জেলার গোসাইরহাটে স্বামী কতৃক স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে দীর্ঘ আড়াই মাস পরে কবর খুড়ে লাশ স্ত্রীর লাশ উত্তোলন করে পুনঃ ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর নিকট মেয়ে হত্যার ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছেন। এ ঘটনার হোতা নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে। গোসাইরহাট থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গোসাইরহাট উপজেলার কাশিখন্ড গ্রামের কাঞ্চন গাইনের কন্যা সাবিনা ইয়াসমীন (১৮ কে ৯ মাস পূর্বে একই গ্রামের মৃত বাবুল রাঢ়ির ছেলে শাহাদাত হোসেন রাজিব এর সাথে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর থেকে রাজিব তার বিবাহিত স্ত্রীর নিকট নানা সময় য়ৌতুক দাবী করে আসছেন। দাবীর চাহিদা মিটাতে না পারায় অবশেষে স্বামী দেবর ননদ ও শ্বাশুরীর হাতে জীবন দিতে হলো নববধুকে। গত ২৫ আগষ্ট দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় প্লেটে ভাত দেয়া হলে হঠাৎ করে একটি মুরগী এসে ভাতের প্লেটে পা দেয়। এ নিয়ে সাবিনার শ্বাশুরী রোকেয়া বেগম সাবিনাকে গালিগালাজ করলে সাবিনা ঘর থেকে বের হয়ে তার বাবাকে ফোন করে জানানো কথা বলে। এ সময় পিছন থেকে দেবর নাজমূল হোসেন রাড়ি সাবিনার কোমড়ে বাশ দিয়ে পিছন থেকে বারি দেয়। সাবিনা দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করলে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে একটি জালে পেচিয়ে পড়ে গেলে দৌড়ে গিয়ে স্বামী শাহাদাত হোসেন রাজিব,দেবর নাজমূল ,ননদ কাকলী বেগম ,শ্বাশুরী রোকেয়া বেগম সাবিনাকে মারপিট করে গলায় ওড়না পেচিয়ে টানা হেচড়া করে ঘরে নিয়ে আসে। বাড়ি এনে তাতে ওড়না ধরে আছাড় মারে । এতে সাবিনার গলার হাড় ভেঙ্গে যায়। এতে সাবিনা মারা যায়। রাত অনুমান ৭টায় রাজিব সাবিনার বাবা কাঞ্চন গাইনকে মুঠো ফোনে বলে তাড়া তাড়ি তাদের বাড়িতে যেতে। সেখানে গিয়ে সাবিনার বাবা কাঞ্চন গাইন একটি চৌকির উপর তার মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। তাড়াতাড়ি তিনি লোকজন নিয়ে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। এ সময় নিহতের স্বামী রাজিব তার স্ত্রী সাবিনা আত্নহত্যা করেছে বলে গোসাইরহাট থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ময়না তদন্ত শেষে সাবিনার বাবার হেফাজতে নিজের মেয়েকে বাড়ির পাশে কবর দেয়। এরপর পর ঘটনা জানাজানি হলে সাবিনার বাবা গোসাইরহাট থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করে। উপায়ান্ত না পেয়ে কাঞ্চন গাইন শরীয়তপুর নারী শিশু নির্যাতন দমন আদালতে (১১) ক /৩০,ও ২০০০সালের নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ য়ৌতুকের দাবীতে মারপিট করে হত্যার অভিযোগে ৫ জনকে আসামী করে গত ৯ সেপ্টেম্বর একটি অভিযোগ দাখিল করে। এ মামলা আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক রোমানা আক্তার গত ১৮ অক্টোবর ভিকটিমের লাশ উত্তোলন করে পুনঃ ময়না তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের আদেশ পেয়ে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি গোসাইরহাট উপজেলার সহকারী ভুমি কর্মকর্তা সুজন দাস গুপ্ত গতকাল ১৪ নভেম্বর সকাল ১১টায় গোসাইরহাট থানার ওসি আসলাম সিকদারকে সাথে নিয়ে কবর খুড়ে অর্ধগলিত লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় ।এ দিকে মামলা দায়েরের পর থেকে রাজিব ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী নিহত সাবিনার বাবা কাঞ্চন গাইন আবেগাপ্রতুল হয়ে বলেন আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য তার স্বামী ,শ্বাশুরী,দেবর ,ননদ মিলে পিটিয়ে হত্য করেছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
গোসাইরহাট থানার ওসি আসলাম সিকদার বলেন, আদালতের আদেশ পেয়ে সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতে লাশ কবর খুড়ে উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয় হবে।
গোসাইরহাট উপজেলার সহকারী কমিশনার ভুমি সুজন দাস গুপ্ত বলেন, আদালতের আদেশ পেয়ে পুলিশ সহ কবর খুড়ে লাশ উত্তোলন করে পুনঃ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

