ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার সংকট, ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহকরা

Pub: Friday, April 17, 2020 12:29 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মহামারি করোনা ভাইরাসে গোটা দেশ স্থবির হয়ে পড়েছে। মন্দা দেখা দিচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের ব্যাংকগুলোতে। দেশজুড়ে চলমান সাধারণ ছুটির মধ্যে সবাই ঘরবন্দি থাকায় ব্যাংকে লেনদেন তলানিতে নেমেছে প্রায়। কেউ ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাচ্ছেন না। বিপরীতে লেনদেনকারীদের মধ্যে প্রায় সবাই ব্যাংক থেকে নিজেদের প্রয়োজনে টাকা উত্তোলন করছেন। এ পরিস্থিতিতে টাকার সংকটে ভুগতে শুরু করেছে ব্যাংকগুলো। 

সরেজমিনে দেখা যাচ্ছে, কোনও ব্যাংকের ১০০টি শাখা থাকলে এখন খোলা রাখা হচ্ছে বড়জোর ২০-৩০টি। এ কারণে লেনদেনকারীরা সাধারণ ছুটিতে টাকার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন ব্যাংকগুলোতে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলোকে লেনদেনের আওতা বাড়াতে কড়া নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকের বেশিরভাগ শাখা বন্ধ রাখায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন চললেও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করে কমপক্ষে একটি শাখা খোলা রাখতে হবে। অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেম না থাকলে সর্বত্র সীমিত পরিসরে অন্তত একটি শাখা খোলা রাখতে হবে। মালিকরা যেন শ্রমিকদের বেতন দিতে পারেন এ কারণে প্রতিটি শ্রমঘন এলাকায়ই প্রতিটি ব্যাংকের শাখা খোলা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সীমিত পরিসরে ব্যাংক লেনদেনের আগে ব্যাংকগুলোকে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকার নগদ টাকার জোগান দেয়া হয়েছিল। কোনও ব্যাংক নগদ টাকার সংকটে পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধারে টাকা নিতে পারবে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে যারা এই সময়ে ঝুঁকি নিয়ে অফিস করচেন ওইসব ব্যাংকারদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চালু হয়েছে ব্যাংকারদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা। এরপরও কোনও ব্যাংকের শাখা বন্ধ রাখা উচিত নয়। এ কারণেই আবারও কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে ব্যাংকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশে করোনা ভাইরাসের পিকটাইম চলছে। অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সঙ্গে নগদ অর্থের সংকট তো আছেই। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। লেনদেরকারীদের অনেকেই ব্যাংক থেকে প্রয়োজনের টাকা তুলে নিচ্ছেন, কেউ টাকা জমা দিচ্ছেন না। এমনকি মাসিক সঞ্চয়স্কিমেও কেউ টাকা জমা দিচ্ছেন না। ব্যবসায়ীরা তো ঋণের কিস্তি পুরোপুরিই বন্ধ করে দিয়েছেন। 

তাদের ভাষ্য, ব্যাংকগুলোতে এখন ক্যাশ ইনফ্লো নেই, শুধুই আউট ফ্লো চলছে। এ কারণে প্রায় প্রতিটি ব্যাংক নগদ টাকার সংকটে পড়েছে। যার কারণে অনেক শাখা বন্ধ। কিছু কিছু সীমিত পরিসরে খোলা রয়েছে। একেক দিন একেক এলাকার শাখা খোরা রাখা হচ্ছে। যাতে করে গ্রাহকরা ন্যূনতম সুবিধাটুকু পায়। 

তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, দেশের চলমান এই দুঃসময়ে ঘরবন্দি মানুষের এমনিতেই কোনও আয়-রোজগার নেই। অনেককেই ঘরে বসে পকেটের টাকা ভেঙে চলতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলো বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মাঝারি পর্যায়ের গ্রাহক ও ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের। প্রতিদিনই সাধারণ গ্রাহকদের ছুটাছুটি করতে হচ্ছে। 

এদিকে সাধারণ গ্রাহকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে ব্যাংক লেনদেনের সময়সীমা আধাঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে লেনদেন। আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে সকাল ১০টা থেকে লেনদেন চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এরপরও কোনও ব্যাংকের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ