ
সফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে রেলের এক নারী কর্মচারীকে দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।

পোস্টে দাবি করা হয়, পাবনার ঈশ্বরদী স্টেশনের বেয়ারা জরিনা বেগমকে প্রায় চার বছর ধরে ঢাকার বাসাবাড়ির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাইল অনুমোদনে বিলম্বের অভিযোগ
ট্রেন চলাচলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অনুমোদনেও বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে সফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

পোস্টে বলা হয়েছে, গত ২৩ আগস্ট ৫২৫ জন গেটকিপারকে পয়েন্টসম্যান পদে পদোন্নতি দেয় রেলওয়ে। তবে সেই ফাইল সফিকুর রহমান অনুমোদন করেন প্রায় দেড় মাস পর। এরই মধ্যে একই আদেশ পাকশী ও লালমনিরহাটে কার্যকর হয়ে যায় বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।

স্টেশন মাস্টারদের গ্রেড ৪ থেকে গ্রেড ৩-এ পদোন্নতির ফাইল নিয়েও বিলম্বের অভিযোগ করা হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারির ওই ফাইল তিনি চার মাস পর ১৮ জুন অনুমোদন করেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

যা বলছেন সফিকুর
এসব অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিন্টেনডেন্ট (সিওপিএস) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিল্পমন্ত্রীর মাধ্যমে দেওয়া কোনো আধা-সরকারি পত্র বা ডিও লেটারের তথ্য তার জানা নেই।

কর্মচারীদের দিনভর অফিসের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো কর্মচারীকে ‘বুক অফ’ করার অর্থ হলো নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাকে অফিসে তলব করা। ওই দিন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর কোনো ডিউটি থাকে না। সুবিধাজনক সময়ে তিনি তাদের কথা ও অভিযোগ শুনে থাকেন।

অন্যদিকে, এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মামুনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

আ/আ

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম