রাজনৈতিক অঙ্গনে করোনার প্রভাব

Pub: Wednesday, March 11, 2020 2:46 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সীমিত হচ্ছে কর্মসূচি নির্বাচনী প্রচারণায়ও আতঙ্ক

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দেশের সব জায়গায় এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে এর বেশি প্রভাব থাকলেও ধাক্কা লেগেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও। এ পরিস্থিতিতে বড় সভা-সমাবেশ বা গণজমায়েত না করার চিন্তা করছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো। সংসদের আসন্ন ৫টি উপনির্বাচন ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

সূত্রমতে, রোববার বিকালে দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ঘোষণার পরই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। রাতে জরুরি বৈঠক শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়। এমনকি মুজিব জন্মশতবর্ষের মূল অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে অন্য কোনো বড় জমায়েত না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনও বড় কোনো সভা-সমাবেশ করবে না। দলীয় কর্মসূচি ও বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলনসহ সামগ্রিক কার্যক্রম সীমিত করা হবে। তবে সাংগঠনিক কাজগুলো নিয়মিত চালিয়ে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠন ও সম্মেলন করার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলন করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন করারও চিন্তা-ভাবনা চলছিল। কিন্তু করোনার প্রভাবে এসব কার্যক্রম সীমিত করা হবে। স্থগিতও করা হতে পারে।

এরই মধ্যে বড় ধরনের জমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের নেতারা বলছেন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির জরুরি বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে মুজিববর্ষের মূল অনুষ্ঠান স্থগিতের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ উপলক্ষে বড় গণজমায়েত না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনা নিয়ে তৃণমূল নেতাদের সতর্ক করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক যায়যায়দিনকে বলেন, করোনার জন্য বিশ্বের অনেক দেশে বড় গণজমায়েত সীমিত করা হচ্ছে। বাড়তি সতর্কতার জন্য দলের বড় কর্মসূচিগুলোকে সংক্ষিপ্ত ও সীমিত আকারে পালন করা হবে।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠান স্থগিত করার পর সহযোগী সংগঠনগুলোও নিজেদের কার্যক্রম ও জমায়েত সীমিত করার চিন্তা-ভাবনা করছে। তবে সোমবার গাজীপুরের কাপাসিয়ায় যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সংগঠনটির চেয়ারম্যান-সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাংসদসহ ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের জমায়েত হয় বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে আলাপকালে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ যায়যায়দিনকে বলেন, রাজনীতি যেহেতু মানুষের জন্য, তাই সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের বড় অনুষ্ঠান যেখানে স্থগিত করা হয়েছে, সেখানে যুবলীগ আর কোনো বড় সভা-সমাবেশ করবে না। করোনা নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এরই মধ্যে সভা-সমাবেশ সীমিত করার কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ। তিনি বলেন, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানসহ সব ধরনের সভা-সমাবেশ সীমিত করা হবে। জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি সবার আগে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আগেই বিএনপি জনসচেতনতার জন্য কর্মসূচি দিয়েছে। আর ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এই মহামারি মোকাবেলায় দলীয়ভাবে কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি সরকারকে চাপে রাখার সঙ্গে সহযোগিতা করারও মনোভাব রয়েছে বিএনপির।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাস নিয়ে জনগণকে সচেতন করার লিফলেট নিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ড্যাবসহ অঙ্গসংগঠনগুলোকে কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, কঠোর কর্মসূচি না দিলেও খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নতুন নির্বাচনের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বিএনপি। কিন্তু করোনা বিস্তার রোধে নিরীহ গোছের সভা-সমাবেশের ধারাবাহিক কর্মসূচি না করারও চিন্তা-ভাবনা করছেন দলের নেতারা। শুধু জনগণকে সচেতন করতে এবং আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়ে কীভাবে মানুষের সেবা করা যায় সেসব বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।

সূত্রমতে, আগামীকাল খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দেশের সব মহানগর, জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির পরিসর ছোট করা বা স্থগিত করার পক্ষে অনেকে মত দিয়েছেন। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে স্থায়ী কমিটি সোমবার রাতে জরুরি বৈঠকও করেছে। এছাড়া সংসদের ৫টি উপনির্বাচন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের কারণে গণসংযোগেও সতর্কতা অবলম্বনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চসিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম নেতা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম জানান, এখনো চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস শনাক্তের খবর পাওয়া যায়নি। এরপরও আতঙ্ক আছে। নির্বাচনে করোনার প্রভাব কিছুটা হলেও পড়বে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক থাকার কারণে স্বতঃস্ফূর্ত গণসংযোগ করা সব দলের জন্যই কঠিন হবে।

দেশের অন্য কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনার জন্য জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির বাইরে এখন অন্য কোনো বিষয় নিয়ে তারা ভাবছেন না।

Hits: 2


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ