• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

জাতীয়

হাওরাঞ্চলে স্যাটেলাইট হাসপাতাল ও নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চান ডেপুটি স্পিকার

প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:৩৪
আপডেট: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:৩৪

হাওরাঞ্চলে স্যাটেলাইট হাসপাতাল ও নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চান ডেপুটি স্পিকার
 

ছবি: সংগৃহীত
ফাইল ছবি
নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইট হাসপাতাল স্থাপন এবং জরুরি রোগী পরিবহনে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার-২০২৬ প্রাপ্ত সমাজকর্মী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে রুনা খানকে আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতি অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানান ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের এ ধরনের অর্জন সমগ্র জাতির জন্য গৌরবের বিষয়। মানবকল্যাণ ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে নিবেদিত ব্যক্তিদের কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অন্যদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করবে।

এ সময় দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, মানবিক উদ্যোগ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। রুনা খানকে উদ্দেশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আপনি আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের ভবিষ্যৎ।’

নিজ জেলা নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের মানুষের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ এখনও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি স্যাটেলাইট হাসপাতাল স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি জরুরি রোগী, বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু ও মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, জীবিকার তাগিদে হাওরাঞ্চলের অনেক মানুষ এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে রিকশা চালানোসহ নানা পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ একসময় এ অঞ্চল খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে হাওরের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

জলমহাল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বিত্তশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জলমহাল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন। অথচ প্রকৃত জেলেদের জীবিকা ও অধিকার সুরক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। জলমহাল ব্যবস্থাপনায় সাধারণ জেলে ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের জীবিকার সুযোগ বাড়বে। একইসঙ্গে স্থানীয় মানুষের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

শিক্ষার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, হাওরাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন দুই থেকে তিন মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক শিশু মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা এবং শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়া গেলে হাওরাঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সম্ভব। হাওরকে শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে না দেখে জাতীয় অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে রুনা খান হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগ ও ভাবনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

রুনা খান নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে তার প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডশিপের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে ডেপুটি স্পিকারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

সৌজন্য সাক্ষাতে ফ্রেন্ডশিপ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম