পর্ব ৪: সিলেটের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আজিজুর রহমান

Pub: Friday, March 6, 2020 4:14 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোহাম্মদ আজিজুর রহমান ১৯৪৫ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আলহাজ শরাফত আলী এবং মাতা মহিবুন্নেছা খানম। পৈতৃক নিবাস সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের ছত্রিশ গ্রামে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯ মার্চ জয়দেবপুরের দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য পাকিস্তানি বাহিনী যখন অপচেষ্টা চালায়, আজিজুর রহমান তখন ওই রেজিমেন্টের অ্যাডজ্যুট্যান্ট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং এ রেজিমেন্টকে সাথে নিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

২৫ মার্চের পর পাকিস্তানি সেনারা সিলেট শহরে অবস্থানরত বাঙালি সেনা, অফিসার ও রাজনৈতিক কর্মীদের বন্দি ও হত্যা শুরু করে। শত্রæসেনাদের মোকাবেলা করতে ২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট তেলিয়াপাড়া, শ্রীমঙ্গল, লাতু, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ হয়ে সিলেট শহরে প্রবেশ করে। ৮ এপ্রিল কিছু সেনা নিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে ক্যাপ্টেন আজিজুর রহমান সিলেট শহর, খাদিমনগর, আম্বরখানা ও ওয়্যারলেস স্টেশন এলাকায় মোতায়েন ছিলেন। শত্রæদের প্রধান ঘাঁটি ছিল সিলেট বিমানবন্দর এলাকায়। মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সেনা নিয়ে রাত প্রায় তিনটার দিকে পাকিস্তানি সেনারা তাঁর অবস্থানে আক্রমণ করে। তাদের হাতে ছিল মর্টার, আর্টিলারি ও অন্যান্য ভারি অস্ত্র। শুরু হয় প্রচন্ড যুদ্ধ। যুদ্ধের একপর্যায়ে শত্রæসেনারা সিলেট শহর দখল করে নেয়। সিলেটের কিনব্রিজ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি এলএমজি পোস্ট ছিল। পরের দিন ৯ এপ্রিল সেখান থেকে অনবরত গুলিবর্ষিত হতে থাকে। এলাকাটি তখনো মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে। এ যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনার গুলির আঘাতে এলএমজি অপারেটর শহিদ হন। এমতাবস্থায় ক্যাপ্টেন আজিজুর রহমান নিজে এলএমজি থেকে পাকিস্তানি সেনাদের উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়তে শুরু করেন। ফলে শত্রুসেনারা সুরমা নদী পার হতে ব্যর্থ হয়। পাশেই চালকবিহীন পড়ে থাকা একটি জিপে চড়ে তিনি নিজ কমান্ড পোস্টে ফিরতে উদ্যত হলে শত্রæর গোলার আঘাতে জিপটি আক্রান্ত হয়ে নদীর ঢালে পড়ে যায় এবং ক্যাপ্টেন আজিজুর রহমান আহত হন। সাদিপুর, শেরপুর, লালবাজার শ্রীমঙ্গল, কালেঙ্গার যুদ্ধে তিনি বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে তিনি ৩ নম্বর সেক্টরের বাঘাইছড়ি সাব-সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। বীরত্বের সাথে যুদ্ধের পর ৩ নম্বর সেক্টর থেকে এস ফোর্সে অন্তর্ভুক্ত হন। কালীঘাট চা-বাগানের যুদ্ধে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।

মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর-উত্তম খেতাবে ভ‚ষিত করে। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে বীর-উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়। বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত গেজেটে তাঁর নম্বর ২২, পৃষ্ঠা ১২৫৮, তারিখ ১১ মার্চ ২০০৪।

মোহাম্মদ আজিজুর রহমানের স্ত্রীর নাম সেলিনা আজিজ। তাঁদের এক ছেলে এবং এক মেয়ে।

Hits: 2


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ