পলাশবাড়ীতে জমি প্রস্তুতসহ বোরো চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

Pub: Thursday, February 20, 2020 7:25 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ শীতের তীব্রতা কমে যাওয়ার সাথে-সাথেই জমি প্রস্তুতের পাশাপাশি বোরো ধানের চারা লাগানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষকরা। এ উপজেলার কৃষকেরা কোমর বেঁধে বোরো চাষে মাঠে নেমেছেন। কৃষকরা বলছেন শেষ পর্যন্ত প্রাকৃতিক আবহাওয়া এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক থাকলে সুষ্ঠুভাবে শতভাগ ফসল ঘরে তুলতে পারবেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, বোরো চারা রোপনের সময়কাল জানুয়ারি ১৫ থেকে মার্চ ১৫ পর্যন্ত। চলতি মৌসুমে এই উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাসহ মোট ১২ হাজার ৪’শ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার ৬’শ ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চারা রোপন সম্পন্ন হয়েছে। বোরো চারা রোপনের মূল লক্ষ্যমাত্রানুযায়ী প্রায় ৮’শ হেক্টর জমি বীজতলা করা হয়েছে। এ হিসেবে ১ হেক্টর জমির চারা দিয়ে ২০ হেক্টর জমিতে চারা রোপন সম্ভব হয় বলে কৃষি অফিস সূত্র জানায়।
সরেজমিন উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা যায়, বোরো চাষে লিপ্ত কৃষকরা রাত শেষে ভোর বেলার শীতের তীব্রতা কাটতে না কাটতেই তারা বসতবাড়ী ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছে বোরো মাঠে। কৃষকরা কেউ কেউ প্রতিযোগিতা মূলক যান্ত্রিক যান দিয়ে চাষবাসের পর রাসায়নিক সার ছিঁটানোর মাধ্যমে জমি প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করছেন। আবার অনেকেই শেষ পর্যায়ে চারা রোপনে লিপ্ত রয়েছেন। চারা রোপনের নিমিত্তে বীজতলা থেকে চারা উত্তোলনে কৃষাণ-কৃষাণিরা ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। কৃষকেরা তাদের নিয়োজিত শ্রমিকদের নিয়ে শীত উপেক্ষা করে শরীরে কাঁদা পানি মাখিয়ে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ভালোয় ভালোয় চারা রোপনের কাজ শেষ করতে।
উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউপি’র আন্দুয়া গ্রামের বোরো চাষী আব্দুল হামিদ, বেতকাপার হরিপুর গ্রামের বাসেদ মিয়া, সদর ইউপি’র ফজলু মিয়া ও বরিশাল ইউপি’র আমিনুল ইসলাম ছাড়াও অন্যান্য ইউপি’র বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত বছর গুলোতে আমন ও বেরো চাষে লাভ-লোকসানে হিসেব গুলিয়ে ফেলেছেন তারা। বিগত আমন মৌসুমে হাট-বাজার গুলোয় খুচরা ও পাইকারী কেনা-বেচায় উৎপাদিত ধানের উচিৎ মূল্য গেলেও এ উপজেলার কৃষকেরা নতুন চিন্তা-ভাবনায় ভবিষ্যতের আশায় খেয়ে না খেয়ে মাঠে নেমেছেন বোরো চাষে।
উপজেলা কৃষি অফিসার আজিজুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এ উপজেলার তৃণমূল কৃষকেরা চলতি মৌসুমে তাদের প্রস্তুতকৃত জমিতে বোরো ধানের চারা লাগাতে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন।
প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ দেখা না দিলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সর্বসাকূল্যে বোরো রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। এ উপজেলায় বিসিআইসি অনুমোদিত ১১ জন সার ডিলার রয়েছেন। তাদের বিপরীতে প্রতি ইউনিয়নের প্রতি ওয়ার্ডে ১ জন করে রয়েছেন খুচরা সার বিক্রেতা ডিলার। এ মৌসুমে চাহিদার তুলনায় ইউরিয়াসহ সবধরনের রাসায়নিক সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কোথাও কোন সারের দাম বাড়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধি করেছে। অপরদিকে ভূগর্ভের পানির স্তর কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কেউ কেউ বোরো চাষে কিছুটা আগ্রহ হারিয়ে ঝুঁকে পড়ছেন রবিশষ্যের দিকে। তারা একই মৌসুমে গম, ডাল, ভূট্টা ও সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এ হিসেবে প্রতি বিঘা জমি বোরো চাষে ব্যয় দাড়াচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকা।

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ