ভূল ধারনা আর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসেই সর্বনাশ ডা. কাশেমের!

Pub: Friday, May 22, 2020 5:34 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এনামুল কবীর, বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেটঃ ভূল ধারনা, করোনা অবহেলা, অতিক্ত আত্মবিশ্বাস ও আড়াল করার প্রবনতার কারণেই কি সর্বনাশ ডা. আবুল কাশেমের!

বুধবার দিবাগত রাতে মারা যাওয়া গোলাপগঞ্জের আছিরগঞ্জ বাজারের ফার্মাসিস্টের গত সপ্তাহ দু’য়েকের চলাফেরা, তার সাথে ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় একজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে আপাতত এমন সন্দেহকেই সত্য বলে মনে হচ্ছে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা. কাশেম কোভিড পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন গত ১৬ মে। ১৯ মে মঙ্গলবার তার পজেটিভ রিপোর্ট আসে এবং নিজ বাসায় তাকে আইসোলেশনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা।

তিনি নিজেও তার ফেসবুক ওয়ালে বিষয়টি স্বীকার করে সবার দোয়া চেয়েছিলেন।

নমুনা দেয়ার পর তার বাসায় থাকার কথা। কিন্তু ১৮ মে বিকেলে তাকে ফার্মেসিতে ব্যাবসায় ব্যাস্ত দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এমনকি ১৯ মে বিকেলেও। তবে তখন তার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিলনা। জ্রর-কাশি ছিল।

বুধবারও তিনি বাসার বাইরে ছিলেন, চিকিৎসার জন্য সিলেট নগরীর কোথাও গিয়েছিলেন বলে নিজে জানিয়েছিলেন ঘনিষ্ঠদের। তবে কোথায়, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন নি কেউ।

বিকেলে আবার আছিরগঞ্জ বাজারের বাসায় ফিরেছিলেন।

সেদিন বিকালে এ প্রতিবেদকের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে তার করোনা নেগেটিভ বলে দাবি করেছিলেন কাশেম।

সন্ধ্যায় তার অবস্থার অবনতি হলে সমন্ধি আবুল কালাম আজাদ তাকে নিয়ে নগরীর শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতালে যান। সেখানে রাত ১১টায় ভর্তির সময়েও তিনি বা তার আত্মীয় করোনা পজেটিভের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ভরশীল একটি সূত্র। সেখানে করোনা প্রোটোকলের আওতায় তার চিকিৎসা হয়নি এবং এনিয়ে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিলো বলেও নিশ্চিত করেছে সূত্রটি।

তার কর্মস্থল ও অস্থায়ী ঠিকানা আছিরগঞ্জ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তিনি ফার্মেসিতে অনিয়মিত ছিলেন। প্রায়ই তিনি চিকিৎসার জন্য ছুটাছুটি করছিলেন। তবে করোনা টেস্টের ব্যাপারে মোটেও আগ্রহী ছিলেন না কাশেম।

শেষের দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিলেও লুকোছাপা করেছিলেন খুব। এমনকি পজেটিভ হওয়া সত্ত্বেও তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারনা, সমাজে হেয়প্রতিপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মিথ্যা আশংকা থেকেই তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এমনটি করেছেন।

হেলাফেলা না করে যথাসময়ে কোভিড টেস্ট করলে এবং নিয়ম কানুন মেনে চললে হয়ত এত দ্রুত তার মৃত্যু হতোনা বলে মনে করছেন তারা।

ডা. কাশেমকে বাসায় রাখা ও তার মৃত্যুর বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, তিনি কোভিড-১৯ পজেটিভের বিষয়টি গোপন রেখে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ফলে তিনি ছিলেন করোনা প্রোটোকলে ভর্তি হওয়াদের আওতার বাইরে। এনিয়ে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল।

তার কোভিড পজেটিভ প্রসঙ্গে ডা. আনিস বলেন, গোলাপগঞ্জে এই নামের পজেটিভ রোগী যে তিনিই, তা জানার আগেই তার মৃত্যু হয়। কারণ, শামসুদ্দিনে ভর্তির সময় তিনি ও তার অভিভাবকেরা কোভিড পজেটিভের বিষয়টি গোপনের সাথে সাথে আগের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরও পাল্টে ফেলেছিলেন অজ্ঞাত কারণে। করোনা প্রোটোকলের আওতায় ভর্তি হলে বা বিষয়টি গোপন না করলে এ সংক্রান্ত যাবতীয় সুযোগ সুবিধা পেতেন তিনি। কিন্তু তা হয়নি।

এ ব্যাপারে ডা. কাশেমের পরিবারের সদস্য ও অভিভাবকদের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল নম্বরে (যা বর্তমানে তার সমন্ধি ব্যাবহার করছিলেন) একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে তার সাথে ঘনিষ্ঠ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের আক্ষেপ, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী বা সমাজে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার মতো ভূল ধারনা না করে যথাসময়ে পরীক্ষা, নিয়ম কানুন মেনে চললে এবং লুকোছাপা না করলে হয়ত মরণ ভাইরাসকে পরাজিত করতে পারতেন এই পল্লী চিকিৎসক।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী বিয়ানীবাজারের তিলপারা ইউনিয়নের মাটিজুরা মালোপাড়া গ্রামে পারিবারিক গুরুস্তানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

তিনি ৪ সন্তানের জনক।

Hits: 105


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ