নড়িয়ায় প্রেমিকের মা বকুনিতে স্কুল ছাত্রি আত্নহত্যা ,আটক-২

Pub: Monday, March 23, 2020 7:52 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ নড়িয়া উপজেলার নিলগুন গ্রামের রমনী (বিপুল)কবিরাজের মেয়ে ভেদরগঞ্জ প্রতিভা সাইন্স পিরামিড স্কুলের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রি প্রেমিকের মায়ের বকুনিতে লজ্জা সইতে না পেরে গলায় ফাসি দিয়ে আত্নহত্যা করেছে বলে মৃত ছাত্রির মা অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় মৃত ছাত্রির মা লাবনী বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় ৪জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। এঘটনায় পুলিশ ২জনকে গ্রেফতার করে কোর্টে সোপর্দ করেছে।
নড়িয়া থানা ও ছাত্রির মামা শ্রীকৃঞ্ষ জানায়, নড়িয়া উপজেলার নিলগুন গ্রামের বিদেশ প্রবাসি রমনী (বিপুল )কবিরাজের কন্যা ভেদরগঞ্জ প্রতিভা সাইন্স পিরামিড স্কুলের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রি স্বপ্না রানী কবিরাজ (১৬) কে প্রতিবেশী সুজিত বাছার ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত অনুমান ১১টায় ঘরে ঢুকে ঘুমের ঘরে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। এ ঘটনাটি দীর্ঘদিন চাপা থাকলে ও গত ১০/১২দিন পূর্বে লোকজনের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়। এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে। এরপর প্রেমিকের বড় ভাই অজিত বাছার ও তারই স্ত্রী রিনা রানী ছাত্রির মা লাবনী রানীকে ডেকে নিয়ে বলে তোমার মেয়ের সাথে আমার ভাই সুজিত কি করেছে এখবর অন্যলোক জানে কিভাবে? এতে আমাদের ইজ্জত গেছে।তোমার মেয়ে মরেনা কেন? ।এ বিষয়টি নিয়ে এলাকার সাধারন মানুষ তালগোল পাকায়। গত ২২মার্চ সকাল অনুমান ১১টায় প্রেমিক সুজিতের মা পারুল রানী বাছার স্কুল ছাত্রি স্বপ্না রানী ও তার মা লাবনী রানীকে তাদের বাড়ি ডেকে নিয়ে বলে আমার ছেলের সাথে তোমার মেয়ে খারাপ সম্পর্কের কথা মানুষ কিভাবে জানে? । তোমরাই জানাইছ। এ সময় মেয়ে ও মেয়ের মাকে পারুল বাছার গালিগালাজ করে। বকাবকির লজ্জা সইতে না পেরে ছাত্রি স্বপ্না সেখান থেকে বাড়ি চলে এসে একটি চিরকুট লিখে নিজের খাটের উপর রেখে এবং ডায়েরীতে ২০১৮ সালের ঘটনা লিখে নিজেদের ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্নহত্যা করে। ঐ সময় স্বপ্নার মা ঐ বাড়িতেই কথা কাটাকাটি করছিল। পরে সে বাসায় ফিরে ঘরের দরজা বন্ধ পেয়ে মেয়েকে ডাকাডাকি করে। কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে মেয়েকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত দেখতে পায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়।রোববার রাতে মৃত ছাত্রির মা লাবনী রানী বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় ৪ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রেমিক সুজিত বাছারের মা পারুল বাছার ও ভাই অজিত বাছারকে গ্রেফতার করেছে।
মামলার বাদীনি মৃত ছাত্রির মা লাবনী রানী বলেন, আমার মেয়েকে ২০১৮ সালে ঘুমের ঘওে সুজিত বাছার সর্বনাশ করেছিল। কয়েকদিন পূর্বে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এ ঘটনার পর সুজিতের ভাই অজিত বাছার বৌ রিনা রানী ও তার মা পারুল আমাকে ও আমার মেয়েকে ডেকে নিয়ে নানা রকম গালি গালাজ করেছে। এ লজ্জা সইতে না পেওে আমার মেয়ে আত্নহত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।
নড়িয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ২ জনকে গ্রেফতার করে কোর্টে সোপর্দ করেছে। অন্য আসামীদো গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ