সরকারের অদক্ষতা জাতির জন্য বড় দুর্দশা বয়ে আনবে : আ স ম আবদুর রব

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনায় বিশে^র মতো বাংলাদেশেও মহামারি আকার ধারণ করেছে। দেশে এই ভাইরাসে দিনদিন আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এই মহাসংকট মোকবিলায় সরকারের কি করা উচিত? দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান কি হওয়া উচিত? দেশের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন জাতীয় সমাতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

আ স ম রব বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। একদিকে করোনার প্রলয়ঙ্করী বিস্তার ঘটছে। অন্যদিকে কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে অবস্থান করছে। এই ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে সরকারের একক দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং চরম অদক্ষতা জাতির জন্য বড় ধরনের দুর্দশা নিয়ে আসবে। তিনি বলেন, করোনার থাবা থেকে জনগণকে বাঁচানোর পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সমগ্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে।

অন্যদিকে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ এর চেয়ে ত্রাণ আত্মসাৎ করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়েছে। এই যে লন্ডভন্ড স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ত্রাণ বিতরণে অরাজকতা এরপরও সরকার মেকি আত্মতুষ্টি ভোগ করছে। এই সরকার গত কয়েক বছরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে প্রজাতন্ত্র থেকে জনগণকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। ফলে জনগণ প্রজাতন্ত্রের মালিকানা হারিয়েছে।

বৈধতার সংকটের কারণে জনগণ এবং আইনের শাসনের প্রতি সরকারের কোন দায়িত্ব নেই। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে নৈরাজ্য বিরাজ করছে। উন্নয়নের নামে সকল পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে সরকারের লাভের দৃষ্টিকোণ থেকে, জনগণের স্বার্থে নয়। বিদ্যুতের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা প্রতিমাসে অপচয় হচ্ছে অথচ এর কোন দায় সরকার বহন করছেনা। সরকারের কর্মকান্ডে মনে হয় এটা এখন রাষ্ট্র নয়, এটা শুধুমাত্র একটা ভুখন্ড। করোনায় কত কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র সীমার নিচে নেমে এসেছে সরকার তা প্রকাশ করছেনা। কত শিল্প কারখানায় প্রণোদনা দিতে হবে, কত মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে আর কত মানুষের কর্মসংস্থান করতে হবে, সরকার এসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। সরকারের কাছে করোনায় মৃত্যু বা অর্থনৈতিক সংকট কোনটাই প্রধান নয়। প্রধান হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকে থাকা।

সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার শিল্পকারখানা ও কৃষি উৎপাদন রক্ষার উদ্দেশ্যে নয় বরং রাজনৈতিক কারণেই দ্রুত প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ক্ষতির পরিমাণ কত, কি পরিমাণ প্রণোদনা দিতে হবে কোনটারই হিসাব-নিকাশ ছাড়া রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়েই দায় সেরেছে। সকল ক্ষেত্রে নির্ভুল পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। সরকারের প্রণোদনা যেন ঋণখেলাপিদের কাছে না চলে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জনগণের অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে।

করোনার এই মহাসংকটে নিজের দলের কার্যক্রম নিয়ে জেএসডি সভাপতি বলেন, করোনার শুরু থেকেই আমরা জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা, জরুরি অবস্থা জারি, জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ত্রাণ বিতরণ, জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিল গঠনসহ আমাদের প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছি। দলের কর্মী সংগঠকদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছি। এছাড়া সারা দেশের অনেক জেলা উপজেলায় দলের সাধ্য অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সিরাজগঞ্জ, ফেনী,ঢাকা মহানগর, জামালপুর, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, রংপুর, বরিশাল, নাটোর, লক্ষ্মীপুর, মাগুরা ও পাবনা জেলায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে এবং এখনো অব্যাহত আছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যক্রম নিয়ে রব বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের নিজ অবস্থানেই রয়েছে। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যফ্রন্ট কাজ করছে।

চলমান সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যসহ ৯ দফা প্রস্তাবনা দিয়ে আ স ম রব বলেন, বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় আশুকরণীয় হচ্ছে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাকরা। এই জাতীয় ঐক্য রাজনৈতিক দলের প্রচলিত ঐক্য নয়। এ ঐক্য গড়ে উঠবে বিকশিত সমাজ শক্তি অর্থাৎ জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও চিকিৎসায় নিয়োজিত শ্রমজীবী কর্মজীবী ও পেশাজীবী সমাজ শক্তির সমন্বয়ে। জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিল গঠন করা, স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন ও সমাজ শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে একটি অন্তর্ভূক্তিমূলক এবং অংশীদারিত্বমূলক জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিল গঠন করতে হবে। জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিলের কাজ হবে স্বাস্থ্য খাতের জন্য সুচিন্তিত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রনয়ণকরা। করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করা, অবিলম্বে প্রতি জেলায় একটি করে করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপন করতে হবে। অতি দ্রুত গণস্বাস্থ্যের কিট এর কার্যকারিতা পরীক্ষা সম্পন œকরতে হবে। খাদ্য সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় কমিটি গঠন করতে হবে। সকল সমাজ শক্তি ও রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনে প্রশাসনের সমন্বয়ে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ত্রাণ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। আর্থসামাজিক সংকট মোকাবিলায় ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের প্রতিনিধি সমন্বয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল গঠন করতে হবে। কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে উপজেলা শিল্পা াল গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। মাইক্রোক্রেডিট চালু করতে হবে।

Hits: 37


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফোনঃ +৪৪-৭৫৩৬-৫৭৪৪৪১
Email: info.skhobor@gmail.com
স্বত্বাধিকারী কর্তৃক sheershakhobor.com এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত