শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
নদীর বুক চিরে ছুটে চলছে রঙিন নৌকা। বৈঠার ছন্দে ছন্দে এগিয়ে চলেছেন মাঝিরা। নদীর দুই তীর থেকে ভেসে আসছে দর্শকদের উল্লাস আর করতালি। কেউ নদীর পাড়ে, কেউ সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন এই দৃশ্য। এমন উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল বরিশালের উজিরপুরের সন্ধ্যা নদীতে। উপলক্ষ আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল ৩১ অক্টোবর বিকেলে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ আয়োজন দেখতে নদীর দুই তীর, সেতু ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হন বিপুলসংখ্যক মানুষ। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়।
স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের নদী ও জনপদের সঙ্গে নৌকা বাইচের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসময় বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীতে নৌকা বাইচ ছিল গ্রামবাংলার অন্যতম প্রধান বিনোদন। মাঝিদের বৈঠার ছন্দ, নৌকার গতি আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠত নদীর পাড়। সময়ের পরিবর্তনে সেই আয়োজন কমে এলেও উজিরপুরের এই প্রতিযোগিতায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনের আকর্ষণ এখনো অমলিন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় শিকারপুর শেরেবাংলা ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন সন্ধ্যা নদী থেকে প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ড শুরু হয়। চারটি নৌকা নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতা মেজর এম এ জলিল সেতু এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তী রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী নৌকাগুলো নিয়ে আবার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী দল নির্ধারণ করা হয়। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
নৌকা বাইচ উপলক্ষে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মেজর এম এ জলিল সেতু সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। সেতুর পশ্চিম প্রান্তে নির্মাণ করা হয় বিশাল মঞ্চ। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেতু ও নদীর দুই তীরে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। সেতুর ওপর বিপুলসংখ্যক মানুষ দাঁড়িয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করায় মহাসড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সুজা বলেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক আসমা ফেরদৌসী ও আবাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল।
বিপুল জনসমাগম ঘিরে পুলিশ, নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ১০টির বেশি স্বেচ্ছাসেবক দল নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে। প্রস্তুত রাখা হয় মেডিকেল টিম ও একাধিক অ্যাম্বুলেন্স। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় প্রতিযোগিতা।













