বেতন-ভাতার দাবিতে নিউমার্কেট, গাউছিয়া ও চাঁদনী চকের কর্মীদের বিক্ষোভ

Pub: Sunday, May 10, 2020 7:48 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা: রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া ও চাঁদনী চক মার্কেটের দোকানের কর্মীরা তাঁদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে মার্কেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। আজ রোববার সকালে মার্কেটগুলো সামনে অর্থাৎ মিরপুর সড়কে এই ঘটনা ঘটে।

আজ রোববার বিকেলে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স ম কাইয়ুম এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কর্মচারীরা বকেয়া বেতনের দাবিতে মার্কেটের সামনে জড়ো হয়েছিল আজ। তা রাতের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে।’

স ম কাইয়ুম বলেন, নিউমার্কেট, গাওছিয়া এবং চাঁদনী চকসহ আশাপাশের সব মার্কেটের কর্মীরা আজ সকাল থেকেই জড়ো হয়েছিল সেখানে। মার্কেট কেন খুলবে না, কীভাবে বেতন পাবে কিংবা বকেয়া বেতনের কী হবে সেসব জানতে তারা জড়ো হয়েছিল। এক পর্যায়ে তারা মার্কেটের সামনে অবস্থান নিলে আমরা মালিক পক্ষদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিযেছি।’

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘কর্মীদের বকেয়া বেতন পাওয়ার দাবি মালিকদেরকে জানিয়েছি। এই ব্যাপারে সমাধানের আশ্বাস দেন মালিকরা। তারপর কর্মীরা রাস্তা থেকে সরে যায়। আজ রাতের মধ্যেই সব কিছু সমাধান হয়ে যাবে। তবে অনেক কর্মী দোকান খোলা রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মার্কেট খোলা না থাকলে তাঁরা খাবেন কি? কে দেবে খেতে? যদিও কিছুই করার নেই। করোনাও তো হেলাফেলার ব্যাপার না।’

এদিকে শ্রমিক কর্মচরী ইউনিয়নের সভাপতি জুয়েল মোল্লা বলেন, ‘গাউছিয়া মার্কেটের বেশিরভাগ দোকান মালিক শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে দোকান বন্ধ করে রেখেছেন। এই করোনাভাইরাস মহামারি চলাকালীন শ্রমিকরা কীভাবে বেঁচে থাকবে।’

মার্কেট মালিকদের সদস্যদের প্রতি ইঙ্গিত করে জুয়েল মোল্লা বলেন, ‘এখন কেউই শ্রমিকদের কথা ভাবছেন না।’

দোকান মালিকরা বকেয়া বেতন পরিশোধ না করায় রাস্তায় নামার কথা উল্লেখ করে আন্দোলনকারী মার্কেট শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, রোববার থেকে সরকার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দিলেও, কিছু মার্কেট মালিক তাদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে দুপুর ১২টার দিকে গাউছিয়া মার্কেটের সামনে মিরপুর সড়ক অবরোধ করে এবং বেলা সোয়া ১টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করে। 

গত ১০ মে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সীমিত আকারে দোকান খোলা রাখার। সরকারের ঘোষণার পর রাজধানীর প্রধান বিপণিবিতানগুলো যেমন- বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে, যমুনা ফিউচার পার্কসহ মিরপুরের বেশ কয়েকটি বড় জামা-কাপড়ের দোকান না খোলার সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। তারই ধারাবাহিকতায় নিউমার্কেট, গাউছিয়া ও চাঁদনি চক বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে গতকাল শনিবার রাতে চাঁদনী চক ব্যবসায়ী ফোরামের সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন বলেছিলেন, ‘আমরা ১১টি নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মার্কেট খোলা না রাখার। মার্কেট খোলা রাখলে করোনা আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমরাও যে আক্রন্ত হব না, বিষয়টি তো তা নয়। আমরা আশপাশের মোট ১১টি দোকানের মালিকরা বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, চিশতিয়া মার্কেট, ধানমণ্ডি হকার মার্কেট ও ইস্টার্ন মল্লিকাসহ আরো কয়েকটি মার্কেট বন্ধ রাখা হবে।’

যদিও আজ আবার বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘রাজধানীতে বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনা করে বেশিরভাগ শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ থাকলেও পুরান ঢাকার ইসলামপুর মার্কেট, চকবাজার, কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ীর আয়েশা মার্কেট, ধানমন্ডির রাপা প্লাজা, ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট এবং নগরীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকার দোকানগুলো রোববার থেকে আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।’

তবে ব্যস্ততম গুলিস্তান মার্কেট, বঙ্গবাজার, শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট, পুরান পল্টনের পলওয়েল মার্কেট এবং মিরপুর এলাকার মার্কেটগুলোসহ রাজধানীর বেশিরভাগ শপিংমল ও মার্কেট ঈদ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানান হেলাল উদ্দিন। 

এদিকে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নগরবাসীকে সরকার ঘোষিত সময়সূচি ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে নিজ নিজ এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত মার্কেট থেকে তাদের ঈদের কেনাকাটা শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি শপিংমলের প্রবেশপথে স্বয়ংক্রিয় জীবাণুনাশক টানেল বা চেম্বার স্থাপন এবং প্রতিটি দোকানে পৃথক তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। 

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ