নিরাপত্তাহীনতায় এটিএম বুথের নিরাপত্তা প্রহরীরা

Pub: Friday, May 8, 2020 8:54 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সীমিত আকারে ব্যাংকিং চালু থাকলেও সার্বক্ষণিক এটিএম বুথ সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকগুলোর ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের উৎসাহিত করছে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, এটিএম বুথ ও পয়েন্ট অফ সেলস (পস) লেনদেনের জন্য গ্রাহকদের পরামর্শ দিচ্ছে।

শাখায় না গিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের জন্য এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে ডিজিটাল লেনদেনের উৎসাহিত করতে এত আয়োজন থাকলেও করোনার এই মহামারিতে নিরাপত্তাহীন ভাবে ডিউটি করছেন রাজধানীর বিভিন্ন এটিএম বুথের নিরাপত্তা প্রহরীরা। তারা নিরাপত্তা দিলেও নেই তাদের নিরাপদ সরঞ্জাম, নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার, পিপিউ, হ্যান্ডগ্লাপস। এসব এটিএম বুদ গুলো থেকে দিনে শত শত মানুষ টাকা উত্তোলন করতে যায়। ছোট খাটো সমস্যায় নিরাপত্তা প্রহরীদের ডাকা হয়. আর এর থেকেই করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে আছেন তারা। 

রাজধানীর শনিরআখড়া, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্থান, পল্টন, মতিঝিল, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকার এটিএম বুথ গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক এটিএম বুথের নিরাপত্তা প্রহরীরা তাদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছে। তবে কিছু কিছু নিরাপত্তা প্রহরীরা মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

এটিএম বুথের নিরাপত্তা প্রহরীরা জানান, ৮ ঘণ্টা বেশি সময় আমাদের ডিউটি করতে হয়। বর্তমানে দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে কিন্তু কোম্পানি থেকে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে আমাদের সুরক্ষার কোন ব্যবস্থা করা হয় নাই। আমাদের দেয়া হয় নাই কোন পিপিই, মাস্ক, হাতের গাল্পস, যে মাস্কগুলো ব্যবহার করি সেগুলো আমাদের নিজেদের কেনা।

তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘৮ হাজার টাকা বেতনের চাকরি কোন বোনাস নাই। সংসারই চলে না, তারপরে এই করোনার সময় কোম্পানি থেকে কোন প্রকার সরঞ্জাম দেয় নাই, আমাদের যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।

শনিরআখরার ডাচ বাংলা এটিএম বুথের নিরাপত্তা প্রহরী নান্নু ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘৮ ঘণ্টা ডিউটি ৮ হাজার বেতন। এ ছাড়া আর কোন বোনাস দেয় না।’

বুথের দোরজা মেসিনসহ রুমটা নিয়মিত ভাইরাস প্রতিরোদের কোন স্প্রে করা হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্প্রে করা হয় , পরিষ্কারও করা হয় কিন্তু ঔষুধ শেষ হয়ে গেছে আবার খবর পাঠালে ওষুধ দিয়ে যাবে।’

যে মাস্ক পড়েছেন এ মাস্ক কোনও কাজের না, সেনিটাইজার, মাস্ক পড়েন নাই কেন? জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘বেতন কম পাই। আর কি মাস্ক পড়লে ভালো হবে তাও জানি না।’

ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে অফিস থেকে কোনও ব্যবস্থা করেছে কিনা জানতে চাইলে নান্নু বলেন, ‘নিজের টাকা দিয়ে মাস্ক কিনেছি। আর অফিস থেকে হাতে মাখানোর জন্য একটা ওষুদ দিয়েছিলো তা দিয়ে এই রুমও পরিস্কার করতে বলা হয়েছিলো। সেটাও শেষ তা ছাড়া আর কিছু দেয় নাই।’

শনিরআখরার সোস্যাইল ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথের প্রহরী জানান, ‘অফিস থেকে হ্যান্ড সেনিটাইজার দেয় হাতে নেওয়ার জন্য। আর মাস্ক আমার টাকা দিয়ে কিনা।’

কয়েকজন গ্রাহক জানান, ‘করোনা সতর্কতার প্রথমদিকে এটিএম বুথগুলোতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়ে তোড়জোড় ছিল। এখন তার অনেকটাই শিথিল হয়ে গেছে।এ বিষয়ে সতর্ক হতে ব্যাংকগুলোর প্রতি অনুরোধ জানান তারা।’

এটিএম বুথ সেবায় শীর্ষস্থানীয় একটি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ‘ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও গাফিলতি নেই। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রহরীরা হয়তো দায়িত্ব পালন করতে গাফিলতি করে। এ বিষয়ে তদারকি করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।’

আর এক শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের পিআরও বলেন, ‘ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থাই করা হয়েছে। সব সুরক্ষা সরঞ্জাম দেয়া হয়। তবে কিছু কিছু প্রহরী আছে যারা কাজের গাফিলতি করে। সুরক্ষা সরঞ্জাম পড়ে না। তবে এ বিষয়ে আমাদের তদরকি করার জন্য লোক আছে। তারপরও আরেকটু বেশি খোঁজ খবর রাখা হবে।’

ব্যাংকগুলোর বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার এটিএম বুথ রয়েছে। আর সিডিএম ও সিআরএম আছে আরো ১ হাজার ৬ শত ৬৬ টি। এছাড়া সারাদেশে কেনাকাটার বিল পরিশোধের জন্য ৬০ হাজার ৪ শত ৭৪ টি পয়েন্ট অফ সেলস (পস) মেশিন রয়েছে।

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ