ডিভাইড এন্ড রুল পর্ব/৫

Pub: Sunday, May 10, 2020 9:06 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেলিম মোহাম্মেদ,

হ্যা সরকার তাঁর অবৈধ ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার জন্য জাতিকে এতোটাই দ্বিধাবিভক্ত করে রেখেছে, আজকাল কোন জাতীয় ইস্যুতেও আমরা আর একমত হতে পারি না। এই করোনা মহামারীর কথাই ধরুন, সরকার কিংবা সাধারণ মানুষ, কেউকি আমরা একমত হতে পেরেছি? না আমরা পারিনি! সরকার কি করবে সেটা মনস্থির করতেই কাটিয়ে দিলেন ১৭ই মার্চ পর্যন্ত। মুজিব বর্ষ পালন করতে হবে না! মোদী আসবে না কি আসবে না? এই প্রশ্ন নিয়ে বানরের তৈলাক্ত বাঁশে উঠার মতো, উঠা আর নামার মধ্যে ব্যস্ত রইলো সরকার। শেষ পর্যন্ত কেউ এলো না, কিন্তু আঠারো কোটি মানুষকে ঠেলে দেয়া হলো মৃত্যু ঝুঁকির মুখে! ওয়ার্ল্ড স্বাস্থ্য সংস্থার কথাই সরকার পাত্তা দিলো না, আর দেশের মানুষতো কোন্ ছাড়? তাইতো কবি কামাল হোসেন তাঁর মনের দুঃখে কবিতা লিখলেন,
” আমি বললাম মানুষ মরছে মানুষ
সখী তখনো ব্যস্ত উড়াতে ফানুস”
অবশেষে সব শেষ করে সরকার লকডাউন ঘোষণা করলেন, তা-ও যেন পুরো উলঙ্গ হয়ে শুধু মুখটাকে ঢেকে রেখে চৌরাস্তার মাঝখানে দাড়িয়ে থাকার মতো!
সেই গত ডিসেম্বর থেকে শুনে আসছি আমরা নাকি করোনা’র চেয়েও শক্তিশালী, আমরা করোনাকে মোকাবেলা করতে পুরো প্রস্তুত, বেটা আসছেনা কেনো? করোনা যখন এলো তখন আমরা দেখতে পেলাম, তাদের প্রস্তুতি এবং তাঁরা কতটা শক্তিশালী। এতো দিন বলে বেড়িয়েছে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে গেছি, পৃথিবীর কাছে আমরা উন্নয়নের রোল মডেল, আমাদের মাথাপিছু আয় চৌদ্দ’শ ডলার,আরো কতকিছু! মতিয়া চৌধুরীতো আমাদের সঙ’সদে দাঁড়িয়ে বলেই ফেললেন, পৃথিবীর অনেক দেশই নাকি এখন বলবে,” মুঝে বাংলাদেশ বানাদো ” যদিও ইন্টারন্যাশনাল ভাষায় এই কথাটা বলার কথা ছিল, কিন্তু কি আর করা- ঐ যে প্রভুর প্রতি ভালোবাসা, তাই তাদের ভাষাতেই বলেছেন। সে যা-ই হোক আসল কথায় ফিরে আসি, তাদের কথায় এতো উন্নত একটি দেশের মানুষ দু’সপ্তাহও লকডাউনে থাকতে পারলো না অভাবের তাড়নায়, মানুষ খাদ্যের অভাবে চিৎকার শুরু করে দিলো। এবার বুঝুন এ কেমন মধ্যম আয়ের দেশ! একদিকে অভাবের কারণে হতদরিদ্র বুভুক্ষদের চিৎকার, অন্যদিকে
সরকারের পোয়াবারো। আবার লেগে গেলো হাজার কোটি টাকার লটারি। সরকার দিতে শুরু করলো ত্রাণ, আর বুভুক্ষু মানুষের পরিবর্তে পেট ভরতে শুরু করলো দলিয় চোর বাটপারদের। এবার শুরু হলো চোর ধরা, এখানেও এক মজার খেলা। চোর ধরার পর দু’তিন দিনের মধ্যেই চোরেরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে কিন্তু সাংবাদিকদের কপালে স্থায়ীভাবে শনি এসে ভর করতে শুরু করলো, শনির কারণ- কেনো তাঁরা চোরদের ব্যপারে লেখালেখি করছে! এ যেন দুষ্টের লালণ আর শিষ্ট’র দমন। গত দশ বারো বছরে সরকারের কালোকর্মের গোমর ফাঁস করার কারণে, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, ছাত্র,শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক সহ অনেককেই দাবীয়ে দেয়া হয়েছে সরকারের অত্যাচারের যাতাকলের নিচে। রাষ্ট্রীয়ভাবে মিথ্যাচার করে অপমান করা হয়েছে দেশের অনেক সন্মানি ব্যক্তিদের, অন্যদিকে অযোগ্য আর কিছু চাটুকারদের অন্যায় ভাবে সুযোগ সুবিধা দিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে ভালো মানুষ আর তাদের ভালো কাজের বিপরীতে, এভাবেই দেশকে দু’ভাগে বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে।
এতো কিছুর পরও যখন সরকার তাদের অপকর্ম ঢেকে রাখতে পারছিলেন না, তখনই হাত বাড়িয়ে দিলেন ফেসবুক আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে। এখানেও সরকারকে বাহবা দেয়া ছাড়া সত্য সমালোচনাও করা যাবে না। আহা কি চমৎকার তাদের শাসন ব্যবস্থা। সত্যি বলতে তাদের পাহাড়সম অপকর্মের কোনটা রেখে কোনটা লিখবো? আচ্ছা চলুন সর্বশেষ অপকর্মের কথাটাই একটু বলি। ফটো সাংবাদিক কাজল সরকারি দলের কিছু বদমাশের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছিলেন দেশের মানুষের কাছে, সাথে সাথেই তাঁকে গুম করে ফেলা হলো, বায়ান্ন দিন অত্যাচারের পর তাঁকে ফিরিয়ে দেয়া হলো তা-ও আবার ভারত থেকে-না কি ভারতের সিমান্তে বাংলাদেশে ঢুকার পথে কি সব হযবরল একটা অবস্থায়। এখন প্রশ্ন হলো যে মানুষ গুম হলো ঢাকা থেকে, সে ভারত থেকে আসবে কেন? ভারতে যাওয়ার পথে কেউ তাঁকে দেখতে পেলো না, কিন্তু আসার পথে ধরা পরেন বাংলাদেশের সিমান্ত বাহিনীর হাতে। এটাও কি আমাদের বিশ্বাস করতে হবে? মজার ব্যাপার হলো দেশের মানুষ দেশে আসার পর তাঁকে বলা হলো অনুপ্রবেশকারী, আচ্ছা এর মানে কি কেউ বুঝতে পারবে? কোথায় মানুষটাকে এতোদিন পর খুঁজে পেয়ে একটু সমবেদনা কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে, তা না করে তাকে হাতকড়া পরিয়ে আরো তিন চার খানা মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হলো। সাংবাদিক কাজলের অপরাধ তিনি সত্য প্রকাশ করেছেন। এখানেও সাংবাদিকদের বিভক্ত করে রাখার কারণে কেউ কিছুই বলবে না। বীরদর্পে সরকার তাঁর অপকর্ম করে যাবে। এভাবেই চলছে গত দশ বারোটি বছর। আজ আপনাদের একটি মজার গল্প শুনিয়ে লেখাটি আজকের মতো শেষ করবো।
এক ছেলে ফেসবুকে লিখেছে বিনা ভোটের এবং ভোট চোর প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে কিছু বলা মানে মহা কেলেঙ্কারি, তাই হয়ে গেলো তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে বেশ কয়েকটি মামলা। সরকারি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অনেক কষ্ট করে ধরে নিয়ে আসলো সেই ছেলেকে এবং বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করালো। শুরু হলো বিচার–
সরকারি উকিল- মাননীয় আদালত এই ছেলে প্রধানমন্ত্রীকে ভোট চোর এবং বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী লিখেছে ফেসবুকে।
বিচারক- আচ্ছা তুমি কি এই কথা লিখেছ ফেসবুকে?
আসামি– জ্বী হুজুর
এই কথা শুনে বিচারক ক্ষেপে গিয়ে বলতে লাগলেন, তোমার সাহস কতো তুমি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ভোট চোর বলেছ?
আসামি– হুজুর আমি প্রধানমন্ত্রীকে ভোট চোর বলেছি সত্যি, কিন্তু সেটা তো আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে বলিনি!
বিচারক– এবার আসামির এই কথা শুনে আরো ক্ষেপে গিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলেন, এই বেয়াদব ছেলে তুমি কি আমাকে বোকা পেয়েছ? আমি কি কিছুই বুঝিনা? তোমাকে আর কথা ঘোরাতে হবেনা। আমি ভালো করেই জানি, এই পৃথিবীতে একজনই ভোট চোর প্রধানমন্ত্রী আর সেটা কে?
চলবে——

Hits: 12


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ