• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

জাতীয়

সদকায়ে ফিতর আদায়ের নিয়ম-পদ্ধতি

প্রকাশ: রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৩ ১০:৪১
আপডেট: রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৩ ১০:৪১

 

রোজা পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব এক ইবাদত। রমজানের শেষে সাধারণত আমরা এই ওয়াজিব ইবাদত আদায় করে থাকি। সমাজে ফিতরা নামে পরিচিত। আমাদের অনেকে ফিতরার মাসআলা, আদায়ের নিয়ম-পদ্ধতি জিজ্ঞাসা করে থাকেন। 

এই ফিতরা দ্বারা গরিব-মিসকিনদের প্রয়োজন পূরণ হয়। তারাও ধনীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। ন্যূনতম প্রয়োজনও পূরণ করতে পারেন। তাদের মুখে সুন্দর হাসি ফুটে ওঠে। তাই আজ সদকায়ে ফিতর ও তা আদায়ের নিয়ম-পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব ইনশাল্লাহ। এই সদকায়ে ফিতর ঈদুল ফিতর নামাজের আগে প্রদান করতে হয়। দীর্ঘ একটি মাস সিয়ামসাধনা আদায় করতে গিয়ে রোজাদারের যে সব ভুলত্রুটি হয়ে যায় তার পূর্ণতাও হয় এই সাদকায়ে ফিতরের মাধ্যমে। ঈদের দিন সকাল বেলা যিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা বা সমমূল্যের নগদ অর্থ ও ব্যবসায় পণ্য) মালিক হবেন, তার নিজের ও পরিবারের সবার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা তার প্রতি ওয়াজিব। তবে কোনো ব্যক্তি যদি ঈদের আগে বা পরে আদায় করতে চান শরিয়তে তারও সুযোগ রয়েছে। 

সদকায়ে ফিতর সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমন-১. হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, ‘নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামানায় আমরা সদকায়ে ফিতর আদায় করতাম “এক সা” (তিন কেজি তিন ’শ গ্রাম প্রায়) খাদ্যবস্তু।’ তিনি বলেন, ‘তখন আমাদের খাদ্য ছিল যব, কিশমিশ, পনির ও খেজুর’ (বুখারি : খ-: ১, ২০৪)। 

২. তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সদকায়ে ফিতর আদায় করতাম এক সা খাদ্যবস্তু, যেমন এক সা যব, এক সা খেজুর, এক সা পনির, এক সা কিশমিশ।’ (বুখারি : খ–১, ২০৫)। যেহেতু সদকায়ে ফিতর একটি বড় ইবাদত, তাই যাঁরা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন, তাঁদেরও ফিতরা আদায় করা সুন্নত ও নফল।

৩. হাদিসে আরও বর্ণিত আছে, হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাদের মাঝে ছিলেন, তখন আমরা ছোট, বড়, মুক্ত, ক্রীতদাস সবার পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করতাম এক সা খাদ্য অর্থাৎ এক সা পনির বা এক সা যব বা এক সা খেজুর অথবা এক সা কিশমিশ দিয়ে। আমরা এভাবেই আদায় করতে ছিলাম।’ 

একবার হজরত মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.) হজ বা ওমরা উপলক্ষে মদিনায় এলেন, তিনি জনগণের উদ্দেশে মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তখন তিনি আলোচনা করলেন সে বিষয়ে, যে (ফিতরা) বিষয়ে মানুষ প্রশ্ন করেছে। তিনি বললেন, ‘আমি দেখছি শামের দুই মুদ (নিসফ সা বা পৌনে দুই কেজি) আটা সমান হয় (মূল্যমান হিসাবে) এক সা (তিন কেজি তিন শ গ্রাম) খেজুরের। অতঃপর মানুষ (সাহাবায়ে কিরাম ও তাবিয়িগণ) এই মতও গ্রহণ করলেন।’ (মুসলিম : খ- ১, : ৩১৭-৩১৮)। গম বা আটাও এক সা (তিন কেজি তিন শ গ্রাম) দেওয়া উত্তম। 

৪. হজরত হাসান বসরি (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত আলী (রা.) বললেন, ‘আল্লাহ যখন তোমাদের প্রাচুর্য দিয়েছেন তোমরাও উদার হও, গমও এক সা দাও।’ (নাসায়ি, খ-: ১, ২৬৮-২৭০)। 

এখন আমরা দেখব আইম্মায়ে আরবা’ তথা চার ইমামের সাদাকায়ে ফিতরের ব্যাপারে বক্তব্য কী? 

১. হজরত ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, অধিক মূল্যের দ্রব্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা উত্তম; অর্থাৎ যা দ্বারা আদায় করলে গরিবদের বেশি উপকার হয়, সেটাই উত্তম ফিতরা। 

২. হজরত ইমাম মালিক (রহ.)-এর মতে, খেজুর দ্বারা ফিতরা আদায় করা উত্তম এবং খেজুরের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত ‘আজওয়া’ খেজুর দ্বারাই আদায় করা উত্তম। 

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম