ব্যর্থ স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী কি খুবই গুরুত্বপূর্ণ !

Pub: Saturday, May 9, 2020 8:13 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া
সরকারের ব্যর্থ দুই মন্ত্রীর ব্যর্থতার কারণে করোনা পরিস্থিতি এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রী এতটাই ব্যর্থ যে দুই খাতে এখন চলছে চরম অরাজকতা। দেশের সর্বমহলই এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটাচ্ছে। এদের নিয়ে সমালোচনা আর বিতর্কের কোন অন্ত নাই। সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর বাণিজ্যমন্ত্রী পোষাক কারখানা মালিকদের সাথে বৈঠক করলেও সঠিক কোনো নির্দেশনা দিতে পরিপূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। ফলে গণহারে পোষাকশিল্প কারখানা খুলে রাখা, আবার সে কারখানা বন্ধ করে শ্রমিকদের গ্রামে পাঠানো আবার মালিকপক্ষ কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের ঢাকায় নিয়ে এসে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলা। আবার সীমিত আকাওে কারখানা চালু রাখার নামে শ্রমিকদেও ঢাকায় এনে পরিপূর্ণভাবেই কারখানা চালু কওে আরো বেশী জটিল কওে তুলেছে পরিস্থিতি। পোষাক শ্রমিকরাও পড়েছে নানা ধরনের জটিলতায় আর বিপদে। এরই মধ্যে তাদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস গ্রামেগঞ্জে ‌দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল থেকে বক্তব্য আসা শুরু করলো। সরকারের স্বাস্থ্য বিধি মেনে কারখানা চালুর কথা বললেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী, বিজিএমইএ সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করতে না পারায় পোষাকশিল্প কারখানাগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে সাভার, নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুরে বিভিন্ন পোষাক কারখানার শ্রমিকদের অনেকের মাঝেই করোনায় লক্ষন পরিলক্ষিত হচ্ছে। অন্যদিকে আবার এই সুযোগে কোন সুবিধাবাদী গোষ্টি গুজব ছড়িয়ে যে কোন ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে বলেও নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বাণ্যিজ্যমন্ত্রী অরাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক চিন্তা-চেতনা এতটাই প্রখর যে তিনি দেশের মানুষের চাইতে বাণ্যিজ্যকেই গুরুত্ব দিতে চাচ্ছেন। তার ব্যর্থতার কারণেই দেশে করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে-এমনটাই মনে করছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্যমন্ত্রীর অরাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মনোভাব এবং দূরদর্শিতার অভাবে ও মালিকদের সাথে সমন্বয়হীনতার কারণে পোষাক কারখানা খোলা রাখা-না রাখা নিয়ে যে বিভ্রান্তি ও শ্রমিকদের গ্রামে যাওয়া আবার ফিরে আসায় করোনা সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। এর আগেও দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রনেও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিল এই বাণিজ্যমন্ত্রী। বিজিএমইএ একেক সময় একেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে-দিচ্ছে। সরকারের ভাবমূর্তি, করোনার লকডাউন, জননিরাপত্তা কিছুই ধর্তব্যের মধ্যে রাখা হচ্ছে না। বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে এ সময়ও তিনি কার্যকর শক্তিশালী কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি। সমালোচনা রয়েছে, মন্ত্রী নিজেই পোশাক কারখানার মালিক। ফলে পোশাক ব্যবসায়ীদের তিনি কিছু বলতে পারেন না। উল্টো তাঁদের কথামতো চলেন। এত নাটকীয়তা, এত বিশৃঙ্খলা, করোনাকালে মানুষের জীবনে ভাইরাস সংক্রমণের এত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে শুধু মন্ত্রীর নমনীয়তার কারণে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরই চামড়া ব্যবসায়ীরা তাঁকে চেপে ধরেন। আর চামড়ার মতো সম্ভাবনাময় খাতটি বর্তমানে প্রায় চূড়ান্ত ধ্বংসের মুখে। আর এর জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর ব্যর্থতাকেই দায়ি কওে থাকেন চামরা ব্যবসায়ীরা। গত কোরবানির ঈদে মানুষ চামড়ার ন্যায্য দাম পায়নি। আর সেই সময় থেকে চালসহ নিত্যপণ্যের অকারণে দাম বৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি তিনি। বাজারে নজরদারি বাড়ানোসহ, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, কারা সিন্ডিকেট করছে, কারা কারসাজির নেতৃত্ব দিচ্ছে-এসব নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এর মধ্যে ঘটে গেছে গত বছর অক্টোবর-নভেম্বরে পেঁয়াজ কেলেঙ্কারি। এই নিত্যপণ্য নিয়ে স্মরণকালের নৈরাজ্য সৃষ্টি হয় বাজারে। পেঁয়াজের বাজার চড়তে থাকার ওই সময়টাতেও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন অনেকটা নির্বিকার। বলতে থাকেন, পেঁয়াজের দাম বাড়বে না, আর ভারত রপ্তানি বন্ধ করলেও অন্য দেশ থেকে আমদানির প্রক্রিয়া চলছে ইত্যাদি। বিদেশে লম্বা সময় কাটিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী যখন দেশে ফিরেছিলেন তখন পেঁয়াজের দাম আকাশের চূড়ায়। অথচ বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে পেঁয়াজের সংকট হতে পারে, ভারতে উৎপাদন কম হয়েছে, বিকল্প দেশ কোনগুলো, সেখান থেকে আমদানি করা যায় কি না-এসব হোমওয়ার্ক বা প্রস্তুতি নেয়নি তাঁর মন্ত্রণালয়। ফলে কোনোভাবেই লাগাম টানা যায়নি পেঁয়াজের দামে। দীর্ঘদিন আড়াই শ/তিন শ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় পেঁয়াজ। ওই সময় মন্ত্রী বিদেশ থেকে আমদানির নানা পদক্ষেপের কথা গণমাধ্যমকে বললেও কাঙ্ক্ষিত হারে পেঁয়াজ আসেনি, ফলে দামও কমেনি। এ ছাড়া পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর জন্য দায়ী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নিতেও চরম ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি বাজার পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাসহ কোনো খাতেই এখন পর্যন্ত কোন সফলতা দেখাতে পারেননি। ফলে বাণিজ্যমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রণালয় নিয়ে দেশবাসীর মনে নানা শঙ্কা তৈরী হচ্ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রীর কর্মকান্ড ও যোগ্যতা নিয়ে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যর্থতাতো সর্বক্ষেত্রেই আলোচিত বিষয়। করোনাকালেও তিনি কোন দুরদর্শিতার পরিচয় রাখতে সক্ষম হন নাই। তিনি সাতবছর এই মন্ত্রনালয়ে দায়িত্ব পালন করলেও সফলতার কোন স্বাক্ষর রাখতে পারেন নাই। আগের সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ব্যর্থতার একের পর এক উদাহরন থাকলেও সফলতার কোন উদাহরন আছে বলে কোন মহল থেকেই খুজে পেয়েছেন বলে শোনা যায় নাই। দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বেহালদশা। এ মন্ত্রণালয়ের নানান কেনাকাটায় বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে মন্ত্রীরা বিভিন্ন সময়ে সমালোচিত হয়েছেন, বিতর্কিত হয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতে ন্যূনতম শৃঙ্খলা আনতে পারেননি কোনো মন্ত্রীই।

গত বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি যখন মারাত্মক আকার ধারণ করে তখন মন্ত্রী চলে গিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরে। এ নিয়েও সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি সকল মহলে। এবার করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের পিপিই সরবরাহ নিয়েও তীব্র সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে মাস্ক সরবরাহকারী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে মন্ত্রীর পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

চীনের করোনার ভয়াবহতার পর সময় পেয়েও আমাদের দূর্নীতিগ্রস্থ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মূল যোদ্ধা চিকিৎসক ও তাদের সহকর্মীদের সময়মত পিপিই দিতে পারেনি মন্ত্রনালয়। সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেশন মজুদ ও সরবরাহ করে সমন্বিত পরিকল্পিত শক্তিশালী চিকিৎসা ব্যবস্তা গড়তে ব্যর্থ হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর মন্ত্রনালয়ের কর্তারা শুধু বড় বড় কথাই বলেছেন। তাদের ব্যর্থতার কারনেই সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ডা: মঈন উদ্দীন শহীদ হয়েছেন। সুনামগঞ্জের সন্তান এ ডাক্তার করোনার যুদ্ধে প্রথম সারির যোদ্ধা। সিলেটে করোনায় আক্রান্ত হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছিলেননা। একটা ভেন্টিলেশন পাননি। ঢাকায় আসতে এয়ার এম্বুলেন্স দূরে থাক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কত আকুতি করেও পায়নি। এই ঘটনার মধ্য দিয়েই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তার মন্ত্রনালয়ের নানা দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে চলে আসে।

এর সাথে যোগ হয়েছে নকল মাস্ক সরবরাহের দূর্নীতি। করোনার অভিশাপে বিপন্ন মানুষের মৃত্যু যন্ত্রনার মুখেও দূর্নীতিগ্রস্থ স্বাস্থ্য বিভাগ নকল মাস্ক সরবরাহ করে নির্লজ্জ দুর্নীতি ও জালিয়াতির সাথে যারা জড়িত থাকার কথা যাদের নাম গিয়েছে এখনও শোনা যাচ্ছে তাদের দায় কি তিনি এড়াতে পারেন ? শুধু চিকিৎসকই নয়, করোনারোগীর সেবায় নিয়োজিত নার্সদেরও যেখানে এন-৯৫ মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প নাই সেখানে নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ করে অনেককে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে ফেলতে পেরেছে যারা তারা আর যাই হোক সভ্য সমাজের বাসিন্দা হতে পারে না। কতটা বর্বর, অমানবিক ও লোভী হলে এমন এক সময় এরা এমন দূর্নীতি করতে পারে সেটা প্রধানমন্ত্রীসহ সকলকে ভাবতে হবে।

মন্ত্রনালয়ের মাস্কদুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা বা মৃদু প্রতিবাদ করার কারণেই নাকি মুগদা হাসপাতালের পরিচালক সহ অনেককেই মন্ত্রী ও দুর্নীতিবাজদের রোশানলে পড়ে ওএসডি অথবা বদলি হতে হয়েছে বলে গুঞ্জনও রয়েছে। করোনা বিপর্যয়ের শুরু থেকে কোনো কিছুর অভাব নেই, সব প্রস্তুতি আছে-কথায় কথায় এসব বলে বাস্তব পরিস্থিতি গোপন করেছিলেন তিনি। এমন গুরুতর অভিযোগ করেছে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।

তিনি এতটাই ব্যর্থ হয়েছেন যে, অনেক প্রশ্নেরই তিনি জবাব দিতে পারছেন না। এমনকি করোনা প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও তিনি অনেক সিদ্ধান্তই জানতে পারেন না বা অন্যরা তাঁকে কিছু না জানিয়েই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বা দিচ্ছেন। এর মানে, মন্ত্রী অন্যদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যরা কেউ তাঁকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এ কারণে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু থেকেই বিশৃঙ্খল অবস্থায় চলছে। ফলে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। নেতৃত্বদানকারী মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে এর দায়দায়িত্ব স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে বলে মনে করছে অনেকে। ভিতরে গুঞ্জন রয়েছে যে, মন্ত্রী নিজেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে এক ধরনের বিভাজন তৈরি করেছেন। আর বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ শুরু থেকেই পরীক্ষা বাড়ানোর কথা বললেও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কারণে আইইডিসিআর তা করতে পারেনি। এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে প্রচন্ড রকমের আলোচনা-সমালোচনাও আছে।
বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে স্বাস্থ্য ও বাণিজ্য সম্পর্কিত সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করতে না পারলে সরকারের আরো বেশী ব্যর্থ হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করে। এটা সত্য যে, করোনার প্রাদুর্ভাব সারা বিশ্বের জন্যই একটি নতুন অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের মত একটি দেশের সীমিত সম্পদ নিয়ে এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। কিন্তু তা হচ্ছে না। সমন্বয় না করলে কোনো কিছুই সমাধান হবে না।

এত বড় এটা দুর্যোগ মোকাবিলার এই সকল ব্যর্থ মন্ত্রীদের উপর ভরসা করলে চলবে না। এর জন্য অবশ্যই জাতীয় পর্যায়ে একটা অ্যাকশন কমিটি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জনগনের দুর্ভাগ্য হচ্ছে যার যেখানে যোগ্যতা নেই তাকে সেই কাজ করার জন্যই সেখানে বসানো হয়। ফলে সব লেজে-গোবরে অবস্থার সৃষ্টি হয়। সরকারকে এ বিষয়ে আরো বেশী কঠো হতে হবে। যে কোনো খাতে যখন সমস্যা দেখা দেয়, দেখা যাবে সেখানেই রয়েছে অদক্ষতা। ফলে প্রমানিত হয় মন্ত্রী-সচিবরা যে বলেন, আমরা পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েছি, এগুলো আবেগীয় কথাবার্তা। বাস্তবতার সঙ্গে কোনো মিল নেই।

এই মন্ত্রীদের ব্যর্থতা সম্পর্কে বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান গণমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে আজকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের চোখে আলাদা করে পড়লেও বাস্তবতা হলো- এ দেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ প্রতিষ্ঠানগুলোই সেভাবে গড়ে ওঠেনি। যে জায়গায় যে সময় যা করা উচিত তা করা হয়নি। তারই প্রতিফলন আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রীর আস্থা ও পছন্দে স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে কিছুটা আশার সঞ্চার করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তারা নিজেদের মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা-সমালোচনা, বিতর্ক জন্ম দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আস্থার স্থানকে রীতিমতো নড়বড়ে করে তুলেছেন বলেও শোনা যায়।

তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, বার বার ব্যর্থ হবার পরও তারাই কি সরকারের জন্য অপরিহার্য্য। এই সরকারে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয় পরিচালনার মত অভিজ্ঞ, দক্ষ, যোগ্য ও সৎ লোকের কি এতটাই অভাব যে এই ব্যর্থদেরই রাখতে হবে ?

[ লেখক : রাজনীতিক ও কলাম লেখক, মহাসচিব, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ও আহ্বায়ক, জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন ]

Hits: 4


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ