মেয়র প্রার্থীর সাক্ষাৎকার সুষ্ঠু নির্বাচনে যেকোনো ফলাফল মেনে নেব: তাবিথ

Pub: Friday, January 31, 2020 3:32 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অনেক শঙ্কার কথা জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটির বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট হলে যেকোনো ফলাফল মেনে নেয়া হবে। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এমন দাবি করে তিনি বলেন, ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোট দিতে পারলে জনরায় মেনে নিতে কোনো কার্পণ্য থাকবে না।

মঙ্গলবার রাতে গুলশানের নিজ বাসায় যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ ২০১৫ সালের ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ছিলেন। তবে ২৮ এপ্রিল নির্বাচনের দিন দুপুরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় তার দল। তিন ঘণ্টার নির্বাচনে সাড়ে তিন লাখের বেশি ভোট পান তাবিথ।

প্রয়াত আনিসুল হকের মতো জনপ্রিয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে তরুণ প্রার্থী হিসেবে সবার নজর কাড়েন তিনি। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। এরপর নিজের যোগ্যতা এবং দক্ষতার ফলে অল্পদিনেই বিএনপির হাইকমান্ডের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ১৯৭৯ সালে জন্ম নেয়া তাবিথ পড়ালেখা করেছেন বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে ইনফরমেশন সিস্টেম টেকনোলজিতে এমএস করেন।

এরপর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে বিবিএ শেষ করেন। উচ্চ শিক্ষা থেকে দেশে ফিরে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি খেলাধুলার জগতেও রয়েছে তার পরিচিতি। বর্তমানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচিত সহসভাপতি তিনি।

জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী জানতে চাইলে তাবিথ আউয়াল বলেন, গত নির্বাচনে (২০১৫ সালে) দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি শতভাগ আশাবাদী। কারণ এবার ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে মাঠে আছি। এ প্রতীকের প্রতি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের একটা দুর্বলতা রয়েছে।

এছাড়া সরকারের অন্যায়, জুলুমের কারণে অনেকেই ক্ষুব্ধ। তারা ধানের শীষকে ভোট দেবে। এছাড়া তরুণ প্রার্থী হিসেবে যুব সমাজের বড় একটি অংশের সমর্থন আমি পাব। তরুণ নেতৃত্বের প্রতি নগরবাসী আস্থা রাখবে বলে আশা করি। প্রতীক এবং তরুণ নেতৃত্ব এ দুইয়ের সমন্বয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হব বলে আশা করি। ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে আসে সেজন্য আমরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে কতটা আশাবাদী জানতে চাইলে তাবিথ বলেন, বিগত দিনে বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যা ঘটেছে তাতে খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার কারণ নেই। পরিবেশ তো নিয়মিত বদলাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এখনও পুরোপুরি তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অনেক শঙ্কা আছে। বিশেষ করে পুলিশ, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত পরিবেশ ততটা খারাপ না হলেও বাকি সময়টা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন পর্যন্ত ইসি কী ভূমিকা পালন করে সেদিকে সবাই তাকিয়ে আছে। আশা করি ভোটের দিন একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করবে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারে। তিনি বলেন, নির্বাচনে ভোটার ও সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস আমাদের আশান্বিত করছে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে পাওয়ার সংগ্রামে অবতীর্ণ হবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের যেকোনো ষড়যন্ত্র তারা এবার রুখে দেবেন বলে আশা করি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা ও ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমরা আন্দোলন করছি। বিজয়ী হলে এ আন্দোলনের পাশাপাশি ঢাকাবাসীর উন্নয়নে কাজ করব।

নির্বাচিত হলে নগরবাসীর জন্য আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে টেকসই ও বিশ্বমানের আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। নগরবাসীর প্রধান সমস্যা চিহ্নিত। এখন পরিকল্পনামাফিক তার সমাধান করাই মূল উদ্দেশ্য। সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যে সর্বোচ্চ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাকেই অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এজন্য সবার আগে প্রয়োজন একটা দুর্নীতিমুক্ত নগরভবন।

নির্বাচিত হওয়ার পর নগরভবনসহ সংশ্লিষ্ট জোনগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত হলে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সমস্যা হবে না। ডেঙ্গু মশা নিধনে বছরব্যাপী প্রোগ্রাম নেয়ার পাশাপাশি বায়ুদূষণ, পানিদূষণ এবং শব্দদূষণ রোধ করে ট্রাফিক জ্যামমুক্ত ঢাকাকে আধুনিক শহরে গড়ে তোলার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার মাথায় সরে দাঁড়িয়েছিলেন, এবারও সেরকম কিছু ঘটবে কি না, জানতে চাইলে তাবিথ আউয়াল বলেন, না, এবার যত বাধাই আসুক, মাঠ ছাড়ব না। ভোটে আছি, থাকব। ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকব।

আশা করি ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাবে এবং ভোট কারচুপি হলে তা রুখে দাঁড়াবে। পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রে যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতের মতো নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের এজেন্টদের তালিকা ফাঁস না করে, ভোটের আগে তাদের বাসা-অফিসে হামলা ও তল্লাশি না চালায় অথবা ভয়ভীতি না দেখায়, তাহলে এজেন্টরা অবশ্যই কেন্দ্রে যাবে। সব বাধা উপেক্ষা করে তারা শেষপর্যন্ত কেন্দ্রে থাকবেই।

ভোট গ্রহণে ইভিএম ব্যবহারে আপনারা দলীয়ভাবে শুরু থেকেই বিরোধিতা করছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ইভিএমের ভোটেই থাকছেন- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএমে এখনও আমাদের অনাস্থা। আমরা দেখব ইভিএমে কারচুপি করা হয় কি না। যদি করা হয়, তাহলে দেশের মানুষই এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

প্রতিপক্ষ দল আওয়ামী লীগে প্রার্থী একজন ব্যবসায়ী- তার সঙ্গে নির্বাচনে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন জানতে চাইলে তাবিথ বলেন, গত নির্বাচনেও আমি দেশের একজন স্বনামধন্য ব্যক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেছি। তাই প্রতিপক্ষ কে তা নিয়ে ভাবছি না। বিজনেস কমিউনিটিতে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিচিতি রয়েছে।

কিন্তু ভোটের মাপকাঠি শুধু এটিই নয়। ব্যক্তিগতভাবে হয়তো বিজনেস কমিউনিটিতে আমার পরিচিতি কম। কিন্তু পারিবারিকভাবে ওই কমিউনিটিতে আমাদের ঐতিহ্য রয়েছে।

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ