নারায়ণগঞ্জে ৭৪৫টি ভোট কেন্দ্রের সবগুলোতে পরাজিত ঐক্যফ্রন্ট!

Pub: Thursday, January 3, 2019 7:48 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : অবশেষে নানা নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে শেষ হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেখানে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি আসনেই একচেটিয়া জয়লাভ করেছে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা। পক্ষান্তরে অবিশ^াস্য ভাবে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। এমনকি জেলার ৭৪৫ টি কেন্দ্রের মধ্যে কোনোটিতেই নিজেদের কর্তৃত্ব দেখাতে পরেননি তারা। নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রেও তাদের সাথে আ’লীগ মহাজোট প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ছিলো চোখে পড়র মতো। নারায়ণগঞ্জের সার্বিক নির্বাচন ঐক্যফন্টের ৫ জন প্রার্থীর কিছু পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) এই আসনে ১২৭টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯১ জন। যার মধ্যে ৭৮ দশমিক ১৩ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৭২ হাজার ৩১২ টি ভোট গৃহীত হয়েছে। গৃহীত ভোটের মধ্যে মাত্র (৬ দশমিক ০১ শতাংশ) ১৬ হাজার ৪৩৪ টি ভোট পেয়েছেন এই আসনের বিএনপি তথা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান। নিজ কেন্দ্র রূপসী কাজী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৪০৯৯ টি ভোটের মধ্যে ৬৩৮ টি ভোট পেয়েছেন তিনি!। মোট ১২৭ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬১ টি কেন্দ্রেই ২ অঙ্কের সংখ্যা অতিক্রম করতে পারেননি তিনি। ২ টি কেন্দ্রে ভোট পেয়েছেন ১০ টির চাইতেও কম ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) এই আসনে ১১৩টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬৭ জন। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে গড়ে সর্বোচ্চ ৮৬ দশমিক ৯১ শতাংশ (২ লাখ ৪৬ হাজার ৬২৪ টি ভোট) গৃহীত হয়েছে এই আসনে। গৃহীত ভোটের মধ্যে মাত্র ২ দশমিক ০৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন এই আসনের বিএনপি তথা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ। মোট প্রাপ্ত ৫ হাজার ১১১ টি ভোটের মধ্যে নিজ কেন্দ্র পাচরুখী সাহেব আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকেই পেয়েছেন ৯৬৩ টি ভোট!। অন্যান্য ১১২ টি কেন্দ্রে থেকে তার মোট প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ১৪৮!। মোট ১১৩ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩ টি কেন্দ্রেই ২ অঙ্কের সংখ্যা অতিক্রম করতে পারেননি তিনি। ২৯ টি কেন্দ্রে ভোট পেয়েছেন ১০ টির চাইতেও কম ভোট। যার মধ্যে ৭টি কেন্দ্রেই তার ভোটের ঝুলি শূণ্যের কোঠায়!।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) এই আসনে ১১৮টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ৮৭২ জন। যার মধ্যে ৭৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৬৬ টি ভোট গৃহীত হয়েছে। গৃহীত ভোটের মধ্যে মাত্র (৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ) ১৮ হাজার ৪৭ টি ভোট পেয়েছেন এই আসনের বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। নিজকেন্দ্র মেঘনা শিল্প নগরী স্কুল এন্ড কলেজের মোট ২৩৮২ টি ভোটের মধ্যে ৪৩৮ টি ভোট পেয়েছেন তিনি!। মোট ১১৮ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০ টি কেন্দ্রেই ২ অঙ্কের সংখ্যা অতিক্রম করতে পারেননি তিনি। তবে কোনো কেন্দ্রেই ১০ টির চাইতে কম ভোট পাননি তিনি!।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) এই আসনে ২১৬টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৫১ হাজার ৯৯ জন। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে গড় সর্বনিম্ম ৭৬ দশমিক ১৮ শতাংশ অর্থাৎ ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯৬৫ টি ভোট গৃহীত হয়েছে এই আসনে। গৃহীত ভোটের মধ্যে (১৩ দশমিক ৬ শতাংশ) ৭৬ হাজার ৫৮২ টি ভোট পেয়েছেন এই আসনের জমিয়তে উলামায়ে তথা ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মনির হোসাইন কাশেমী। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে অন্য যে কোনো আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের তুলনায় ভোটারদের কাছে সবচেয়ে অপরিচিত প্রার্থী ছিলেন তিনি। এমনকি নির্বাচনের ঠিক পূর্বের সময়টিতেও তাকেই রাজপথে সবচেয়ে বেশী নিক্রিয় দেখা গেছে। তবুও অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় তার পরিসংখ্যান অনেকটা ভালো বলাই শ্রেয়। সংখ্যায় ধানের শীষ প্রতীকের জন্য নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশী ভোটও পেয়েছেন তিনি। যে বিষয়টি অনেকটাই কাল্পনিক বলে মন্তব্য করেছেন জেলার রাজনীতি বিশ্লেকদের কেউ কেউ। নিজকেন্দ্র মুসলিমনগর সরকারি শিশু পরিবার ও এতিমখানার মোট ৪১৩৬ টি ভোটের মধ্যে ৭৪৩ টি ভোট পেয়েছেন তিনি। মোট ২১৬ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮ টি কেন্দ্রে ২ অঙ্কের সংখ্যা অতিক্রম করতে পারেননি তিনি। তবে কোনো কেন্দ্রেই ১০ টির চাইতে কম ভোট পাননি তিনি।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) এই আসনে ১৭১টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬১৬ জন। যার মধ্যে ৭৮.৫৮ শতাংশ অর্থাৎ ৩ লাখ ৫০ হাজার ১৬৩ টি ভোট গৃহীত হয়েছে। গৃহীত ভোটের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের অন্য যে কোনো আসনের সাথে তুলনায় পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে গড় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ (৫২ হাজার ৩৫২ টি) ভোট পেয়েছেন এই আসনের নাগরিক ঐক্য তথা ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি এসএম আকরাম। নিজকেন্দ্র গণবিদ্যা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট ৩৩৯৭ টি ভোটের মধ্যে ৭৬৩ টি ভোট পেয়েছেন তিনি। মোট ১৭১ টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০ টি কেন্দ্রে ২ অঙ্কের সংখ্যা অতিক্রম করতে পারেননি তিনি। তিনিও কোনো কেন্দ্রেই ১০ টির চাইতে কম ভোট পাননি তিনি!। ৫টি আসনের মধ্যে শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ ৪ ও ৫ আসনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমী ও এসএম আকরাম ব্যতিত অন্য সকল পরাজিত প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
অপরদিকে ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ শুরু হবার পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ঐক্যফ্রন্টের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া ও রাতে পুলিশের সহায়তায় নৌকায় সীল দিয়ে বাস্র ভর্তি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীসহ নেতৃবৃন্দ। পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখার ফলে নিজের ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করে দুপুরেই নির্বাচন বর্জন করেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী মান্নান। নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় একটি সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী এসএম আকরাম জানান, অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের কাছ থেকে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন যে শুধু আঙ্গুলে দাগ দিয়েই বলা হয়েছে ভোট হয়ে গেছে বাড়ি যান। এছাড়াও সকাল ৯টা থেকেই নগরীর বার একাডেমিসহ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ঐক্যফ্রন্ট সমর্থক ভোটারদের বের করে দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ