ডিভাইড এন্ড রুল পর্ব- ৪

Pub: Tuesday, April 21, 2020 6:55 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেলিম মোহাম্মেদ
ইউ,কে, লন্ডন
দেশ আজ বহু ভাগে বিভক্ত, তাই কোনো ইস্যুতেই আমরা একমত হতে পারছি না। এই বিভক্তির সুযোগেই দেশকে পরিণত করা হয়েছে অন্যায়ের অভয়ারণ্যে। নিশ্চয়ই ভাবছেন আপনি তো নিরপেক্ষ! বলতে পারেন এই নিরপেক্ষতার সংজ্ঞাটা কি? আমার মনে হয় সাদাকে সাদা বলা আর কালোকে কালো বলার ক্ষমতা যার আছে সেই নিরপেক্ষ, আপনার যদি সঠিকভাবে সেই সত্য বলার সাহস থাকে, তাহলেই আপনি নিরপেক্ষ। আমি কিন্তু নিরপেক্ষ নই, নিশ্চয়ই ভাবছেন আমি তাহলে কোন পক্ষের? আমি হলাম সেই পক্ষের, যে পক্ষ সবসময় দেশের স্বার্থ রক্ষার কাজ করে, যারা দেশের পক্ষে কথা বলে, কোন দল কিংবা ব্যক্তির পক্ষে নয়। আমি সত্যের পক্ষের একজন। তাই নিজেকে নিরপেক্ষ বলে দাবী করার সাহস আমি রাখি না।
আমি সকল বুদ্ধিজীবীদেরকেই সম্মান করি, তবে প্রচন্ডভাবে ঘৃণা করি বুদ্ধিজীবী নামের কিছু আঁতেলকে, যারা সিজনাল বুদ্ধি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। আমার আজকের লেখায় কিছু সহজ পদ্ধতি খোঁজার চেষ্টা করবো, যে পদ্ধতিতে আপনি সহজেই খুঁজে নিতে পারবেন কে সেই বুদ্ধি ব্যবসায়ী আঁতেল?
ইতিহাসের পেছনের পাতায় একটু ঘুরে আসি তাহলে। বিএনপি এবং জামাত যখন ক্ষমতায়, তখন মাগুরায় একটি উপনির্বাচন হয়েছিল, আপনাদের মনে আছে নিশ্চয়ই? সেই নির্বাচনে বিএনপি জামাত সরকার অনেক অনিয়ম করেছিল, সোজা ভাষায় যাকে আমরা বলি ভোট চুরি। তখন বুদ্ধিজীবী সমাজ, সাধারণ মানুষ এবং বর্তমান ক্ষমতাসীনদলের প্রত্যেকেই প্রতিবাদ করেছিল, আমিও ছিলাম তাদেরই একজন। তখন বিএনপি’র পক্ষে যারা দলকানা ছিল, তাঁরা কেউ এই প্রতিবাদকে মেনে নিতে পারেনি। তখনকার সময়ে প্রতিবাদীরা সবাই ছিল নিরপেক্ষ, কিন্তু আমি মনে করতাম গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখার জন্য, দেশের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমার এই প্রতিবাদ। তখনো আমি নিরপেক্ষ ছিলাম না ছিলাম দেশের পক্ষে। একটি মাগুরা নির্বাচনের জন্য আমরা যারা বিএনপি এবং জামাত কে তুলোধুনো করেছি আমাদের কথার মাধ্যমে এবং প্রতিবাদের মাধ্যমে, সেই আমরা এখন কি করছি? এখনতো বাংলাদেশে নির্বাচন নামের প্রহসন অহরহ ঘটছে, গত দশ বছর তো মানুষ ভোট দেয়ারই সুযোগ পায়নি! রিলিফের মতোই এমপি-মন্ত্রী হয়ে যাচ্ছে সবাই বিনা ভোটে, শুধু একটিমাত্র মাগুরায় নয়, সকল আসনেই হচ্ছে একই রকম বাটপারী। এখন কোথায় সেই বুদ্ধিজিবী নামের বুদ্ধি ব্যবসায়ীরা? জানি আমার এই লেখা পড়ে এখনো সেই বুদ্ধি ব্যবসায়ী আর তাদের চামচিকারা বলবেন, এসব গুজব। এবার পাঠক আপনারাই খুঁজে বের করুন কে সেই বুদ্ধিজিবী আঁতেল?যে কিনা- একজন অন্যায় করলে প্রতিবাদ করে, সেই একই অন্যায় অন্যজন করলে চুপ থাকে, আবার নিজেকে দাবি করে সে হচ্ছে নিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবী।
এবার আসি বর্তমানের একটা উদাহরণ নিয়ে, করোনা ভাইরাসের জন্য সারা বিশ্বের বহু দেশেই চলছে লকডাউন, বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে একজন আলেমের মৃত্যুর পর, মরহুমের জানাজাতে লক্ষাধিক মানুষ একত্রিত হয়েছে, যা ছিল পুরো জাতির জন্য আত্মঘাতী। যেখানে আমাদের উচিত ঘরে বসে নিজেকে আইসোলেট করে রাখা যাতে মরণঘাতী করোনা ছড়াতে না পারে, উল্টো সেখানে আমরা লক্ষাধিক মানুষ জমায়েত হয়েছি এক জায়গায়! এই ভুলের জন্য অনেকেই প্রতিবাদ করেছেন, এই অন্যায় এবং ভুলের প্রতিবাদ আমিও করি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন ব্যারিস্টার সুমন এবং জ, ই মামুন সহকারে আরো কয়েকজন এমন ভাষায় কথা বলতে শুরু করলেন, যেন পারলে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে এই মুহুর্তেই এটম এর মাধ্যমে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া উচিত হবে। দুদিন পরে যখন আইনমন্ত্রী আনিসুর রহমানের মা মারা গেলেন, সেখানেও হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হলো জানাজাতে। আমি এই গণজামায়েতেরও বিপক্ষে এবং প্রতিবাদ করছি এই অন্যায়ের এই ভুলের। মজার ব্যাপার হলো আমি কিন্তু দেখতে পাচ্ছিনা ব্যারিস্টার সুমন কিংবা জ ই মামুন অথবা অন্য কোন বুদ্ধিজীবীদের সোচ্চার হতে এই গনজমায়েতের ব্যাপারে! তাহলে আমরা কি ধরে নেবো মন্ত্রীর মায়ের জানাজাতে গণজমায়েত করা সঠিক?এখন আপনারাই চিন্তা করুন, তারা কি আসলেই নিরপেক্ষ নাকি দলকানা দল পক্ষ? এখন কোথায় তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, যে কিনা কয়েকদিন আগেই বলেছেন, খালেদা জিয়ার ছাড়া পাওয়ার দিন গন জমায়েত হয়েছিল এবং সেখান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে অন্য মানুষের মধ্যে? কোন ভাষায় জবাব দেবো এই আহম্মকের কল্পকাহিনীর? এভাবেই চলছে আমাদের লকডাউন বাংলাদেশে। ত্রানের নামে চলছে হরিলুট, সেখানেও গন জমায়েত হচ্ছে, কিছু বলতে গেলেই বলা হবে গুজব। আমাদের বুদ্ধি ব্যবসায়ীরা কিন্তু এখানেও একেবারেই নিশ্চুপ। ওরা নিরপেক্ষ তাই কিছু বলছে না। আমি নিরপেক্ষ নই, আমি আমার দেশের পক্ষে, তাই নীরব থাকতে পারছিনা। প্রতিবাদ করে যাচ্ছি সকল অপরাধের সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। এভাবেই জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে রেখেছে ঐ বুদ্ধিজীবী নামের কুলাঙ্গারেরা।
আপনার আমার আমাদের সকলের দায়িত্ব ওদেরকে খুঁজে চিহ্নিত করা, যারা সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে দেশকে দ্বিখণ্ডিত করে রেখেছে। আমার লেখাতে ভুল হলে আমারও সমালোচনা করবেন আপনারা, আমার ভুল গুলো ও ধরিয়ে দিবেন, আমি সম্মানের সাথেই মেনে নেবো। শুধু অনুরোধ করবো কোনো একক ব্যক্তি কিংবা দলের জন্য, দলকানা একচোখা হয়ে সমালোচনা করবেন না দয়া করে। চোরকে চোর বলুন, সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলুন। প্রতিবাদ করুন সকল অন্যায়ের, সে অন্যায়কারী যেই হোক না কেন। এই বিপদের মুহূর্তে গরিবের ত্রাণ চুরি হচ্ছে, চোরেরা ধরাও পড়ছে, কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, তদন্ত করে দেখেছে সবই মিথ্যা সবই গুজব। পৃথিবীর কোথাও শুনিনি এক চোরের তদন্ত আরেক চোর দিয়ে করাতে, কে না জানে চোরে চোরে মাসতুতো ভাই? যারা নিজেরাই সমগ্র জাতির ভোট চুরি করে ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের মাধ্যমে কি চোরের বিচার করা সম্ভব? তাদের তদন্তে কি চোর ধরা পড়বে? এর বিচার একমাত্র দেশের জনগণের পক্ষেই সম্ভব। এখনো সময় আছে পুরো জাতি ডুবে মরার আগে একবার জেগে উঠুন। চিহ্নিত করুন ওসব বুদ্ধি ব্যবসায়ীদের, যাদের চিন্তা-চেতনা সীমাবদ্ধ থাকে ওই একটি গোষ্ঠী কিংবা দলের জন্য, যাদের মূল মন্ত্র হলো “কৃষ্ণ করলে লীলাখেলা আমি করলে পাপ” নিজে ভালো থাকবেন, অন্যকেও ভালো রাখবেন
চলবে———

Hits: 2


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ