ভোটারের ভাবনায় ভোটই নেই, ক্ষোভ-শঙ্কায় কেন্দ্রবিমুখ

Pub: Friday, January 17, 2020 12:04 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

‘আমরা দিন আনি, দিন খাই। কাম না করলে ভাত পায় না। ভোট দিয়ে কি করুম? ভোটের সময় আইছে, অনেকেই ভোট চাই। অনেকেই জিতবো তাদের ভাগ্য খুলবো। তাতে আমাদের মত গরিবদের কি? আমরা তো একদিন কাজ না করলে ভাত পাই না।’

রুস্তম আলী চায়ের, দোকানদার। রাজধানীর সায়েদাবাদে টংয়েই চলে রুস্তমের সংসারের চাকা। সেখানেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে এইভাবেই মনের ভাবনাগুলো বলেন দক্ষিণের এই ভোটার।

রুস্তম আলীর চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন শরিফুল ইসলাম। তিনিও তাল মেলালেন রুস্তুম আলীর কথার। বলেন, ‘ভোট দিতে চাইলেই কি আমরা দিতে পারব? গত নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে দেখি আমার ভোট নাকি দিয়ে দিছে। এবারও যে সে রকম হবে না তা বুঝবো কেমনে? তাই ভোট নিয়ে এখন আর তেমন মাতামাতি নেই।’

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া সরজমিনে ঘুরে মুদি দোকানদার আবু তাহের, ব্যবসায়ী মফিদুল ইসলাম, রিকশাচালক এরশাদুল এর সাথে কথা হয়।

সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছেন জানতে চাইলে আবু তাহের বলেন, ‘বর্তমানে দোকান নিয়ে ব্যস্ত আছি। নির্বাচন নিয়ে কোনও ভাবনা মাথায় নিচ্ছি না।আর গত নির্বাচনে যে অবস্থা দেখেছি তাতে ভোট দিতে যাইতে মন চায় না। তারপরও দেখি অবস্থা বুঝে ভোট দিতে যাব।’

নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রার্থীরা বিভিন্নভাবে মানুষের কাছে যাচ্ছে ভোট চাচ্ছে। কিন্তু আগে যেরকম চায়ের দোকানে বিভিন্ন জায়গায় সবাই একসাথে বসে নির্বাচনের আলাপ-আলোচনা করত, সেই রকম আর দেখি না।’

মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভোট আসলেই কি, আর না আসলে কি। ভোট দিতে যাওয়া হবে না।’

রিকশাচালক এরশাদুল বলেন, ‘এখন নির্বাচনের তেমন কোনও উৎসব নাই। আগে যারাই আমার রিকশায় উঠত নির্বাচন নিয়ে জিজ্ঞাসা করতো, কথা বলতো। এখন কেউ কিছু জিজ্ঞেস করে না, কথা বলে না। শুধু দেখি যারা ভোটে দাঁড়াইছে, তাদেরকে নিয়ে মাইক দিয়ে প্রচার করতেছে। আগে দেখেছি— যারা ভোটে দাঁড়াইছে, তারা প্রত্যেকটি চায়ের দোকানে গিয়ে গিয়েও ভোট চাইতে, কিন্তু এখন তো দেখি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুনেছি মেশিনের মাধ্যমে ভোট হবে। আগে তো আমরা সিল মারতাম। মেশিন দিয়ে কেমনে ভোট দিব? আর মহিলারা কি মেশিন দিয়ে ভোট দিতে পারব?’

যাত্রাবাড়ীর ফার্নিচার ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, ‘ভোটের আমেজ এখন আর দেখতে পাচ্ছি না। আগে যে ভোটের একটি উৎসব হয়তো, সেটা এখন আর নাই। মানুষ ভোট দিতে যায় কম। তবে প্রার্থীরা বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে।’

ভোট দিতে যাবেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আসুক। সকালে অবস্থা বুঝে ভোট দিতে যাব, নাহলে যাব না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভোট আমাদের নাগরিক অধিকার। যে দলই নির্বাচন করুক, নির্বাচনের দিন অবশ্যই কেন্দ্র যাব এবং ভোট দিব। প্রতিটি ভোটারের অধিকার তার নিজের ভোট নিজে দেয়ার। তাই সব ভোটারকে কেন্দ্রে গিয়ে তার নিজের ভোট নিজে দেয়া উচিত।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়া হয়েছে 1001 বার

Print

শীর্ষ খবর/আ আ