যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক বজায় রাখতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা বাঞ্ছনীয়: কংগ্রেসম্যান ড্যারেন সোটো (ভিডিওসহ)

Pub: Wednesday, December 12, 2018 11:51 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইউএস করেসপন্ডেন্ট: বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা এলাকার মার্কিন কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্বকারী প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান ড্যারেন সোটো এক ভিডিও বার্তা দেন।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা এলাকায় বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিকদের একটি বৃহত অংশ গভীর সম্পর্কিত। গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য করছি যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সহঅবস্থানের ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশে ভারসাম্যময় গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তার সহকর্মীদের সাথে নিয়ে/ঐক্যবদ্ধ করে কাজ করতে আগ্রহী কংগ্রেসম্যান ড্যারেন সোটো।

উল্লেখ্য, আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে ঐতিহ্যতগতভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে, যেখানে সবাই ভোট দিতে পারে। এ জন্যই বাংলাদেশ যদি সত্যিকার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায় তাহলে দেশটিতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র কাছে কংগ্রেসের চিঠির সমর্থনের জন্য কংগ্রেসের অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে একসাথে কাজ করবেন কংগ্রেসম্যান ড্যারেন সোটো। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহযোগিতায় বাংলাদেশে গণতন্ত্র যেন পুনরুদ্ধার করতে তাদের উৎসাহিত করা হয়।

বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র, জনগণের ভোটের অধিকার, প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত হলে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলে জানান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান ড্যারেন সোটো।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য করে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা প্রদানের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। গত ৬ ডিসেম্বর ১১৫তম কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এই সিদ্ধান্ত পেশ করেন ৬ জন কংগ্রেসম্যান এবং দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটিকে ইতোমধ্যেই এই প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির এশিয়া অ্যান্ড দ্যা প্যাসিফিকের চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান টেড ইয়োহো, কংগ্রেসম্যান ইলিয়ট এঙ্গেল, কংগ্রেসম্যান ব্র্যাড শেরম্যান, কংগ্রেসম্যান স্টীভ শ্যাবট, কংগ্রেসম্যান জেরি কনলি ও কংগ্রেসম্যান বিল কিটিং এই বিলটি উপস্থাপন করেন। উল্লেখ্য, ছয়জন কংগ্রেসম্যানের প্রত্যেকেই মার্কিন কংগ্রেসের ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রভাবশালী সদস্য।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারাবদ্ধ। সেই প্রতিশ্রুতি এই রেজল্যুশনে পুনর্ব্যক্ত করা হলো।

আরো উল্লেখ করা হয় যে, প্রত্যেক দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর হচ্ছে- একটি স্বাধীন, নিরেপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন। এজন্য সকল ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে নির্বিঘ্নে প্রবেশাধিকারের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা গ্রহণে প্রশাসনের জবাদিহিতা-স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভোটারের মৌলিক স্বাধীনতাকে সম্মান দেখানোই হচ্ছে একটি বৈধ নির্বাচনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট।

উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছিল।

কংগ্রেস সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, বাংলাদেশে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারাবদ্ধ। বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানান কংগ্রেসসভা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রতি মনোযোগী হতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধে জানান।

এছাড়া, অনুরোধ জানানো হয়েছে রাজনৈতিক নেতা ও বিচার বিভাগকেও। বলা হয়েছে, সকল বাংলাদেশী যেন আসন্ন নির্বাচনে স্বাধীনভাবে নির্বিগ্নে ও নির্দ্বিধায় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভোটারদের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানাতে হবে।

মঙ্গলবার ১১ ডিসেম্বর ছয়জন কংগ্রেসম্যানের বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন চেয়ে H.Res. 1169 বিলটির সাথে একত্তা প্রকাশ করে ৭তম কংগ্রেসম্যান হিসাবে মার্কিন কংগ্রেসে বিলটি কো-স্পন্সর করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান ড্যারেন সোটো।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান ড্যারেন সোটো’র বক্তক্যের ভিডিও লিংকঃ

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ