দেনা-পাওনা নিয়ে বিরোধে স্ত্রীর ভাইয়ের হাতে খুন সজীব বিল্ডার্সের মালিক

Pub: Monday, August 10, 2020 12:35 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আবুল খায়ের ও তার সম্বন্ধী (স্ত্রীর বড় ভাই) মো. মিলন ঠিকাদারি করে আসছিলেন। পড়ালেখা জানা থাকায় আবুল খায়েরের ভাগ্য দ্রুত বদল হলেও মিলন তার আগের অবস্থানেই রয়ে যান। এ দীর্ঘ পথ চলায় দেনা-পাওনা নিয়ে বিরোধ থেকে জন্ম নেওয়া ক্ষোভের জেরে খায়েরকে খুন করেন মিলন।

নিহত আবুল খায়েরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সজীব বিল্ডার্সে মিলন রড বাইন্ডার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মূলত তাদের দুজনের মধ্যে দেনা-পাওনা নিয়ে দেন দরবারের একপর্যায়ে রাগান্বিত হয়ে মিলন প্রথমে রড এবং পড়ে কাঠ দিয়ে মাথায় একের পর এক আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করেন ভগ্নিপতি আবুল খায়েরকে।

রবিবার (৯ আগস্ট) নিজ কর্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমর চক্রবর্তী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মিলন একাই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করেন। তবে তিনি পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করেননি। হিট অব দ্য মোমেন্টে তিনি প্রথমে  লোহার রড দিয়ে ও পরে নির্মাণ সামগ্রী কাঠ দিয়ে খায়েরের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলে খায়েরের মৃত্যু হলে মিলন পালিয়ে যান।

গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলকার এম ব্লকে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সজীব বিল্ডার্সের মালিক আবুল খায়েরের (৫২) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল খায়েরের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্বর্ণা বাদী হয়ে ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত শনিবার তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকেই সন্দেহভাজন হিসেবে নিহত খায়েরের স্ত্রীর বড় ভাই মিলনকে (৪৪) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন মিলন।

ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, অভিযুক্ত মিলন ও ভিকটিম আবুল খায়ের দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করতেন। প্রথমে দুজনই ছিলেন নির্মাণ শ্রমিক। পরবর্তীতে খায়ের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এতে আবুল খায়েরের ভাগ্য ফিরলেও মিলন খায়েরের সজীব বিল্ডার্সেই রড বাইন্ডার হিসেবে দৈনিক ৬০০ টাকা মুজরির বিনিময়ে কাজ করতেন।

মিলনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, সে তার বোন জামাইয়ের কাছে মজুরি হিসেবে প্রায় ৮ লাখ টাকা পেতেন। এই টাকা না দেওয়াতেও ভগ্নিপতি আবুল খায়েরের ওপর ক্ষোভ ছিল। এছাড়া ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যে মুনাফা আসতো, তার কোনও ভাগই তাকে দিতো না খায়ের। এসব বিষয়ে ক্ষুব্ধ মিলন গত বৃহস্পতিবার বিকালে বোন জামাই খায়েরকে ডেকে ওই নির্মাণধীন ভবনে নিয়ে যান। সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রড দিয়ে খায়েরের মাথায় আঘাত করে মিলন। এতে খায়ের পড়ে গেলে পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে সেখান থেকে পালিয়ে যান মিলন।

পুলিশের উপ-কমিশনার আরও বলেন, আমরা পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও বিভিন্ন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েছি, খায়েরের স্ত্রীর বড় ভাই মিলন এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। হত্যার পর তার চাঁদপুর চলে যাওয়া এবং চাঁদপুর থেকে ঢাকা আসা এবং পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরিতে সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সব দায় স্বীকার করেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়া হয়েছে 1007 বার

Print

শীর্ষ খবর/আ আ