দুঃসময়ে গরিবের ত্রাণ চুরি বন্ধ হোক

Pub: Sunday, April 12, 2020 2:07 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বাংলাদেশ সরকারের একটি চলমান প্রক্রিয়া। ত্রাণ দিয়ে প্রতিনিয়তই দেশের অসহায় মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সরকার। এই সেবাপ্রদান বাংলাদেশ সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। এ ছাড়া দেশের দুর্যোগকালে দুর্গত মানুষের ত্রাণ কার্যক্রম প্রক্রিয়া ভীষণ উপকারে আসে। দেশ স্বাধীনের পর অসংখ্য দুর্যোগের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ করতে হয়েছে। বন্যা, সিডর, আইলা, সুনামি, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমরা মোকাবেলা করেছি। এ ছাড়া মহামারির মতো দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে সফল হয়েছি। প্রতিটি দুর্যোগে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। এসব দুর্যোগেও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। দুর্যোগ আলস্নাহ প্রদত্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া। দুর্যোগ আসবেই। আলস্নাহর সাহায্য চেয়ে সেই দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হবে। তেমনি আলস্নাহ প্রদত্ত একটি দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছি। যার নাম করোনাভাইরাস। মানুষের মাধ্যমেই মানুষের শরীরে আক্রান্ত হওয়া এই ভাইরাস পুরো বিশ্বকে মারাত্মকহারে বিপদে ফেলেছে। প্রতিনিয়তই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। মৃতু্যর সংখ্যাও বাড়ছে তুমুলহারে। প্রতিষেধক তৈরি না হওয়ায় এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে চক্রবৃদ্ধি হারে। বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোকেও কাবু করে ফেলেছে এই রোগ। ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে এই রোগের বড় প্রতিষেধক হলো পরিচ্ছন্ন থাকা, সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় রুমাল দিয়ে চেপে ধরা, মাস্ক পরিধান করা ও নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কথা বলা। মূলকথা এসব সাবধনতা অবলম্বন করতে ঘরের মধ্যে অবস্থান করাই মূল প্রতিষেধক। দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতিকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশ সরকার দেশের সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। লকডাউন করে দিয়েছে সারা দেশকে। এই সময় হত দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে। দিন আনে দিন খায় এমন মানুষ না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। ফলে বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। ঠিক সময়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী অসহায়দের জন্য বড় ধরনের ত্রাণ নিয়ে হাজির হয়েছে। এই দুর্যোগকালে কোনো মানুষ যেন অসহায়ত্বের জীবনযাপন না করে। পৌঁছে গেছে প্রতিটি ইউনিয়নে ত্রাণের মালামাল। দুর্যোগকালে বাংলাদেশের মানবতাকামী মানুষ যখন অসহায়দের খাবার দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনি দেশের এক শ্রেণির মানুষ নিজের সম্পদ বাড়ানোর জন্য গরিবের ত্রাণ চুরির অপেক্ষার প্রহর গুনছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের অনেক অসাদু গণপ্রতিনিধি। গণমাধ্যমে অনেক ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যনের ত্রাণ চুরির সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি থাকা সত্ত্বেও ত্রাণ চুরির ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। তবে ত্রাণ চুরির ঘটনা বাংলাদেশের নতুন কোনো সংবাদ নয়। এটা পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী সংবাদ। এখন ভাবার বিষয় দেশের ক্রান্তিকালে যারা গরিবদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দান চুরি করছে তারা অন্য সময়ে কতটা চুরি করেছে? তাই তো বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি পেয়েছি একটা চোরের খনি। বঙ্গবন্ধুর সময় থেকে চুরি শুরু হয়েছে সেই চুরি আজ পর্যন্ত চলছে। বালিশ কিনে চুরি করে, পর্দা কিনেও চুরি করে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা অত্যন্ত তুখোড় একজন প্রধানমন্ত্রী। তিনিও পারলেন না দেশের চোরদের থামাতে। তার দেওয়া ত্রাণও চুরি হচ্ছে অবাধে। তাহলে কি এই চুরি কখনই থামবে না? এই চোরদের থামাতে না পারলে দেশ কখনই উন্নয়নের জোয়ারে ভাসবে না। বরং দিন দিন বাংলাদেশ নিম্নগামী হয়ে যাবে। তাই তো বলি প্রধানমন্ত্রী আপনি চোরদের ধরুন। কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আপনার হাতে দেশ অনেক উপরে উঠবে। আপনি বাংলাদেশের মানুষের আশার প্রদীপ।

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ