সিলেটের জৈন্তাপুরে সুপারির হাট জমজমাট

Pub: Thursday, January 3, 2019 9:50 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি, জৈন্তাপুর থেকে ফিরে :: জৈন্তাপুরে এবার সুপারির ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বাম্পার ফলন বলতে যা বুঝায় তা নাহলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো। পাকা বা অর্ধেক পাকা সুপারি বিভিন্ন বাজারে উঠছে প্রায় প্রতিদিন। উঠছে জৈন্তাপুর বাজারেও। তবে রবি ও বুধবারে বেশি। জমজমাট বেঁচা-কেনা।

শৌখিন এই ফলটির ভরা মৌসুম হেমন্তের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে শীতের শেষ পর্যন্ত। কার্তিকের শেষের দিকেই পাকতে শুরু করে। গৃহস্তের বাড়িতে তখন থেকে শুরু হয় পাইকারদের আনাগোনা। চলে সারা মৌসুম।

সারাদেশে সুপারির চাহিদা থাকলেও বৃহত্তর সিলেটে এর বহুমুখী ব্যবহার সেই প্রাচীনকাল থেকে। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ক্ষেত্রে শৌখিন এই খাদ্যপণ্যটির বিকল্প নেই। চায়ের শেষে যেমন সুপারির স্বাদ অসাধারণ তেমনি আহারের পর এক আধটু মুখে না দিলে যেন কারো কারো পেটে ভাতই হজম হয়না।

বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানাদিতে সুপারির উপস্থিতি অনেকটা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে বিয়ে, বউভাত, কনে দেখা থেকে শুরু করে এমনকি খতমে কোরআন বা মিলাদ মাহফিলেও সুপারি থাকতেই হয়। খাবার শেষে পান-সুপারি না পেলে মেহমানরা বিরক্ত হতে পারেন! মেহমাহদারীর ত্রæটি হিসাবে তা সমালোচনার কারণ হয়েও দাঁড়ায় অনেকক্ষেত্রে। তাই গৃহকর্তারা অন্যান্য আয়োজনের পাশাপাশি সুপারিকে রাখেন তালিকার উপরের দিকে।

সিলেটসহ দেশের বাজারে দুইধরণের সুপারি পাওয়া যাচ্ছে। একটি সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিকৃত যা সিলেট অঞ্চলে ‘সিঙ্গাপুরি গুয়া (সুপারী)’ হিসাবে পরিচিত।

অপরটি হচ্ছে আামদের দেশী। সিলেটের প্রায় প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে দু’একটি সুপারির গাছ দেখা যায়। তবে জকিগঞ্জ গোয়াইনঘাট আর জৈন্তাপুরে সুপারির উৎপাদন হয় বানিজ্যিক ভিত্তিতে।

এবার জৈন্তাপুরে ফলন বেশ ভালো বলে জানালেন কয়েকজন গৃহস্ত ও ব্যবসায়ী।

নিজপাটের আব্দুল আউয়াল বছরের ৭/৮ মাস দিনমজুর হলেও সুপারীর ‘সিজনে’ পুরোদস্তুর ব্যবাসায়ী। বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে তিনি সুপারি ক্রয় করেন পাইকারী দামে। তারপর চালান দেন সিলেট শহরের কাজিরবাজার সুপারি পট্টিতে।

এবার ব্যবসা কেমন জানতে চাইলে স্মিত হেসে বললেন, বালা বালা। অন্য বছরতাকি কিছুুটা বালা। ফলন বালা অইছেতো, এরলাগি কিছুটা হস্তা।

তিনি জানান, বাড়ি বাড়ি ঘুরে একঘা (১০টা) সুপারি কিনেন আকার ভেদে ৮/৯ টাকা থেকে ১০/১২ টাকা দামে। আর বিক্রি করেন যথাক্রমে ১০/১১ টাকা থেকে ১৫/১৬ টাকা দামে। শীতের সময়টাতে এই ব্যবসায় তার ভালোই আয় হয়।

আরেকদল সুপারি ব্যবসায়ী আছেন যারা শহর নয়, স্থানীয় হাটবাজারে বসেন। তারা আসলে একেবারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পাইকাররা যায়না, এমন বাড়ির কর্তারা সুপারি নিয়ে বাজারে আসেন, সেখানে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে চলে যান। কখনোবা পাইকারদের হাতে তুলে দিয়ে বাজার সদাইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

নিজের বাড়ি ও আশপাশ এলাকায় প্রায় অর্ধশত সুপারির গাছ আছে নিজপাটের হামিদ মিয়ার (৫৫)। জৈন্তাপুর বাজারে সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের সাথে তার কথা হয়। জানালেন, এবার সুুপারির ফলন ভালো হয়েছে। তার বাগানের প্রায় সবক’টি গাছে প্রচুর ধরেছে। তিনি বিক্রি করছেন। পাইকাররা বাড়ি থেকে কিনলে কমদাম দেয়। তাই নিজেই বাজারে নিয়ে আসেন। এখানে একটু ভালো দাম পাওয়া যায়।

ফলন ভালো হওয়ার কারণ বলতে গিয়ে হাসি মুখে জানালেন, এবার আবহাওয়া অনুকুল ছিল তাই।

শীর্ষ খবর/এক

Hits: 1


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ