• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সারাদেশ

খুলনায় ট্রাফিক সার্জেন্ট জাকারিয়াকে মাসিক চাদা দিলেই চলে অবৈধ ইজিবাইক

প্রকাশ: রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২ ৩:৫৭
আপডেট: রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২ ৩:৫৭

খুলনায় ট্রাফিক সার্জেন্ট জাকারিয়াকে মাসিক চাদা দিলেই চলে অবৈধ ইজিবাইক

খুলনা প্রতিনিধিঃ
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কে এম পি) এর ট্রাফিক বিভাগের সহকারী উপ-পরিদর্শক মোঃ জাকারিয়া কে মাসিক চাদা দিলেই সড়কে চলে অবৈধ ইজিবাইক। সম্প্রতি গনযোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে প্রকাশ্যে চাদার টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে।

একসময় খুলনা জেলাকে শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে ইজিবাইকের শহর বলে আখ্যায়িত হয়। ব্যাটারিচালিত এসকল ইজিবাইক নগরীর সাধারণ জনগন চলাচলে স্বাচ্ছন্দবোধ করলেও , এই বাহন এখন গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। পিক আওয়ার গুলোতে যানজট নিরসনে হিমশিম খেতে হয় স্বয়ং ট্রাফিক বিভাগকে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তবে সড়কে এর তিন গুনেরও বেশী ইজিবাইক চলাচল করছে প্রতিনিয়ত। একটি বিশেষ সুত্রে জানা যায় এসকল লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইকগুলো বেশিরভাগই মাসিক চাঁদা প্রদান করে ট্রাফিক সদস্যকে। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে খোজ মেলে কথিত সেই ট্রাফিক পুলিশ সদস্য জাকারিয়া’র। নগরীর টুটপাড়া, লবনচরা, খালপাড় থেকে আসা অবৈধ ইজিবাইক গুলোকে বৈধভাবে শহরে প্রবেশের দ্বার খুলে দেন তিনি। বিনিময়ে প্রতিটি ইজিবাইক প্রতি ড্রাইভারদেরকে মাসে প্রদান করতে হয় ১ হাজার থেকে পনেরো’শ টাকা।
শুধু তিনি নয়। এ মাশোয়ারা গ্রহণ করেন বেশ কিছু ট্রাফিক সদস্য ও।
লবনচরার ইজিবাইক চালক হৃদয় বলেন, ” আগে লাইসেন্সের প্যারা ছিল, এখন কোনো প্যারা নেই।মাস শেষে ঠিক ঠাক টাকা পৌছালে কোনো সমস্যা নাই।”

টুটপাড়ার ফারুক হোসেন ( প্রতীকী নাম) বলেন, ” আগে গাড়ী ধরলে, অনেক ঝামেলা হতো, এখন গাড়ী ধরলে কল দিয়ে স্যারকে ধরিয়ে দিলে গাড়ী ছেড়ে দেয়”। এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্য জাকারিয়ার সাথে কথা বললে কোনো সদুত্তর দেয়নি।
জানা যায়, এক একটি পয়েন্ট কিংবা এলাকা নিয়ন্ত্রিত হয় ভিন্ন ভিন্ন সদস্যের মাধ্যমে।
শহরের বাইরে থেকে আসা ইজিবাইক গুলোকে এই চাদার বিনিময়ে বিভিন্ন অলিগলি দাপিয়ে বেড়ায়।
এ বিষয়ে কে এম পি’র উপ কমিশনার (ট্রাফিক) মনিরা সুলতানার সাথে কথা বললে তি নি জানান, “খুলনায় লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইকের সংখ্যা আসলেই বেড়েছে। এর লাগাম টানতে প্রতিনিয়ত কে এম পি’র ট্রাফিক বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। আর চাদার বিনিময়ে অবৈধ গাড়ী চলাচলের বিষয়টি জানা নেই। তবে প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
একদিকে বছরজুড়ে সড়ক সংস্কার ও কাটাকাটিতে যানজট লেগেই থাকে। তারপরে এসকল নকল স্টিকারযুক্ত অবৈধ ইজিবাইকের চলাচল বন্ধ না হলে, অতি শীঘ্রই রাজধানীর রুপধারন করবে খুলনা নগরী।