যুক্তরাষ্ট্রে ৬৩ হাজার ছাড়াল মৃত্যু, আক্রান্ত ১১ লাখ

Pub: Friday, May 1, 2020 2:54 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। ভাইরাস মোকাবিলায় দেশে দেশে চলছে লকডাউন, জরুরি অবস্থাসহ নানা পদক্ষেপ। এর মধ্যে করোনায় সবচেয়ে নাজুক অবস্থা বিশ্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৬৩ হাজার ৮৭১ জন। পুরো বিশ্বে মারা যাওয়া মানুষের এক-চতুর্থাংশই যুক্তরাষ্ট্রে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ২ হাজার ২০১ জন। 

দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১০ লাখ ৯৫ হাজার ৩০৪ জন। পুরো বিশ্বে আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশ যুক্তরাষ্ট্রে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৩০ হাজার ৮২৯ জন। চিকিৎসা নিয়ে করোনা মুক্ত হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৭ জন।

দেশটিতে এই মুহূর্তে করোনা রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬১২ জন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৮ লাখ ৬০ হাজার ৩৮৬ জন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর বাকি ১৫ হাজার ২২৬ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নিউ ইয়র্কে। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ১০ হাজার ৮৩৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ২৩ হাজার ৭৮০ জন।

এদিকে মার্কিন শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও করোনা ভাইরাস টাস্কফোর্সের প্রধান ড. অ্যান্থনি ফসি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ করোনায় মারা যেতে পারে। এর আগে অবশ্য তিনি দেড় লাখ থেকে দুই লাখ মানুষের মৃত্যুর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তাই অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ড. ফসির প্রথম পূর্বাভাসের দিকেই দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে কিনা।

উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে গত ডিসেম্বরে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব। এ ভাইরাসে গোটা বিশ্বই বিপর্যস্ত। ভাইরাস মোকাবিলায় দেশে দেশে চলছে লকডাউন, জরুরি অবস্থাসহ নানা পদক্ষেপ। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ লাখ আর মারা গেছে ২ লাখেরও বেশি মানুষ।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৩৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৬ হাজার ৩৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১০ লাখ ৪২ হাজার ৮৭৪ জন। বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৮০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বে ২০ লাখ ৩১ হাজার ৫১৭ জন শনাক্ত রোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৫৭৩ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ৫০ হাজার ৯৪৪ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১০ লাখ ৯৫ হাজার ২১০, মারা গেছে ৬৩ হাজার ৮৬১ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে। পুরো বিশ্বে মারা যাওয়া মানুষের এক-চতুর্থাংশ এবং আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশ যুক্তরাষ্ট্রে।

এ ছাড়া, যেসব দেশে বেশি আক্রান্ত আক্রন্ত ও মৃত্যু হয়েছে, সেগুলো হলো- স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩৯, মারা গেছে ২৪ হাজার ৫৪৩ জন। ইতালিতে আক্রান্ত ২ লাখ ৫ হাজার ৪৬৩, মারা গেছে ২৭ হাজার ৯৬৭ জন। ইংল্যান্ডে আক্রান্ত ১ লাখ ৭১ হাজার ২৫৩, মারা গেছে ২৬ হাজার ৭৭১ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭৮, মারা গেছে ২৪ হাজার ৩৭৬ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯, মারা গেছে ৬ হাজার ৬২৩ জন। তুরস্কে আক্রান্ত ১ লাখ ২০ হাজার ২০৪, মারা গেছে ৩ হাজার ১৭৪ জন। রাশিয়ায় আক্রান্ত ১ লাখ ৬ হাজার ৪৯৮, মারা গেছে ১ হাজার ৭৩ জন। ইরানে আক্রান্ত ৯৪ হাজার ৬৪০, মারা গেছে ৬ হাজার ২৮ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত ৮৭ হাজার ১৮৭, মারা গেছে ৬ হাজার ৬ জন। 

এদিকে, করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্ত ৮২ হাজার ৮৭৪, মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৩ জন। কানাডাতে আক্রান্ত ৫৩ হাজার ২৩৬, মারা গেছে ৩ হাজার ১৮৪ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ৪৮ হাজার ৫১৯, মারা গেছে ৭ হাজার ৫৯৪ জন। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৩৯ হাজার ৩১৬, মারা গেছে ৪ হাজার ৭৯৫ জন। পেরুতে আক্রান্ত ৩৬ হাজার ৯৭৬, মারা গেছে ১ হাজার ৫১ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৯ হাজার ৫৮৬, মারা গেছে ১ হাজার ৭৩৭ জন। সুইডেনে আক্রান্ত ২১ হাজার ৯২, মারা গেছে ২ হাজার ৫৮৬ জন। আয়ারল্যান্ডে আক্রান্ত ২০ হাজার ৬১২, মারা গেছে ১ হাজার ২৩২ জন। মেক্সিকোতে আক্রান্ত ১৯ হাজার ২২৪, মারা গেছে ১ হাজার ৮৫৯ জন। 

অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে আক্রান্ত ৩৫ হাজার ৪৩, মারা গেছে ১ হাজার ১৫৪ জন। পাকিস্তানে আক্রান্ত ১৬ হাজার ৮১৭, মারা গেছে ৩৮৫ জন। বাংলাদেশে আক্রান্ত ৭ হাজার ৬৬৭, মারা গেছে ১৬৮ জন।

প্রসঙ্গত, এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, বারবার কাঁপুনি, পেশিতে ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং হঠাৎ করে স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া। তাই এগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাইরে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ