১১ জুনই বাজেট, দাতাদের কাছে ২২০ কোটি ডলার চেয়েছে সরকার

Pub: Tuesday, May 5, 2020 1:43 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চলতি বাজেটের মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। দেশের করোনার পরিস্থিতির মধ্যেই ১১ জুন ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করা হবে।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী ১১ই জনু জাতীয় সংসদে আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। আসন্ন বাজেটের সাম্ভব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

বিশাল এই বাজেটের ঘাটতি মেটাতে উন্নয়নসহযোগী বা দাতাদের কাছ থেকে বাজেট–সহায়তা চেয়েছে সরকার। সে অনুযায়ী এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ (এআইআইবি) বিভিন্ন দাতাসংস্থার কাছে মোট ২২০ কোটি ডলার বাজেট–সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। ইআরডির–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে ইতিমধ্যে সরকারের অগ্রাধিকারও পরিবর্তন হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজেটের চাহিদা মেটাতে বাড়তি অর্থ প্রয়োজন। এ জন্য বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

বিশ্বব্যাংকের কাছে ৮৫ কোটি ডলার, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ৭৫ কোটি ডলার, এডিবির কাছে ৭০ কোটি ডলার, চীনের নেতৃত্বে গঠিত এআইআইবি কাছে ৪৫ কোটি ডলার এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) কাছে ১৫ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী এভাবে বাজেট–সহায়তা চাওয়া যৌক্তিক। কেননা, এখন উন্নয়ন প্রকল্পে নির্দিষ্ট সহায়তার চেয়ে সরকারের নগদ অর্থের প্রয়োজন বেশি। কারণ, প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রণোদনা দেয়া যায় না।

দাতারা সাধারণত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) নেওয়া প্রকল্পে সহায়তা করে। কিন্তু এবার সরকার বাজেট–সহায়তা নিতেই বেশি আগ্রহী। কারণ, বাজেট–সহায়তার অর্থ সরকার চাইলে উন্নয়ন বা অনুন্নয়ন, যেকোনো খাতেই খরচ করতে পারে। তবে বাজেট–সহায়তা পেতে সরকারকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন: আর্থিক খাতে সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ইত্যাদি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বাজেট–সহায়তা চাওয়ার অর্থনৈতিক যুক্তি আছে। করোনা মোকাবিলায় দিন আনে দিন খায়— এমন মানুষকে কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া যাবে না। তাদের চাল, ডাল কিংবা নগদ সহায়তা দেওয়া দিতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবীদের নগদ প্রণোদনা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রণোদনায় ব্যবসায়ীদের ঋণের আংশিক সুদ মওকুফের ঘোষণাও দিয়েছে সরকার। এই টাকা তো প্রকল্পের মাধ্যমে আনা যাবে না। এই ধরনের খরচ ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

এবিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম বলেন, বাজেট–সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি ঠিকই আছে। করোনা মোকাবিলায় সরকারের যথেস্ট সম্পদের প্রয়োজন আছে। অর্থনীতি সক্রিয় রাখতে নানা ধরনের প্রণোদনা দিতে হবে। এ জন্য টাকা লাগবে। কারণ রাজস্ব আহরণের গতিও কিছুটা মন্থর।

Hits: 0


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ