বন্ধ হোক রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন

Pub: Saturday, February 29, 2020 4:31 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লাভা মাহমুদা

পত্রপত্রিকা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম- সবখানেই পাপিয়া নামের মেয়েটিকে নিয়ে ব্যাপক শোরগোল, কিছুদিন আগে সম্রাট নামের ক্যাসিনো-সম্রাট নিয়ে যেমনটা হয়েছিল।

কয়েকদিন পরপর এমন দু-একটা খণ্ডচিত্র সামনে আসে আর আমরা চিৎকার শুরু করি। ভাবখানা এমন- এটা কোনো নতুন ধরনের ঘটনা। কিন্তু স্পষ্ট করেই জানি, পাপিয়ারা আগেও ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে বহাল তবিয়তে।

রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন প্রক্রিয়ায় পাপিয়া-সম্রাটের মতো হাতিয়ারগুলোর যে বড়ই প্রয়োজন। পাপিয়ারা একদিনে তৈরি হয়নি এবং কোনো অন্তরালেও তাদের বিচরণ ছিল না।

বরং ক্ষমতা কেন্দ্রের খুব কাছাকাছিই তাদের অবাধ যাতায়াত। দেশের রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী বলয়েই ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত তাদের। তাই ‘ব্যক্তির দায় দল নেবে না’ এমন দাবি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

শুধু নরসিংদী নয়, গোটা বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র এমনই। ঘুষ-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে হেন কোনো অপকর্ম নেই যা হয় না। সবকিছুই ঘটে ক্ষমতা বলয়ে থাকার প্রভাব দেখিয়ে। দৃশ্যপট একই থাকে।

হিসাবের ভুল হলে শুধু পাত্রপাত্রী পাল্টে যায়। পাপিয়া বা সম্রাটেরও হিসাবে কোনো গণ্ডগোল হয়েছিল নিশ্চয়ই, তাই তাদের কুৎসিত রূপটি বেরিয়ে এসেছে।

অন্য কেউ যদি ভুল করে, তাদের পরিণতিও এমনই হবে। কিন্তু যাদের হাত ধরে পাপিয়া-সম্রাটদের উত্থান, পর্দার অন্তরালের সেই খলনায়কদের চেহারা অন্ধকারেই থেকে যায়। তাই শুধু পাপিয়ার রিমান্ড হয়।

পাঁচ তারকা হোটেলের মালিক, সেখানে যারা যেত আর বাঁটোয়ারার ভাগ পেত, তাদের চুলটিও কেউ স্পর্শ করতে পারে না, একেবারেই ধরাছোঁয়ার বাইরের এক জগতে তাদের বাস। তবে তাদের বিচারের আওতায় আনা গেলে দৃশ্যপট পাল্টেও যেতে পারত।

জানা কথা, এসব কিছুই হবে না। রাঘববোয়ালরা আড়ালেই থাকবে। পাপিয়ারাও একসময় দৃশ্যের আড়ালে চলে যাবে। আবারও শূন্যস্থানে যথাসময়ে অন্য কোনো পাপিয়া আসবে। হিসাবের ভুলে তারও এমন পরিণতি হবে। কিন্তু গডফাদাররা জায়গামতো থেকেই যাবে।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের রাজনীতি ছিল স্বাধিকার আন্দোলনের। সে সময় ছাত্র রাজনীতি দিয়ে যারা রাজনীতি শুরু করেছিলেন তাদের পড়াশোনায় গভীরতা ছিল।

প্রজ্ঞা-জ্ঞান-গরিমায় নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়েছিলেন তারা। সুস্থ ধারার রাজনীতির জন্য ব্যাপক পড়াশোনা, রাজনৈতিক গবেষণা জরুরি।

কিন্তু বর্তমানে বামপন্থী দলগুলো ছাড়া আর কেউই পড়াশোনাটাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। পাপিয়াদের নিয়োগ দেন যারা, তাদের কাছে পড়াশোনা ও সাংগঠনিক দক্ষতা যতটা না প্রাধান্য পায়, তার চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ক্ষমতা, আধিপত্য বিস্তার, পেশিশক্তি এবং অন্যান্য অপকর্মে দক্ষতা।

তাই জনগণের মঙ্গলের বিবেচনা দূরে থাক; আত্মসচেতনতা, আত্মোপলব্ধি, আত্মশুদ্ধির মতো বিষয়গুলোর চর্চা কেউ করে না। দুর্নীতি, কালো টাকা আর দুর্বৃত্তায়নের কাছে পরাজিত সৎ, একনিষ্ঠ, ত্যাগী মানুষেরা।

আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে গেল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো, একটি দেশের মানবিক ও সামাজিক বিকাশে যার গুরুত্ব অপরিসীম। সরকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করে, মানুষ খুশি হয়।

কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর অদৃশ্য কারণে সেই অভিযান থেমে যায়। আবার আস্থাহীনতা তৈরি হয়। এ এক আলো-আঁধারের খেলা, যে খেলায় শেষ পর্যন্ত আঁধারের কাছে আলো পরাজিত হয়।

দুর্নীতি, অন্যায়, অনাচার আর দুর্বৃত্তায়নের বিষবৃক্ষে ছেয়ে গেছে দেশ। এই বিষ রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে ধ্বংস করছে দেশের রাজনৈতিক সব প্রতিষ্ঠানকে। এখানে পাপিয়ারা সামান্য উচ্ছিষ্টভোগী মাত্র।

একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পারেন তার দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব দিয়ে অশুভচর্চার এই শৃঙ্খল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে। নইলে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার আলোকজ্জ্বল নিয়ন আলোর উল্টোপিঠে এই অন্ধকার দিকগুলো শুধু দীর্ঘশ্বাসকেই প্রলম্বিত করবে।

লাভা মাহমুদা : শিক্ষক

Hits: 2


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ